যুক্তরাজ্যের গ্রিন পার্টির সদস্য সংখ্যা প্রথমবারের মতো ২ লাখ অতিক্রম করেছে বলে জানিয়েছে দলটি। পূর্ব ম্যানচেস্টারের গর্টন ও ডেন্টন উপনির্বাচনে বিজয়ের পর দলটির প্রতি জনসমর্থন দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। গ্রিন পার্টি অব ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস জানিয়েছে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বিপুলসংখ্যক নতুন সদস্য দলে যোগ দিয়েছেন।
দলটির নেতা জ্যাক পোলানস্কি বলেন, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে তার নেতৃত্ব ঘোষণার সময় দলের সদস্য সংখ্যা ছিল প্রায় ৬৮ হাজার। অল্প সময়ের মধ্যেই তা তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়ে ২ লাখ ছাড়িয়েছে, যা যুক্তরাজ্যের প্রগতিশীল রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
গর্টন ও ডেন্টন আসনের উপনির্বাচনে গ্রিন প্রার্থী হান্না স্পেন্সার জয়লাভ করে দীর্ঘদিনের লেবার ঘাঁটিতে বড় রাজনৈতিক ধাক্কা দেন। ৩৪ বছর বয়সী এই প্লাম্বার প্রার্থী নির্বাচনে জয়ী হয়ে জাতীয় পর্যায়ের কোনো উপনির্বাচনে গ্রিন পার্টির প্রথম বিজয় নিশ্চিত করেন। নির্বাচনে রিফর্ম ইউকে দ্বিতীয় এবং লেবার পার্টি তৃতীয় স্থানে নেমে যায়।
বর্তমানে গ্রিন পার্টির সংসদ সদস্য সংখ্যা পাঁচে দাঁড়িয়েছে এবং বিভিন্ন জনমত জরিপে দলটি নিয়মিতভাবে লিবারেল ডেমোক্র্যাটস–এর সমপর্যায়ে অবস্থান করছে। একই সঙ্গে দলটি ধীরে ধীরে কনজারভেটিভ পার্টি ও লেবারের ভোটভিত্তির কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।
উপনির্বাচনের ফলাফলের পর লেবার পার্টির ভেতর থেকেই দলকে আরও বামঘেঁষা নীতিতে ফেরানোর চাপ তৈরি হয়েছে। অনেক সংসদ সদস্য মনে করছেন, প্রগতিশীল ভোটারদের একটি বড় অংশ এখন গ্রিন পার্টির দিকে ঝুঁকে পড়ছে।
জ্যাক পোলানস্কি বলেন, সদস্য বৃদ্ধির এই প্রবণতা প্রমাণ করে ভবিষ্যতের প্রগতিশীল রাজনীতি গ্রিন পার্টির হাতেই গড়ে উঠছে। তিনি এটিকে যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় পরিবর্তন হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, মানুষ এখন জলবায়ু সংকট উপেক্ষা কিংবা ধীরগতির রাজনীতি মেনে নিতে রাজি নয়।
তিনি আরও বলেন, গ্রিন পার্টি লেবার পার্টির বিকল্প শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে চায় এবং পরিবর্তনের জন্য অপেক্ষা না করে সরাসরি রাজনৈতিক আন্দোলন গড়ে তুলছে।
তথ্য অনুযায়ী, লেবার পার্টি এখনও সদস্য সংখ্যায় সবচেয়ে বড় দল হলেও ২০১৯ সালের তুলনায় তাদের সদস্য সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। অন্যদিকে রিফর্ম ইউকে দাবি করেছে তাদের সদস্য সংখ্যা ২ লাখ ৭০ হাজারের বেশি। ধারণা করা হয় কনজারভেটিভ পার্টির সদস্য প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার এবং লিবারেল ডেমোক্র্যাটদের সদস্য সংখ্যা প্রায় ৮০ হাজার।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সদস্য সংখ্যা সরাসরি নির্বাচনী সাফল্যের নিশ্চয়তা না দিলেও এটি দলের সাংগঠনিক শক্তি, স্বেচ্ছাসেবক কার্যক্রম এবং নির্বাচনী প্রচারণায় বড় ভূমিকা রাখে। সাবেক লেবার নেতা জেরেমি করবিনের সময় সদস্য সংখ্যা সর্বোচ্চ হলেও দলটি সাধারণ নির্বাচনে জয় পায়নি—যা এই বাস্তবতার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।
গ্রিন পার্টির দ্রুত উত্থান লেবারের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনে বিশেষ করে লন্ডনের বিভিন্ন এলাকায় গ্রিন পার্টি লেবারের ভোটব্যাংকে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
দলীয় সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে জ্যাক পোলানস্কি সতর্ক করে বলেন, কার্যকর রাজনৈতিক পরিবর্তন না এলে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার শেষ পর্যন্ত দেশের রাজনৈতিক সুবিধা রিফর্ম ইউকের হাতে তুলে দিতে পারেন।
সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান
এম.কে

