15.3 C
London
September 8, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

‘একই গল্পে’ ভরে গেছে ব্রিটেনের আশ্রয় আবেদনঃ হোম অফিসের সাবেক কর্মকর্তার বিস্ফোরক দাবি

যুক্তরাজ্যের আশ্রয় আবেদন যাচাই প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন হোম অফিসের সাবেক এক কর্মকর্তা। বহু বছর ধরে হাজার হাজার আশ্রয় আবেদন যাচাইয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকা ওই কর্মকর্তা দাবি করেছেন, বিপুলসংখ্যক আবেদনে একই ধরনের গল্প ও দাবি বারবার ব্যবহার করা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পুরো আশ্রয় আবেদন প্রক্রিয়াটি একপর্যায়ে ‘বড় ধরনের জালিয়াতিতে’ পরিণত হয়েছিল।

সাবেক ওই কর্মকর্তা দাবি করেন, পাকিস্তানের অনেক নাগরিক আশ্রয় পাওয়ার জন্য একই ধরনের সম্পর্কভিত্তিক দাবি করেছেন। তাদের বক্তব্য ছিল, নিজ দেশে ফিরে গেলে একটি নির্দিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্ক থাকার কারণে তারা বিপদের মুখে পড়বেন। ওই ব্যক্তিই আবেদনকারীদের দাবির সমর্থনে চিঠি সরবরাহ করতেন বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন।

ইরাকি কুর্দি আশ্রয়প্রার্থীদের নিয়েও একই ধরনের একটি প্রবণতার কথা তুলে ধরেছেন ওই সাবেক কর্মকর্তা। তার দাবি, ‘শত শত’ ইরাকি কুর্দি যুক্তরাজ্যে থাকার আবেদন করেছিলেন এবং তাদের অনেকেই দাবি করেছিলেন যে তারা কুর্দিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর একই মেয়ের সঙ্গে সম্পর্কে রয়েছেন।

বাংলাদেশি আশ্রয়প্রার্থীদের নিয়েও গুরুতর দাবি করেছেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি আবেদনকারী নিজেদের রাজনৈতিক বিরোধী বা রাজনৈতিকভাবে নিপীড়নের শিকার হিসেবে উপস্থাপন করেছেন। কিন্তু তাদের অনেকেরই নিজেদের রাজনৈতিক দল সম্পর্কে মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ঘাটতি ছিল বলে দাবি করেন তিনি।

আশ্রয় আবেদন যাচাইয়ের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, কোনো আবেদন গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া তুলনামূলকভাবে সহজ ছিল। কিন্তু আবেদন প্রত্যাখ্যানের ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের ওপর অনেক বেশি ব্যাখ্যা দেওয়ার চাপ থাকত।

তার দাবি, একটি আবেদন প্রত্যাখ্যান করতে কখনো কখনো কর্মকর্তাদের কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত সময় ব্যয় করতে হতো। কারণ আবেদনকারী তার বক্তব্যে যেসব দাবি, কারণ বা পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেছেন, প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্তে কর্মকর্তাদের প্রত্যেকটি বিষয়ের জবাব দেওয়ার প্রত্যাশা করা হতো।

ফলে তার মতে, একটি আবেদন গ্রহণ এবং প্রত্যাখ্যানের মধ্যে প্রশাসনিক কাজের পরিমাণে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য তৈরি হতো। এই কাঠামো আশ্রয় আবেদন যাচাইয়ের কার্যকারিতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে বলেও তার বক্তব্য থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

তবে সাবেক কর্মকর্তার এসব বক্তব্য তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও অভিযোগের ভিত্তিতে করা দাবি। কোনো নির্দিষ্ট আশ্রয়প্রার্থী বা নির্দিষ্ট দেশের সব আবেদনকারী একই ধরনের মিথ্যা দাবি করেছেন—এমন সিদ্ধান্ত এসব বক্তব্য থেকে টানা যায় না। আশ্রয় আবেদন ব্যক্তিভেদে আলাদাভাবে যাচাই করার কথা এবং কোনো আবেদন গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যানের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রমাণ ও সাক্ষ্যের মূল্যায়নের ওপর নির্ভর করে।

তারপরও সাবেক হোম অফিস কর্মকর্তার এই দাবি যুক্তরাজ্যের আশ্রয় ব্যবস্থা নিয়ে চলমান বিতর্কে নতুন করে প্রশ্ন তুলতে পারে—বিশেষ করে আবেদনকারীদের বক্তব্য যাচাই, জাল বা সাজানো প্রমাণ শনাক্তকরণ এবং প্রত্যাখ্যানের ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের ওপর প্রশাসনিক চাপের বিষয়টি নিয়ে।

আশ্রয় ব্যবস্থা নিয়ে যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক ও জনপর্যায়ে বিতর্ক দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে বিপুলসংখ্যক আবেদন, দীর্ঘ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া এবং আশ্রয় ব্যবস্থার অপব্যবহারের অভিযোগের কারণে হোম অফিসের কার্যক্রম নিয়ে নিয়মিত প্রশ্ন উঠছে। এই প্রেক্ষাপটে সাবেক কর্মকর্তার অভিজ্ঞতাভিত্তিক অভিযোগগুলোও নতুন আলোচনার জন্ম দিতে পারে।

সূত্রঃ দ্য টাইমস \ ডেইলি মেইল

এম.কে

আরো পড়ুন

লিবিয়ায় জিম্মি ৩০০–এর বেশি ইউরোপগামী অভিবাসীঃ মুক্তিপণ না পেলে কিডনি অপসারণের হুমকি

বাংলাদেশিদের নিয়ে ‘অযা‌চিত’ মন্তব্য করলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীপ্রার্থী স্টারমার

যুক্তরাজ্যের এসেক্স বেল হোটেল থেকে সরিয়ে নেওয়া হলো সব আশ্রয়প্রার্থীঃ চুক্তি বাতিল করল হোম অফিস