29.4 C
London
July 14, 2026
TV3 BANGLA
মুক্তমত

কোটা আন্দোলনের বিজয় থেকে বিসিএসের ব্যর্থতা: রাজনৈতিক পতনের পর তরুণ মেধার সংকটে বাংলাদেশ

নাশিত রহমান || লন্ডন || ১৪ জুলাই ২০২৬

হাসিনা সরকারের পতন ছিল মূলত কোটা আন্দোলনের দীর্ঘমেয়াদি অভিঘাত এবং আওয়ামী লীগ সমর্থক ও দলীয় ক্যাডারদের দ্বারা পরিচালিত দমন-পীড়নের পরিণতি। কোটা সংস্কার আন্দোলন প্রথমে ছিল একটি নীতিগত দাবি—সরকারি চাকরিতে মেধাভিত্তিক নিয়োগ নিশ্চিত করা এবং অতিরিক্ত কোটা কমানো। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আন্দোলনটি সরকারের কঠোর অবস্থান, ছাত্রলীগের হামলা, পুলিশি দমন, এবং রাষ্ট্রীয় যন্ত্রের অপব্যবহারের কারণে বৃহত্তর রাজনৈতিক সংকটে রূপ নেয়।

বাংলাদেশে বিসিএস দীর্ঘদিন ধরে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানদের জন্য সবচেয়ে বড় কর্মসংস্থানের আশ্রয়স্থল হিসেবে বিবেচিত হয়ে এসেছে। এই শ্রেণির জন্য বিসিএস শুধু একটি চাকরি নয়; এটি সামাজিক নিরাপত্তা, আর্থিক স্থিতি এবং পরিবারকে উন্নত জীবনে নিয়ে যাওয়ার অন্যতম প্রধান সোপান। কোটা সংস্কার আন্দোলনে এই শ্রেণির শিক্ষার্থীরাই সবচেয়ে বেশি সক্রিয় ছিলেন, কারণ তারা বিশ্বাস করতেন যে মেধাভিত্তিক নিয়োগই তাদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করবে। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় তারা রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হন এবং শেষ পর্যন্ত একটি ক্ষমতাবান সরকারের পতনেও ভূমিকা রাখেন—এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
তবে বিসিএস পরীক্ষার বাস্তবতা একেবারেই ভিন্ন। কোটা সংস্কার আন্দোলনে বিজয়ী হলেও বিসিএসের কঠোর মেধা যাচাইয়ের পরীক্ষায় নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী ব্যর্থ হয়েছেন। বিসিএস একটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত মেধা পরীক্ষা—এখানে রাজনৈতিক অবস্থান, আন্দোলনের সাফল্য বা সামাজিক পরিচয় কোনো ভূমিকা রাখে না। পরীক্ষার প্রতিটি ধাপ—প্রিলিমিনারি, লিখিত এবং মৌখিক—উচ্চমানের প্রস্তুতি, গভীর জ্ঞান এবং দীর্ঘমেয়াদি অধ্যবসায়ের দাবি করে। ফলে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া বা রাজনৈতিকভাবে সচেতন হওয়া সত্ত্বেও অনেকেই এই পরীক্ষায় সফল হতে পারেননি। এটি দুঃখজনক হলেও অপ্রত্যাশিত নয়, কারণ বিসিএসের প্রতিযোগিতা দিন দিন আরও কঠোর হয়ে উঠছে।

২০১৩ ও ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনগুলো সরকারের নীতিগত অনমনীয়তা এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার ইঙ্গিত দিয়েছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের আন্দোলন ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন মাত্রার। সুপ্রিম কোর্টের রায়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটা পুনর্বহাল এবং সরকারের সহিংস প্রতিক্রিয়া শিক্ষার্থীদের ক্ষোভকে তীব্র করে তোলে। জুলাই মাসে ছাত্রদের ওপর হামলা, গুলিবর্ষণ এবং ব্যাপক দমন-পীড়ন জনমনে গভীর ক্ষোভ সৃষ্টি করে। ছাত্রলীগের অংশগ্রহণে সংঘটিত সহিংসতা সরকারের প্রতি আস্থাহীনতা আরও বাড়িয়ে দেয়।
এই পরিস্থিতি দ্রুতই কোটা আন্দোলনকে একটি সর্বাত্মক গণআন্দোলনে রূপান্তরিত করে—যা পরে “জুলাই গণঅভ্যুত্থান” নামে পরিচিত হয়। অর্থনৈতিক সংকট, দুর্নীতি, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং রাজনৈতিক স্বাধীনতার সংকোচন মিলিয়ে জনগণের অসন্তোষ চরমে পৌঁছায়। ফলে কোটা আন্দোলন আর শুধু চাকরির নীতির প্রশ্নে সীমাবদ্ধ থাকেনি; এটি হয়ে ওঠে সরকারের বিরুদ্ধে একটি জাতীয় প্রতিরোধ আন্দোলন।

 

২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন ছিল বাংলাদেশে একাধিক সরকারবিরোধী এবং গণতন্ত্রপন্থী প্রতিবাদের ধারাবাহিকতা, যার নেতৃত্বে ছিল মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। প্রথমে সরকারি চাকরিতে কোটা পুনর্গঠনের দাবিতে আন্দোলন শুরু হলেও, জুলাই মাসে সরকার-সমর্থিত গোষ্ঠীর হাতে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের ওপর হামলার ঘটনায় আন্দোলনটি কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে বৃহত্তর গণআন্দোলনে রূপ নেয়। ছাত্র আন্দোলনটি পরবর্তীতে “জুলাই গণঅভ্যুত্থান” নামে পরিচিত পূর্ণাঙ্গ গণবিপ্লবে পরিণত হয়।
প্রতিবাদ শুরু হয় জুন ২০২৪ সালে, যখন সুপ্রিম কোর্ট ৩০% মুক্তিযোদ্ধা কোটা পুনর্বহাল করে—যা ২০১৮ সালের আন্দোলনের পর সরকারের সিদ্ধান্তের বিপরীত ছিল। শিক্ষার্থীরা মনে করতে শুরু করে যে এতে সরকারি চাকরিতে মেধাভিত্তিক সুযোগ কমে যাবে। সরকারের সহিংস প্রতিক্রিয়া এবং দীর্ঘদিনের জনঅসন্তোষের কারণে আন্দোলন দ্রুত সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক মন্দা, ব্যাপক দুর্নীতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এবং পরিবর্তন আনার জন্য কার্যকর গণতান্ত্রিক পথের অনুপস্থিতির কারণে। অবশেষে এই ধারাবাহিক দমন-পীড়ন, জনঅসন্তোষ এবং ছাত্র-জনতার অসহযোগ আন্দোলনের সম্মিলিত চাপেই হাসিনা সরকারের পতন ঘটে—যা অনেকের মতে কোটা আন্দোলনেরই চূড়ান্ত রাজনৈতিক পরিণতি।

আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ সতেরো বছরের শাসনামলে শিক্ষা খাতকে অবহেলার অভিযোগ বহুবার উঠেছে। এই সময়ের মধ্যে শিক্ষার মানোন্নয়ন, পাঠক্রমের আধুনিকায়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, গবেষণা অবকাঠামো এবং উচ্চশিক্ষার মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ হয়নি। বরং সরকারি চাকরির ক্ষেত্রটি অনেক সময় ব্যবহৃত হয়েছে ছাত্রলীগের ক্যাডার এবং ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের সন্তানদের জন্য বিশেষ সুবিধা তৈরির মাধ্যমে। এর ফলে মেধাভিত্তিক নিয়োগব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সমান সুযোগ পাওয়া কঠিন হয়ে যায়।
কিছুদিন আগেই প্রকাশ হয়েছে ৪৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল। এবার প্রিলিমিনারিতে তুলনামূলক কম শিক্ষার্থীকে উত্তীর্ণ করা হয়েছে। তবে প্রশ্ন উঠেছে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও। ৩ হাজার ৪৮৭টি ক্যাডার পদের বিপরীতে সুপারিশ পেয়েছেন মাত্র ১ হাজার ৩২০ জন। অর্থাৎ, প্রায় ৬২ শতাংশ পদই শূন্য থেকে গেছে, যা সাম্প্রতিক বিসিএসগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি।
৪০তম থেকে ৪৭তম বিসিএসের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, অধিকাংশ বিসিএসে প্রিলিমিনারিতে উত্তীর্ণ হতেন ১৫ থেকে ২০ হাজার পরীক্ষার্থী। অথচ ৪৭তম বিসিএসে সেই সংখ্যা নেমে এসেছে প্রায় ১০ হাজারে। ফলে অনেকের বিসিএস যাত্রা শেষ হয়ে গেছে প্রথম ধাপেই।

 

টেকনিক্যাল ক্যাডারগুলোতে পর্যাপ্ত যোগ্য প্রার্থী পাওয়া যাচ্ছে না। অনেকেই প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষায় বাদ পড়ছে। সেই চিত্রই কিছুটা তুলে ধরে পিএসসি। তাদের তথ্য অনুযায়ী, বাংলা শিক্ষা ক্যাডারে ১৩২টি পদের বিপরীতে আবেদন করেন ১৫ হাজার ১৬৮ জন। তাদের মধ্যে প্রিলিমিনারিতে উত্তীর্ণ হন মাত্র ১৭৬ জন, যা মোট আবেদনকারীর ১ দশমিক ১৬ শতাংশ। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ১৯ জন, আর শেষ পর্যন্ত সুপারিশ পান মাত্র ১০ জন।
৪৭তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর থেকেই নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিপিএসসি জানিয়েছে, মোট ৩ হাজার ৪৮৭টি ক্যাডার পদের বিপরীতে সুপারিশ পেয়েছেন মাত্র ১ হাজার ৩২০ জন। অর্থাৎ প্রায় ৬২ শতাংশ পদ শূন্য থেকে গেছে—যা সাম্প্রতিক বিসিএস ইতিহাসে নজিরবিহীন। এই বিপুল শূন্যপদ নিয়োগ প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা, পরীক্ষার কাঠামো এবং টেকনিক্যাল ক্যাডারে যোগ্যতার সংকট নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণের সংখ্যাও এবার উল্লেখযোগ্যভাবে কম। আগের বিসিএসগুলোতে যেখানে ১৫ থেকে ২০ হাজার পরীক্ষার্থী প্রিলিমিনারি উত্তীর্ণ হতেন, সেখানে ৪৭তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়েছেন প্রায় ১০ হাজার। ফলে বিপুল সংখ্যক পরীক্ষার্থীর বিসিএস যাত্রা প্রথম ধাপেই থেমে গেছে। পরীক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রশ্নপত্রের মান কঠিন হওয়া, নেগেটিভ মার্কিংয়ের প্রভাব এবং উত্তীর্ণের সংখ্যা কমিয়ে আনা—সব মিলিয়ে প্রিলিমিনারি ধাপটি আগের তুলনায় আরও কঠোর হয়ে উঠেছে।
লিখিত পরীক্ষাতেও টেকনিক্যাল ক্যাডারগুলোতে যোগ্য প্রার্থী পাওয়া যায়নি। ইঞ্জিনিয়ারিং, মেডিকেল, কৃষি, পশুসম্পদ, পরিসংখ্যান ও তথ্যপ্রযুক্তি ক্যাডারে পর্যাপ্ত দক্ষ প্রার্থী না থাকায় অনেক পদ শূন্য রয়ে গেছে। সাবজেক্টভিত্তিক লিখিত পরীক্ষায় গভীর জ্ঞান প্রয়োজন হওয়ায় অনেকেই বাদ পড়েছেন। মৌখিক পরীক্ষায়ও কঠোর স্ক্রুটিনির কারণে উত্তীর্ণের হার কমেছে।

 

৪০তম থেকে ৪৭তম বিসিএসের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিসিএস পরীক্ষার প্রতিটি ধাপেই কঠোরতা বেড়েছে। ৪০তম বিসিএসে প্রিলিমিনারি উত্তীর্ণ হয়েছিলেন ২০ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী। ৪৩তম ও ৪৪তম বিসিএসেও উত্তীর্ণের সংখ্যা ছিল ১৫ হাজারের বেশি। ৪৫তম ও ৪৬তম বিসিএসেও উত্তীর্ণের সংখ্যা ছিল তুলনামূলক বেশি। কিন্তু ৪৭তম বিসিএসে সেই সংখ্যা নেমে এসেছে প্রায় ১০ হাজারে, যা বিসিএসের সামগ্রিক প্রবণতায় একটি বড় পরিবর্তন নির্দেশ করে।
এই পরিস্থিতি সরকারি প্রশাসনে ভবিষ্যৎ জনবল সংকটের আশঙ্কা তৈরি করেছে। টেকনিক্যাল খাতে দক্ষ জনবল না থাকলে প্রকল্প বাস্তবায়ন, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি উন্নয়ন এবং অবকাঠামো নির্মাণে ধীরগতি দেখা দিতে পারে। বিসিএসের মূল লক্ষ্য ছিল যোগ্য জনবল নিয়োগের মাধ্যমে প্রশাসনকে শক্তিশালী করা, কিন্তু বিপুল শূন্যপদ সেই লক্ষ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
৪৭তম বিসিএসের ফলাফল তাই শুধু একটি পরীক্ষার ফল নয়; এটি বিসিএস নিয়োগ ব্যবস্থার কাঠামোগত সংকটের প্রতিফলন। প্রিলিমিনারিতে কম উত্তীর্ণ, টেকনিক্যাল ক্যাডারে যোগ্যতার অভাব এবং বিপুল সংখ্যক শূন্যপদ—সব মিলিয়ে বিসিএসের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে।
এই সংকট মোকাবিলায় টেকনিক্যাল ক্যাডারের জন্য আলাদা নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে পিএসসি। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
এই বাস্তবতা বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার গভীর সংকটকে সামনে নিয়ে আসে। নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানরা সাধারণত যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেন, সেখানে মানসম্মত শিক্ষা, দক্ষ শিক্ষক, আধুনিক পাঠক্রম এবং প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশের ঘাটতি রয়েছে। ফলে তারা বিসিএসের মতো উচ্চমানের পরীক্ষায় পিছিয়ে পড়েন। কোটা আন্দোলন ছিল নীতিগত সমতার দাবি, কিন্তু মেধার ভিত্তিতে প্রতিযোগিতা করার জন্য প্রয়োজন শক্তিশালী শিক্ষা ব্যবস্থা—যা এখনো পর্যাপ্তভাবে গড়ে ওঠেনি।

 

একটি দেশ হিসেবে এবং একটি সমাজ হিসেবে বাংলাদেশকে অবশ্যই তরুণ প্রজন্মের মেধা বিকাশে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। শিক্ষার মান উন্নয়ন, আধুনিক পাঠক্রম, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, গবেষণা সুযোগ এবং দক্ষতা উন্নয়ন—এসব ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অপরিহার্য। বিসিএসের মতো জাতীয় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় সফল হতে হলে শিক্ষার্থীদের শুধু আন্দোলন বা নীতিগত দাবি নয়, বরং গভীর অধ্যয়ন, বিশ্লেষণী ক্ষমতা এবং উচ্চমানের প্রস্তুতি প্রয়োজন।
তবে সময় বদলেছে। বাংলাদেশে নতুন গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় এসেছে এবং জনগণ এখন একটি ভিন্ন প্রত্যাশা নিয়ে সামনে তাকাচ্ছে। নতুন সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো—রাষ্ট্রের নিয়োগব্যবস্থায় মেধা, যোগ্যতা এবং ন্যায়সংগত প্রতিযোগিতার মানদণ্ড পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। সরকারি চাকরি যেন রাজনৈতিক আনুগত্যের পুরস্কার না হয়ে প্রকৃত যোগ্যতার প্রতিফলন হয়—এটাই এখন সময়ের দাবি।
বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে তরুণদের মেধা, দক্ষতা এবং শিক্ষার মানের ওপর। কোটা সংস্কার আন্দোলন সমতার দাবি প্রতিষ্ঠা করেছে, কিন্তু সেই সমতার প্রকৃত সুফল পেতে হলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী, আধুনিক এবং প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে হবে। শুধু কোটা সংস্কার করলেই মেধাভিত্তিক সমাজ গড়ে ওঠে না; প্রয়োজন মানসম্মত শিক্ষা, দক্ষ শিক্ষক, আধুনিক পাঠক্রম, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার পরিবেশ এবং গবেষণার সুযোগ।
তরুণদের মেধা বিকাশে বিনিয়োগই পারে বাংলাদেশকে একটি দক্ষ, ন্যায়ভিত্তিক এবং সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করতে। নতুন সরকারকে তাই শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং মেধাভিত্তিক নিয়োগব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাকে রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকারের শীর্ষে রাখতে হবে।

 

আরো পড়ুন

প্রপার্টি বিক্রয়ের উপর ট্যাক্স

বিলেতে বাড়ি কেনাবেচা: প্রপার্টি ইনস্যুরেন্স

রোজার দিনে কখন ওষুধ খাবো?