TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

গাড়িই নিজের নয়ঃ তবু কর না দেওয়ার মামলায় দোষী লন্ডনের মেয়র সাদিক খান

নিজের মালিকানাধীন নয় বলে দাবি করা ২৪ বছরের পুরোনো একটি নিশান মাইক্রার গাড়ি কর না দেওয়ার মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন লন্ডনের মেয়র সাদিক খান। তবে ঘটনাটি নিয়ে নতুন করে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের প্রশ্ন। কারণ, মেয়রের কার্যালয় বলছে, গাড়িটি সাদিক খান কিংবা লন্ডন পরিবহন কর্তৃপক্ষের—কোনোটিরই নয়। একই সঙ্গে মামলার গুরুত্বপূর্ণ চিঠিপত্রও মেয়রের কাছে না গিয়ে ভুল ঠিকানায় একটি গর্ডন রামসে রেস্তোরাঁয় পাঠানো হয়েছিল।

ড্রাইভার অ্যান্ড ভেহিকেল লাইসেন্সিং এজেন্সি—ডিভিএলএর করা ফৌজদারি মামলায় অভিযোগ ছিল, সাদিক খান একটি অনিবন্ধিত বা করবিহীন গাড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছিলেন। নীল রঙের নিশান মাইক্রাটি ২০০২ সালে প্রথম নিবন্ধিত হয় এবং এর বার্ষিক গাড়ি কর গত বছরের সেপ্টেম্বরে শেষ হয়ে যায়। ২৪ জানুয়ারি গাড়িটি কর পরিশোধ না করা অবস্থায় শনাক্ত হওয়ার পর ডিভিএলএ ব্যবস্থা নেয়।

ডিভিএলের নথিতে গাড়িটির সঙ্গে সাদিক খানের নাম ও জন্মতারিখ যুক্ত ছিল। সংস্থাটি গাড়িটির মালিকানা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্য চিঠি পাঠালেও কোনো জবাব না পাওয়ার পর মামলা করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে জানা যায়, সেই চিঠি মেয়রের প্রকৃত দপ্তরে পৌঁছায়নি।

আদালতের নথি অনুযায়ী, চিঠি পাঠানো হয়েছিল পূর্ব লন্ডনের ৯ এন্ডেভার স্কয়ারে। অথচ লন্ডন পরিবহন কর্তৃপক্ষের কার্যালয় রয়েছে কাছাকাছি ৫ এন্ডেভার স্কয়ারে। ৯ এন্ডেভার স্কয়ারের ভবনের ওপরের তলায় রয়েছে বিখ্যাত ব্রিটিশ রাঁধুনি গর্ডন রামসের ‘ব্রেড স্ট্রিট কিচেন, বার অ্যান্ড রুফটপ’ রেস্তোরাঁ। ফলে মেয়রের বিরুদ্ধে পাঠানো সরকারি চিঠি কার্যত একটি রেস্তোরাঁয় চলে যায়।

এরপর ১৮ আগস্ট হিয়ারফোর্ডশায়ার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একক বিচারক পদ্ধতির অধীনে ব্যক্তিগত শুনানিতে সাদিক খানকে তার অনুপস্থিতিতে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। কোনো পক্ষ থেকে দোষ স্বীকার বা অস্বীকারের আবেদন দাখিল না হওয়ায় বিচারক একতরফাভাবে মামলাটি নিষ্পত্তি করেন। তাকে ২২০ পাউন্ড জরিমানা, ৮৫ পাউন্ড আদালত খরচ এবং গাড়িটির বকেয়া ৩৫ পাউন্ড ৮৪ পেন্স কর পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে আদালতের বিল দাঁড়ায় ৩৪০ পাউন্ড ৮৪ পেন্স।

মেয়রের কার্যালয় অবশ্য এই অভিযোগ মেনে নেয়নি। তাদের দাবি, গাড়িটি সাদিক খানের নয় এবং তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। মেয়রের একজন মুখপাত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, তার নামে মিথ্যাভাবে গাড়ি নিবন্ধনের ঘটনা আগেও ঘটেছে।

ঘটনার সঙ্গে সাদিক খানের বিতর্কিত ইউলেজ নীতির যোগসূত্র নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। লন্ডনের আল্ট্রা লো এমিশন জোন পুরো রাজধানীতে সম্প্রসারণের পর তার বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রতিবাদ হয়েছিল। সে সময় কিছু গাড়িচালক ক্ষোভ প্রকাশ করে মেয়রের নামে গাড়ি নিবন্ধনের হুমকি দিয়েছিলেন, যাতে গাড়িগুলোর জন্য প্রযোজ্য দৈনিক ১২ পাউন্ড ৫০ পেন্স ইউলেজ চার্জের দায় তাঁর ওপর পড়ে। সিটি হলের সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইউলেজ সম্প্রসারণের সময় মেয়রের নামে মিথ্যা গাড়ি নিবন্ধনের ঘটনা বেড়েছিল।

ঘটনাটি সামনে আসার পর ডিভিএলএ মামলাটি পর্যালোচনা ও তদন্ত শুরু করেছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ভুলভাবে গাড়িটি সাদিক খানের নামে নিবন্ধনের বিষয়টি তদন্তের আওতায় এসেছে এবং মামলাটি পুনরায় খোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে, এই ঘটনা যুক্তরাজ্যের সিঙ্গেল জাস্টিস প্রসিডিউর নিয়েও নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। ২০১৫ সালে তুলনামূলক কম গুরুতর মামলাগুলো দ্রুত ও কম খরচে নিষ্পত্তির জন্য এই ব্যবস্থা চালু করা হয়। এতে ম্যাজিস্ট্রেট প্রকাশ্য আদালতে শুনানি না করেও এককভাবে ও ব্যক্তিগতভাবে মামলার সিদ্ধান্ত দিতে পারেন।

এই বিচারব্যবস্থা নিয়ে এর আগেও সমালোচনা হয়েছে। ২০২৪ সালে প্রায় ৫৯ হাজার ট্রেনভাড়া না দেওয়ার মামলার দণ্ড বাতিল করতে হয়েছিল, কারণ সেগুলো বেআইনিভাবে দেওয়া হয়েছিল। শিশুদের ভুলভাবে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছিল। ফলে বর্তমানে ব্যবস্থাটি সরকারের পর্যালোচনার মধ্যে রয়েছে।

সূত্রঃ দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্যসেবায় যুক্ত হতে যাচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থা

এবার ডাউনিং স্ট্রিটের ফ্ল্যাট নিয়ে বিতর্কে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন

নিউজ ডেস্ক

পূর্ব লন্ডনে করোনা ভাইরাসের দক্ষিণ আফ্রিকার ভেরিয়েন্ট