18.9 C
London
May 31, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

জীবনযাত্রার ব্যয় সংকটে চাপে ব্রিটিশ পরিবারঃ মূল্যস্ফীতি ফের বাড়ার আশঙ্কা

যুক্তরাজ্যে জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট আবারও গভীর হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক তেল বাণিজ্যে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে ব্রিটিশ অর্থনীতিতেও। ফলে জ্বালানি, খাদ্য এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এপ্রিল মাসে মূল্যস্ফীতি ৩ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে কমে ২ দশমিক ৮ শতাংশে নামলেও এই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে। অনেক বিশেষজ্ঞের আশঙ্কা, চলতি বছরের শেষ নাগাদ মূল্যস্ফীতি আবার ৪ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।

সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে খাপ খাওয়াতে ৬৩ শতাংশ ব্রিটিশ নাগরিক প্রয়োজনীয় খরচ কমাতে বাধ্য হয়েছেন। অন্যদিকে গবেষণা প্রতিষ্ঠান রেজোলিউশন ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, দারিদ্র্যে বসবাসকারী পরিবারের ৫৫ শতাংশে অন্তত একজন কর্মরত ব্যক্তি রয়েছেন। অর্থাৎ চাকরি থাকলেও বহু পরিবার অর্থনৈতিক সংকট থেকে বের হতে পারছে না।

বর্তমানে প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ মানুষ কর্ম ও পেনশন বিভাগ (ডিডব্লিউপি) পরিচালিত বিভিন্ন ভাতা ও সহায়তা কর্মসূচির আওতায় রয়েছেন। তবে গবেষণা সংস্থা পলিসি ইন প্র্যাকটিস জানিয়েছে, প্রতিবছর প্রায় ২৪ বিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের সরকারি ভাতা দাবি করা হয় না, যার ফলে অনেক পরিবার প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

জুন মাসে ইউনিভার্সাল ক্রেডিট, রাষ্ট্রীয় পেনশন, শিশু ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা এবং অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির অর্থ স্বাভাবিক সময়সূচি অনুযায়ী প্রদান করা হবে। এ মাসে কোনো ব্যাংক ছুটি না থাকায় পেমেন্টে বিলম্বের সম্ভাবনা নেই।

সরকার চলতি বছর ইউনিভার্সাল ক্রেডিটের মানক ভাতা ৬ দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধি করেছে। ২৫ বছরের বেশি বয়সী একক দাবিদারদের সাপ্তাহিক ভাতা ৯২ পাউন্ড থেকে বেড়ে ৯৮ পাউন্ড হয়েছে। একইভাবে দম্পতিদের ক্ষেত্রেও ভাতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। তবে নতুন দাবিদারদের জন্য স্বাস্থ্য-সম্পর্কিত অতিরিক্ত ভাতা প্রায় অর্ধেকে নামিয়ে আনা হয়েছে, যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অধিকারকর্মীরা।

অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় সরকার ‘সংকট ও সহনশীলতা তহবিল’ নামে নতুন সহায়তা কর্মসূচি চালু করেছে। এর আওতায় জরুরি আর্থিক সংকটে পড়া পরিবারগুলো নগদ সহায়তা, ভাড়া পরিশোধে সহযোগিতা এবং আবাসন-সংক্রান্ত ব্যয়ের জন্য সহায়তা পেতে পারে।

এ ছাড়া সুদমুক্ত বাজেটিং অ্যাডভান্স ঋণ, কাউন্সিল ট্যাক্সে ছাড়, কমমূল্যের ইন্টারনেট ও পানির বিল সুবিধা, দাতব্য সংস্থার অনুদান এবং বিনামূল্যে শিশু পরিচর্যা সুবিধাও চালু রয়েছে।

এদিকে জ্বালানি নিয়ন্ত্রক সংস্থা অফজেম ঘোষণা দিয়েছে, জুলাই থেকে জ্বালানির মূল্যসীমা বছরে ২২১ পাউন্ড বেড়ে ১ হাজার ৮৬২ পাউন্ড হবে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধজনিত তেলের মূল্যবৃদ্ধিই এর প্রধান কারণ। ফলে আগামী মাসগুলোতে পরিবারের ব্যয় আরও বাড়তে পারে।

তবে ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে চালু থাকা জীবনযাত্রার ব্যয় সহায়তা কর্মসূচির মতো নতুন কোনো এককালীন অর্থ সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা এখন পর্যন্ত ঘোষণা করেনি ডিডব্লিউপি।

অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার এই সময়ে বিশেষজ্ঞরা যোগ্য ব্যক্তিদের সব ধরনের সরকারি সহায়তা ও ভাতা দাবি করার পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের মতে, ক্রমবর্ধমান ব্যয় মোকাবিলায় এসব সহায়তা অনেক পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা হিসেবে কাজ করতে পারে।

সূত্রঃ দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট

এম.কে

আরো পড়ুন

ট্রাম্পকে উপেক্ষা করে যুক্তরাজ্য ও ইইউ’র কৌশলগত অংশীদারিত্ব ঘোষণা

যুক্তরাজ্যে লেবার দলে বিদ্রোহের ঝড়ঃ চার এমপিকে বহিষ্কার, তিনজন হারালেন বাণিজ্য দূতের পদ

রানির প্ল্যাটিনাম জুবিলিতে অপমানিত বরিস জনসন

অনলাইন ডেস্ক