31.3 C
London
August 3, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

লন্ডন হতে প্রায় অর্ধশতাব্দী ধরে নিখোঁজ ১৪ বছরের কিশোরীঃ নতুন করে তদন্তে পুলিশ

প্রায় ৪৭ বছর আগে লন্ডন থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হওয়া ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীর সন্ধানে নতুন করে জনসাধারণের সহযোগিতা চেয়েছে মহানগর পুলিশ। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তদন্ত বন্ধ না করে এবার আবারও মামলাটি পর্যালোচনা শুরু করেছেন তদন্ত কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে নিখোঁজ কিশোরীর বোন আবেগঘন আবেদন জানিয়ে বলেছেন, পরিবারের একমাত্র চাওয়া হলো সত্যটা জানা—তার বোনের সঙ্গে আসলে কী ঘটেছিল।

নিখোঁজ কিশোরীর নাম সুজান লরেন্স। ১৯৭৯ সালের ২৭ জুলাই তিনি তার ছোট বোন মিশেল হুপারকে নিয়ে পূর্ব লন্ডনের হ্যারল্ড হিল এলাকার বাড়ি থেকে বের হন। মাকে তারা জানিয়েছিলেন, ডেগেনহ্যাম এলাকায় বন্ধুদের বাড়িতে থাকবেন।

কিন্তু পাঁচ দিন পর দুই বোনের মধ্যে ঝগড়া হলে ৩১ জুলাই মিশেল একাই বাড়ি ফিরে আসেন। সুজান আর কখনও বাড়ি ফেরেননি।

মিশেল পুলিশকে জানান, দুই বোন উত্তর লন্ডনের হাইবেরি ফিল্ডসে একটি মেলায় ১৪ থেকে ১৭ বছর বয়সী তিন কিশোরের সঙ্গে পরিচিত হন। পরে ওই কিশোররা তাদের কাছাকাছি একটি পরিত্যক্ত ভবনে নিয়ে যায়, যেখানে তারা দুই রাত অবস্থান করেন।

পুলিশ পরে মিশেলকে নিয়ে ওই ভবন খুঁজে বের করার চেষ্টা করলেও সেটি আর শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হয়েছিল, সুজান হয়তো কোনো ভ্রাম্যমাণ মেলার দলের সঙ্গে চলে গিয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ অনুসন্ধানের পরও তার কোনো সন্ধান মেলেনি।

প্রায় পাঁচ দশক পার হয়ে গেলেও মামলাটি কখনও বন্ধ করা হয়নি। সম্প্রতি মহানগর পুলিশের পূর্বাঞ্চলীয় নিখোঁজ ব্যক্তি তদন্ত ইউনিট পুরোনো নথিপত্র পর্যালোচনা করে নতুন করে তদন্ত শুরু করেছে।

বর্তমানে ৬০ বছর বয়সী মিশেল হুপার বলেন, যদি তার বোন এখনও জীবিত থাকেন, তাহলে তিনি যেন জানেন—পরিবার তাকে কখনও ভুলে যায়নি।

তিনি বলেন, “আমাদের পরিবার শুধু সত্যটা জানতে চায়। যদি কেউ জানেন সুজানের সঙ্গে কী ঘটেছিল, তাহলে অনুগ্রহ করে সামনে এসে পুলিশের সঙ্গে কথা বলুন।”

মিশেল আরও বলেন, তিনি ছিলেন পরিবারের শেষ সদস্য যিনি নিখোঁজ হওয়ার আগে সুজানের সঙ্গে ছিলেন। দুই বোন একসঙ্গে বাড়ি ছেড়েছিলেন এবং কিছুদিন গৃহহীন অবস্থায় দিন কাটিয়েছিলেন। পরে তিনি বাড়ি ফিরে এলেও সুজান আর ফেরেননি।

তার ভাষায়, “একটি দিনও যায় না যেদিন আমি ভাবি না আমার বোনের কী হয়েছিল। আমাদের মা এখন বৃদ্ধ। তিনিও কয়েক দশক ধরে জানেন না তার মেয়ের কী পরিণতি হয়েছে। কোনো পরিবারেরই এত দীর্ঘ অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকা উচিত নয়।”

তদন্তের নেতৃত্ব দেওয়া প্রধান গোয়েন্দা কর্মকর্তা কাম সোধি বলেন, এত বছর পরও তারা সুজানের পরিবারের জন্য উত্তর খুঁজে বের করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি জানান, বাড়ি ছাড়ার পর দুই বোন কিছু সময় গৃহহীন অবস্থায় ছিলেন। সে সময় হাইবেরি বা ইজলিংটন এলাকার বলে ধারণা করা তিন কিশোর তাদের আশ্রয় দিয়েছিল। তদন্তকারীদের বিশ্বাস, ওই ব্যক্তিদের কাছে সুজানের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকতে পারে।

তিনি আরও বলেন, সময়ের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক ও পরিস্থিতি বদলে যায়। অতীতে যেসব তথ্যকে তেমন গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়নি, সেগুলোই এখন এই রহস্য উদ্ঘাটনের মূল চাবিকাঠি হতে পারে।

পুলিশের মতে, ১৯৭৯ সালের সেই সময়ে যারা দুই বোনকে দেখেছেন, তাদের আশ্রয় দিয়েছেন, সাহায্য করেছেন অথবা সুজানের সঙ্গে কথা বলেছেন—তাদের কাছে থাকা সামান্য তথ্যও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

একই সঙ্গে পুলিশ সুজান লরেন্স জীবিত থাকলে তাকেও পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়েছে। তদন্তকারীদের বিশ্বাস, প্রায় অর্ধশতাব্দী পুরোনো এই রহস্যের সমাধানে এখনও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য কোথাও না কোথাও রয়ে গেছে।

সূত্রঃ দ্য স্ট্যান্ডার্ড

এম.কে

আরো পড়ুন

মানসিক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো যাবে না কোয়েলোকেঃ যুক্তরাজ্য আদালত

যুক্তরাজ্যে টিউলিপ সিদ্দিককে জিজ্ঞাসাবাদ

প্রযুক্তি থেকে মদ—বক্সিং ডে সেলে রেকর্ড ব্যয়ের পথে ব্রিটিশ ভোক্তারা