এক প্রজন্মে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে তাত্ত্বিক কণা পদার্থবিজ্ঞানে পিএইচডি, পরের প্রজন্মে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞানে পিএইচডি—একই পরিবারের মা ও মেয়ের এমন একাডেমিক পথচলা আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানাঙ্গনে বাংলাদেশের একটি ব্যতিক্রমী অধ্যায় তুলে ধরে।
এই পরিবারের প্রথম প্রজন্মের প্রতিনিধি সুলতানা শফী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনার সময় তিনি এমএসসিতে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হন এবং বিভাগের প্রথম নারী শিক্ষার্থ হিসেবে এই কৃতিত্ব অর্জন করেন বলে প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যায়। উচ্চশিক্ষার পরবর্তী ধাপে তিনি যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে তাত্ত্বিক কণা পদার্থবিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা করেন এবং পিএইচডি সম্পন্ন করেন।
পিএইচডির পর কেমব্রিজের গার্টন কলেজে ফেলোশিপের সুযোগ পান সুলতানা শফী। বিদেশে গবেষণা ও একাডেমিক ক্যারিয়ার চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও তিনি শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশে ফিরে আসেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষকতায় যুক্ত হয়ে দীর্ঘ সময় শিক্ষার্থীদের পড়ান ও গবেষণার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকেন।
তার স্বামী আহমেদ শফীও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ছিলেন। ১৯৬৯ সালে লন্ডনে তোলা তাদের একটি ছবির উল্লেখও পারিবারিক স্মৃতিচর্চায় পাওয়া যায়। একই সময়ে দুজনের একাডেমিক জীবন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও আন্তর্জাতিক গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ছিল।
সুলতানা শফীর পর বিজ্ঞানের পথে এগিয়ে যান তার মেয়ে রেবেকা শফী। তার শিক্ষাজীবনের সঙ্গে যুক্ত হয় যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি—ক্যালটেকের নাম। সেখান থেকে পদার্থবিজ্ঞানের পড়াশোনা শেষ করে তিনি পিএইচডির জন্য ভর্তি হন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে।
হার্ভার্ডে রেবেকা শফীর গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র ছিল কৃষ্ণগহ্বরের ঘূর্ণন বা ‘ব্ল্যাক হোল স্পিন’। হার্ভার্ড-সংক্রান্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০০৪ সালে তিনি পদার্থবিজ্ঞানে পিএইচডি সম্পন্ন করেন।
পরবর্তীতে তার গবেষণার আগ্রহ জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানের গণ্ডি ছাড়িয়ে আরও বিস্তৃত হয়। মানবমস্তিষ্ক, স্নায়ুবিজ্ঞান এবং মানব জেনেটিকসের মধ্যকার সম্পর্ক নিয়েও তার গবেষণার কথা প্রকাশিত জীবনীমূলক সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
মা ও মেয়ের গবেষণার ক্ষেত্র এক নয়। সুলতানা শফীর একাডেমিক জীবন গড়ে উঠেছে তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞান ও কণা পদার্থবিজ্ঞানকে কেন্দ্র করে, যেখানে রেবেকা শফীর গবেষণার একটি পর্যায় ছিল কৃষ্ণগহ্বরের ঘূর্ণন। পরবর্তী সময়ে তার কাজ মানবমস্তিষ্ক ও জেনেটিকসের মতো ভিন্নধর্মী বৈজ্ঞানিক ক্ষেত্রের দিকে বিস্তৃত হয়েছে।
দুই প্রজন্মের এই শিক্ষাজীবনে দুটি আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বিশেষভাবে সামনে আসে—কেমব্রিজ ও হার্ভার্ড। তবে সুলতানা শফীর ক্ষেত্রে বিদেশের উচ্চশিক্ষা শেষে দেশে ফিরে এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার সিদ্ধান্তও তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে আছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত একাডেমিক নথিতে সুলতানা শফী ও আহমেদ শফীর পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। অন্যদিকে রেবেকা শফীর শিক্ষাজীবন ও গবেষণা নিয়ে প্রকাশিত জীবনীমূলক তথ্যে ক্যালটেক, হার্ভার্ড এবং ব্ল্যাক হোল গবেষণার উল্লেখ রয়েছে।
একই পরিবারের দুই প্রজন্মের এই পথচলায় একদিকে রয়েছে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক বিজ্ঞানশিক্ষা, অন্যদিকে কেমব্রিজ, ক্যালটেক ও হার্ভার্ডের মতো আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার অভিজ্ঞতা। তাদের একাডেমিক যাত্রার বিষয়বস্তু আলাদা হলেও দুজনের জীবনেই বিজ্ঞান ও গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে।
সূত্রঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত একাডেমিক নথি, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়, ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (ক্যালটেক) এবং প্রকাশিত জীবনীমূলক তথ্য
এমকে

