জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট স্থায়ীভাবে পুনরায় চালু করার দাবি জানিয়েছে যুক্তরাজ্য। এ বিষয়ে সমঝোতা না হলে ব্রিটেন থেকে ইসরায়েলি কূটনীতিকদের বহিষ্কারের পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে সতর্ক করেছে দেশটি। ৯ অক্টোবর প্রকাশিত জিবি নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতিতে উৎপাদিত পণ্যের ওপর যুক্তরাজ্যের বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। গত ৮ সেপ্টেম্বর ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড পশ্চিম তীরের বসতিগুলোকে লক্ষ্য করে এসব নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেন। ফ্রান্স ও কানাডাও একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছিল। যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের অবস্থান হলো, পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতিগুলো আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে—যদিও ইসরায়েল এই অবস্থানের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে।
এর প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার নির্দেশ দেন, ৩০ দিনের মধ্যে পূর্ব জেরুজালেমে অবস্থিত ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি গাজায় আন্তর্জাতিক সহায়তা সমন্বয়কেন্দ্র থেকে ব্রিটিশ প্রতিনিধিদের বহিষ্কার করা হয় এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কার্যক্রমে ব্রিটেনের অংশগ্রহণ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ ছাড়া সাবেক লেবার নেতা জেরেমি করবিন ও ডায়ান অ্যাবটসহ ১২ জন ব্রিটিশ সংসদ সদস্যকে ইসরায়েলে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়।
ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধের নির্ধারিত সময়সীমা ৮ অক্টোবর ঘনিয়ে আসার আগে দুই দেশের মধ্যে শেষ মুহূর্তে একটি অস্থায়ী সমঝোতা হয়। এর আওতায় জেরুজালেমে ব্রিটেনের কূটনৈতিক উপস্থিতি বজায় থাকবে। তবে কনস্যুলেটটি আগের নামে পরিচালিত না হয়ে ‘ইউকে মিশন, জেরুজালেম’ নামে কার্যক্রম চালাবে। এটি তেল আবিবে অবস্থিত ব্রিটিশ দূতাবাস থেকে পৃথক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করবে।
নতুন ব্যবস্থায় জেরুজালেমে ব্রিটিশ কূটনীতিকের সংখ্যা প্রায় ২৭ জন থেকে কমিয়ে মাত্র সাতজনে নামিয়ে আনা হয়েছে। ইতিমধ্যে স্থানীয়ভাবে নিয়োগ করা কয়েক ডজন কর্মীকে ছাঁটাই করা হয়েছে। অন্যদিকে, যেসব ব্রিটিশ কূটনীতিককে সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, তারা মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য ব্রিটিশ কূটনৈতিক কার্যালয় অথবা লন্ডন থেকে দায়িত্ব পালন করবেন।
তবে এই সমঝোতাকে স্থায়ী সমাধান হিসেবে দেখছে না ব্রিটেন। জিবি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্য টেলিগ্রাফের তথ্য অনুযায়ী, পরবর্তী আলোচনায় কনস্যুলেটের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম ও কর্মীসংখ্যা পুনর্বহালের বিষয়ে গ্রহণযোগ্য অগ্রগতি না হলে ইসরায়েলি কূটনীতিকদের বহিষ্কারের হুমকি আবারও কার্যকর করার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে ব্রিটিশ সরকার। এর আগে ইসরায়েলি পদক্ষেপের জবাবে ব্রিটেন থেকে একজন কূটনীতিক বহিষ্কারের সম্ভাবনার কথাও সংবাদমাধ্যমে উঠে আসে।
ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড বলেন, প্রায় ২০ বছর ধরে জেরুজালেমে থাকা ব্রিটিশ কনস্যুলেট জেনারেল বন্ধ করার আইনগত অধিকার ইসরায়েল সরকারের রয়েছে বলে যুক্তরাজ্য মনে করে না। তিনি আরও বলেন, পূর্ব জেরুজালেমকে ব্রিটিশ সরকার এখনো অধিকৃত ভূখণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জেরুজালেমে ব্রিটিশ মিশন স্বাধীন ও কার্যকর থাকবে এবং ফিলিস্তিনি জনগণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ কাজ চালিয়ে যাবে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার পাল্টা পদক্ষেপের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেন, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হলে তার জবাবে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
দুই দেশের এই বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে পশ্চিম তীরের বসতি নিয়ে মতপার্থক্য এবং পূর্ব জেরুজালেমে ব্রিটেনের স্বতন্ত্র কূটনৈতিক উপস্থিতি বজায় রাখার প্রশ্ন। আপাতত অস্থায়ী সমঝোতার মাধ্যমে ব্রিটিশ মিশনের কার্যক্রম চালু রাখা হলেও কূটনৈতিক সংকটের স্থায়ী সমাধান এখনো নিশ্চিত হয়নি।
সূত্রঃ জিবি নিউজ
এমকে

