জার্মানিতে “টাইগার কুইন” নামে পরিচিত বিতর্কিত বাঘ মালিক কারমেন জান্ডারের পোষা একটি বাঘ পালিয়ে যাওয়ার পর গুলি করে হত্যা করেছে পুলিশ।
এর আগে বাঘটি এনক্লোজারের এক কর্মীর ওপর হামলা চালায়। ঘটনাটি দেশটিতে আবারও বন্য প্রাণী পালন ও প্রাণী কল্যাণ নিয়ে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।
জার্মান পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, স্যাক্সনি অঙ্গরাজ্যে একটি শিল্প এলাকায় কারমেন জান্ডারের মালিকানাধীন ১০টি বাঘ রাখা ছিল। সেখানেই এক সহকারী কর্মী বাঘের হামলার শিকার হন। হামলার পর বাঘটি এনক্লোজার থেকে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পরপরই এলাকাজুড়ে সতর্কতা জারি করা হয় এবং সশস্ত্র পুলিশ মোতায়েন করা হয়। প্রায় আধা ঘণ্টা পর ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৩০০ মিটার দূরের একটি বাগানে বাঘটিকে খুঁজে পায় পুলিশ। পরে জননিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বাঘটিকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
আহত কর্মীকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তার অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল।
জার্মান সংবাদমাধ্যম বিল্ড জানিয়েছে, নিজের পোষা বাঘের মৃত্যুর পর কারমেন জান্ডারকে গাড়ির ছাদে বসে কান্না করতে দেখা যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি ঘটনাটিতে “ হতবিহ্বল” হয়ে পড়েছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, পালিয়ে যাওয়া বাঘটি একটি পূর্ণবয়স্ক পুরুষ বাঘ ছিল। তবে কোন বাঘটি পালিয়েছিল তা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
৫২ বছর বয়সী কারমেন জান্ডার দীর্ঘদিন ধরেই জার্মানিতে “টাইগার কুইন” নামে পরিচিত। ঝলমলে পোশাকে বাঘসহ বিভিন্ন বিদেশি প্রাণী নিয়ে তার প্রদর্শনী বহুবার আলোচনায় এসেছে। তাকে নিয়ে “ওয়াইল্ড উইমেন: জেন্টল বিস্টস” নামে একটি প্রামাণ্যচিত্রও নির্মিত হয়েছিল।
তবে প্রাণী অধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, তার প্রাণী পালনের পরিবেশ ও প্রদর্শনী কার্যক্রম প্রাণী কল্যাণের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
প্রাণী অধিকার সংগঠন পেটা ২০২৫ সালে আদালতে মামলা করে দাবি করেছিল, বাঘগুলোকে অস্বাভাবিক ছোট ও অনুপযুক্ত খাঁচায় রাখা হচ্ছে। যদিও আদালত বাঘগুলো সরিয়ে নেওয়ার আবেদন খারিজ করে দেয়।
সে সময় পেটার এক মুখপাত্র অভিযোগ করেছিলেন, “বাঘগুলোকে তাদের স্বাভাবিক পরিবেশ থেকে বঞ্চিত করে সংকীর্ণ তারের খাঁচায় আটকে রাখা হয়েছে।”
তবে কারমেন জান্ডার সবসময়ই প্রাণীদের প্রতি নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
জার্মান গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের পর থেকে বন্য প্রাণীভিত্তিক সার্কাস শো জনপ্রিয়তা হারাতে শুরু করলে কারমেন জান্ডারের বুকিংও কমে যায়।
এর আগে আদালতে তিনি স্বীকার করেছিলেন যে, বাঘগুলোর খরচ চালাতে তিনি নিষিদ্ধ ব্যক্তিগত টাইগার শোর আয়োজন করতেন। প্রতি মাসে বাঘগুলোর খাবারের পেছনে এক হাজার ইউরোর বেশি ব্যয় হতো বলে জানা গেছে।
তার ওয়েবসাইটে দর্শকদের বাঘ স্পর্শ করার সুযোগ দেওয়ার প্রচারণাও দেখা যায়, যা জার্মান প্রাণী সুরক্ষা আইনের অধীনে অবৈধ।
কারমেন জান্ডারের কর্মকাণ্ডের কারণে অনেকেই তাকে নেটফ্লিক্সের আলোচিত সিরিজ “টাইগার কিং”-এর তারকা জো এক্সোটিকের সঙ্গে তুলনা করেন। জো এক্সোটিক, যার আসল নাম জোসেফ মালডোনাডো-প্যাসেজ, বর্তমানে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রাণী মালিক ক্যারোল বাসকিনকে হত্যার ষড়যন্ত্রের মামলায় ২১ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন।
গত সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমার একটি টাইগার প্রিজার্ভে পারফরম্যান্স চলাকালে জো এক্সোটিকের বন্ধু ও প্রাণী প্রশিক্ষক রায়ান ইজলি বাঘের হামলায় নিহত হন।
বিশ্লেষকদের মতে, জার্মানির এই সাম্প্রতিক ঘটনা আবারও প্রমাণ করলো—বন্য প্রাণীকে ব্যক্তিগত প্রদর্শনী ও বিনোদনের অংশ হিসেবে ব্যবহার কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ
এম.কে

