10.9 C
London
March 28, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

ট্রাম্পকে নিয়ে করা ৩ ভবিষ্যদ্বাণীর ২টিই ফলে গেছে, বাকি শুধু পরাজয়

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মাঝে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছেন ‘চীনের নস্ত্রাদামুস’ খ্যাত অধ্যাপক শুয়েকিন জিয়াং। ২০২৪ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরান যুদ্ধ নিয়ে তিনি যে তিনটি বড় ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, তার দুটি এরই মধ্যে হুবহু মিলে গেছে। এখন তার তৃতীয় ও সবচেয়ে ভয়ংকর ভবিষ্যদ্বাণী—‘ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয়’ নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলছে তোলপাড়।

জিয়াং বেইজিংয়ে দর্শন ও ইতিহাসের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। ইয়েল কলেজের এই গ্র্যাজুয়েট তার ক্যারিয়ারের বড় অংশ চীনে শিক্ষা সংস্কার ও পাঠ্যক্রম প্রণয়নে ব্যয় করেছেন। তবে বর্তমানে তিনি তার ইউটিউব চ্যানেল ‘প্রেডিক্টিভ হিস্ট্রি’র জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পেয়েছেন। তিনি ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি, ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ এবং ‘গেম থিওরি’ বিশ্লেষণ করে ভবিষ্যতের পূর্বাভাস দেন। তার এই পদ্ধতি অনেকটা আইজ্যাক আসিমভের সায়েন্স ফিকশন ‘ফাউন্ডেশন’ উপন্যাসের সাইকোহিস্ট্রি বা মনস্তাত্ত্বিক ইতিহাসতত্ত্ব দ্বারা অনুপ্রাণিত।

২০২৪ সালের মে মাসে ধারণকৃত এক অনলাইন লেকচারে জিয়াং তিন বিষয়ে ভবিষ্যৎ বাণী করেছিলেন। প্রথমটি ছিল, ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতায় ফিরবেন। দ্বিতীয়টি ছিল, ক্ষমতা গ্রহণের পর তিনি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করবেন। আর তৃতীয়টি ছিল, এই যুদ্ধে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয় ঘটবে।

ট্রাম্পের ক্ষমতায় ফেরা এবং গত শনিবার থেকে ইরানের ওপর বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু হওয়ায় প্রথম দুটি কথা এরই মধ্যে সত্য প্রমাণিত হয়েছে। এখন তার সর্বশেষ অর্থাৎ তৃতীয় ভবিষ্যদ্বাণী নিয়ে চলছে বিশ্বজুড়ে তোলপাড়।

সম্প্রতি মার্কিন টেলিভিশন শো ‘ব্রেকিং পয়েন্টস’-এ হাজির হয়ে জিয়াং তার আশঙ্কার কথা পুনরায় ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, ‘যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি বিশ্লেষণ করে আমি দেখছি, যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় ইরানের সুবিধা অনেক বেশি। গত ২০ বছর ধরে ইরান এই সংঘাতের প্রস্তুতি নিয়েছে। এটি এখন একটি ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধে পরিণত হয়েছে।’

জিয়াংয়ের মতে, গত বছরের জুনের ১২ দিনের যুদ্ধে ইরান মূলত ইসরায়েল ও আমেরিকার আক্রমণ ক্ষমতা বিশ্লেষণ করার সুযোগ পেয়েছে। পরবর্তীতে গত আট মাস ধরে তারা পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতির সময় পেয়েছে। তার দাবি, ইরানের প্রক্সি গোষ্ঠী—হুতি, হিজবুল্লাহ এবং হামাস এখন আমেরিকান মানসিকতা বুঝে গেছে এবং তারা মার্কিন সাম্রাজ্যকে দুর্বল ও ধ্বংস করার জন্য একটি কার্যকর কৌশল গ্রহণ করেছে।

জিয়াং ইরানের ওপর সম্ভাব্য মার্কিন আক্রমণকে প্রাচীন এথেন্সের সিসিলিয়ান অভিযানের সঙ্গে তুলনা করেছেন, যা এক সময় চরম বিপর্যয়ের মাধ্যমে শেষ হয়েছিল। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানের পাহাড়ি ভূখণ্ড, দীর্ঘ সরবরাহ লাইন এবং শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ প্রতিরোধ যুদ্ধের প্রাথমিক সাফল্যকে দ্রুত কৌশলগত ব্যর্থতায় রূপান্তর করতে পারে। তিনি বলেন, ‘এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হবে এবং যুদ্ধ শেষে বিশ্ব আর আগের মতো থাকবে না।’

সূত্রঃ এনডিটিভি

এম.কে

আরো পড়ুন

ইউরোপে সন্তানের জন্ম দিতে দুই ঘন্টা সাঁতার কেটেছিলেন এক গর্ভবতী মা

মঙ্গলবার থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসীদের গণগ্রেফতার শুরু

আইরিশ নাগরিকদের জন্য দ্বৈত নাগরিকত্ব ও রয়েছে নানা ধরনের সুবিধা