18.1 C
London
August 30, 2026
TV3 BANGLA
আমেরিকাযুক্তরাজ্য (UK)

ট্রাম্পের অভিবাসননীতির সমর্থক ব্রিটিশ মাইলো ইয়াননোপোলোসকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার

মার্কিন অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ব্রিটিশ দূর-ডানপন্থী রাজনৈতিক মন্তব্যকারী মাইলো ইয়াননোপোলোসকে আটক করার পর যুক্তরাজ্যে ফেরত পাঠানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসননীতির প্রকাশ্য সমর্থক ইয়াননোপোলোসকে বৃহস্পতিবার লুইসিয়ানার লুইস আর্মস্ট্রং নিউ অরলিয়ন্স আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থার কর্মকর্তারা আটক করেন। পরদিন তাকে যুক্তরাজ্যে ফেরত পাঠানো হয়।

ইয়াননোপোলোস ২০১৯ সালের মে মাসে নিউ ইয়র্ক সিটির মাধ্যমে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। তবে মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, অনুমোদিত সময়সীমা শেষ হওয়ার পরও তিনি দেশটিতে অবস্থান করেন। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে অভিবাসন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

অভিবাসন শুনানিতে উপস্থিত না হওয়ার কারণে গত ২২ জুলাই একজন অভিবাসন বিচারক তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত অপসারণের আদেশ জারি করেন। এরপর তাকে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থার হেফাজতে নেওয়া হয় এবং বহিষ্কারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের একজন মুখপাত্র ইয়াননোপোলোসের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিবাসন আইন ভঙ্গের অভিযোগ তুলে বলেন, তিনি দেশটির আইন লঙ্ঘন করে অনুমোদিত সময়ের চেয়ে বেশি অবস্থান করেছেন। অভিবাসন শুনানিতে অনুপস্থিত থাকার পর তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত অপসারণের আদেশ জারি হয়েছিল বলেও জানানো হয়।

ঘটনাটি বিশেষভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে ইয়াননোপোলোসের রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন কঠোর করার পক্ষে সোচ্চার এবং ট্রাম্পের অভিবাসননীতির অন্যতম প্রকাশ্য সমর্থক হিসেবে পরিচিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি একসময় আগামী ২০ বছরের জন্য ‘শূন্য অভিবাসন’-এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন।

অভিবাসনবিরোধী এমন কঠোর অবস্থানের মধ্যেই নিজের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের বৈধতা নিয়ে সমস্যায় পড়া তার বহিষ্কারের ঘটনাকে রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। বিশেষ করে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন আইন কঠোরভাবে প্রয়োগের নীতির সমর্থক একজন বিদেশি নাগরিক নিজেই সেই আইনের আওতায় পড়ে দেশছাড়া হওয়ায় বিষয়টি ব্যাপক মনোযোগ পেয়েছে।

মাইলো ইয়াননোপোলোস ব্রিটিশ রক্ষণশীল ও দূর-ডানপন্থী রাজনৈতিক পরিসরে বিতর্কিত ও পরিচিত একটি নাম। ২০১০-এর দশকের শুরুতে তিনি ব্রেইটবার্ট নিউজের লেখক হিসেবে পরিচিতি পান। নারীবাদ, ইসলাম, অভিবাসনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়ে তার উসকানিমূলক বক্তব্য তাকে একই সঙ্গে জনপ্রিয়তা ও তীব্র সমালোচনা এনে দেয়।

তবে ২০১৭ সালে তার পুরোনো একটি ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর বড় ধরনের বিতর্ক সৃষ্টি হয়। ভিডিওতে শিশুদের যৌন নিপীড়ন নিয়ে তার মন্তব্য ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। এর পর তিনি ব্রেইটবার্ট নিউজ থেকে পদত্যাগ করেন। পরে তিনি ওই মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চান এবং দাবি করেন, নাবালক বয়সে তিনিও যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছিলেন।

তার গ্রেপ্তারের খবর প্রকাশ্যে আসার পর দূর-ডানপন্থী রাজনৈতিক কর্মী লরা লুমার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানান। ইয়াননোপোলোসের সঙ্গে লুমারের দীর্ঘদিনের প্রকাশ্য বিরোধ রয়েছে। ফলে তার আটক ও বহিষ্কারের ঘটনায় রাজনৈতিক মহলেও নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

ইয়াননোপোলোসের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড শুধু ব্রিটেন বা যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীল মহলেই সীমাবদ্ধ ছিল না। ২০২২ সালে তিনি সাবেক মার্কিন কংগ্রেস সদস্য মার্জোরি টেলর গ্রিনের ইন্টার্ন হিসেবে কাজ করেছিলেন বলে ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

পরবর্তীতে তিনি বিতর্কিত মার্কিন র‍্যাপার কানিয়ে ওয়েস্টের ২০২৪ সালের স্বল্পস্থায়ী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারণার ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নেন। কানিয়ে ওয়েস্ট পরবর্তীতে ‘ইয়ে’ নাম ব্যবহার শুরু করেন। তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডও ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়।

সাম্প্রতিক সময়ে ইয়াননোপোলোস ইয়ে-এর মুখপাত্র হিসেবে কাজ করছিলেন। ইয়ে নিজেও ইহুদিবিদ্বেষী মন্তব্যসহ বিভিন্ন বিতর্কের কারণে সমালোচিত হয়েছেন এবং পরবর্তীতে কিছু বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন।

ইয়াননোপোলোসের যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের ঘটনা তাই শুধু একজন ব্রিটিশ রাজনৈতিক মন্তব্যকারীর অভিবাসন আইনে আটকে পড়ার ঘটনা নয়; বরং এটি এমন এক ব্যক্তিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে, যিনি দীর্ঘদিন ধরে কঠোর অভিবাসননীতি, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ এবং অভিবাসন কমানোর পক্ষে প্রকাশ্যে প্রচার চালিয়ে আসছেন। অথচ শেষ পর্যন্ত মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে তাকেই দেশ ছাড়তে হয়েছে।

মার্কিন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে মূল বিষয় ছিল অনুমোদিত সময়ের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান এবং অভিবাসন শুনানিতে উপস্থিত না হওয়া। ফলে রাজনৈতিক মতাদর্শের বাইরে এটি মূলত মার্কিন অভিবাসন আইনের আওতায় নেওয়া একটি আইনগত পদক্ষেপ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

সূত্রঃ স্কাই নিউজ

এম.কে

আরো পড়ুন

রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর পেট্রোলের দাম এই প্রথম দেড় পাউন্ডের নিচে

হেট্রিক করলেন সাদিক খান, টানা তৃতীয়বারের মতো লন্ডনে মুসলিম মেয়র

অভিবাসীদের বিতাড়িত করার জন্য আসছে নতুন আইন