TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ট্র‍্যাম্পের ভ্রান্ত তথ্যের অভিযোগেও তদন্ত নয় কেনঃ ব্রিটিশ গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রক ওফকম চাপের মুখে

যুক্তরাজ্যের গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রক সংস্থা ওফকম আবারও বিতর্কের কেন্দ্রে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে GB News–এর এক সাক্ষাৎকারে একাধিক ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর দাবি প্রশ্নহীনভাবে প্রচারিত হলেও, সেই সম্প্রচার নিয়ে ওঠা ৩২টি অভিযোগ তদন্ত না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। এতে ওফকমের নিরপেক্ষতা ও নিয়ন্ত্রক ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

 

গত বছরের নভেম্বর মাসে সম্প্রচারিত ওই সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তন একটি “ভাঁওতা”। একই সঙ্গে তিনি বলেন, লন্ডনের কিছু এলাকায় পুলিশের প্রবেশ নিষিদ্ধ এবং রাজধানীর কিছু অংশে শরিয়া আইন কার্যকর রয়েছে। এসব দাবি বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হলেও সাক্ষাৎকার চলাকালে সেগুলোর কোনো চ্যালেঞ্জ করা হয়নি।
সাক্ষাৎকারে আইনশৃঙ্খলা ও অভিবাসন নিয়েও ট্রাম্প একাধিক বিতর্কিত মন্তব্য করেন।

সমালোচকদের মতে, সেগুলো হয় প্রশ্নহীনভাবে প্রচার করা হয়েছে, নয়তো GB News উপস্থাপক বেভ টার্নারের আচরণে পরোক্ষ সমর্থনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এসব কারণে অনুষ্ঠানটিকে বিভ্রান্তিকর ও পক্ষপাতদুষ্ট দাবি করে দর্শকরা ওফকমে অভিযোগ করেন।

তবে ওফকম জানায়, তারা অভিযোগগুলো তদন্তের প্রয়োজন দেখছে না। সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, যদিও সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের বক্তব্য সরাসরি চ্যালেঞ্জ করা হয়নি, তবে অনুষ্ঠানের আশপাশের প্যানেল আলোচনা ও অতিথিদের মতামতে বিকল্প দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হয়েছিল, যা তার দাবিগুলোর বিরোধিতা করেছে।

এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ওফকমের সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তারাও। সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাকালীন মানদণ্ডবিষয়ক পরিচালক ক্রিস বানাটভালা বলেন, এটি ছিল বিভ্রান্তিকর সম্প্রচার ও যথাযথ নিরপেক্ষতা লঙ্ঘনের একটি স্পষ্ট উদাহরণ। তার মতে, দর্শকদের বিভ্রান্ত করার মতো ভিত্তিহীন অভিযোগ যাচাই ছাড়াই প্রচারিত হয়েছে, যা সম্প্রচার সাংবাদিকতার মৌলিক মানদণ্ডকে দুর্বল করে।

তিনি আরও বলেন, এই সিদ্ধান্ত ওফকমের নিয়ন্ত্রক সক্ষমতার একটি “পরীক্ষা” ছিল, যেখানে সংস্থাটি ব্যর্থ হয়েছে। এতে আইন দ্বারা নির্ধারিত দায়িত্ব পালনে ওফকম আদৌ আগ্রহী কি না—সে প্রশ্ন সামনে এসেছে।

জলবায়ু ইস্যুতে কাজ করা গবেষকরাও সিদ্ধান্তটির কড়া সমালোচনা করেছেন। লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসের গ্রানথাম রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নীতিবিষয়ক পরিচালক বব ওয়ার্ড বলেন, ট্রাম্পের সাক্ষাৎকারটি জলবায়ু বিষয়ে ক্ষতিকর ভ্রান্ত তথ্যে ভরা ছিল। তার মতে, কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই অভিযোগ খারিজ করা ওফকমের দুর্বলতা প্রকাশ করে এবং এটি বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর সুযোগ তৈরি করেছে।
ওফকম অবশ্য নিজেদের অবস্থানেই অনড়। সংস্থাটি জানিয়েছে, যথাযথ নিরপেক্ষতা তাদের সম্প্রচার বিধির একটি মূল স্তম্ভ এবং পুরো অনুষ্ঠান মূল্যায়নের পরই তারা অভিযোগগুলো এগিয়ে না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য GB News–এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও চ্যানেলটি কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হয়নি। তবে এই সিদ্ধান্তের পর যুক্তরাজ্যে গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ, রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য রোধে ওফকমের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হয়ে উঠেছে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

ট্রাম্পের পুনর্নির্বাচনের পর আমেরিকানদের যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব আবেদনের হিড়িক

বিশ্বের সবচেয়ে ধীরগতির রাজধানী লন্ডনঃ এক কিলোমিটার যেতে সাড়ে তিন মিনিট

আওয়ামী ওলিগার্ক তৈরি মিশনের মূল খেলোয়াড় ছিলেন টিউলিপ

নিউজ ডেস্ক