12.1 C
London
May 13, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্যর্থ আশ্রয়প্রার্থী ফেরত না নিলে পাকিস্তানের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা—কঠোর বার্তা শাবানা মাহমুদের

ব্যর্থ আশ্রয়প্রার্থীদের নিজ দেশে ফেরত নিতে সহযোগিতা না করলে পাকিস্তানের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে বলে সতর্ক করেছে যুক্তরাজ্য সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শাবানা মাহমুদ নাগরিকদের প্রত্যাবাসনে অনাগ্রহী দেশগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ১০,৮৫৩ জন পাকিস্তানির আশ্রয় আবেদন নাকচ হলেও মাত্র ৪৪৫ জনকে পাকিস্তানে ফেরত পাঠানো হয়েছে—হার মাত্র ৪ শতাংশ। এই নিম্ন প্রত্যাবাসন হারকে কেন্দ্র করেই লন্ডনের অসন্তোষ বাড়ছে।

যুক্তরাজ্যে মোট আশ্রয়প্রার্থীদের মধ্যে প্রতি ১০ জনে একজন পাকিস্তানি। গত বছর ১০,৬৩৮ জন পাকিস্তানি আশ্রয়ের আবেদন করেছেন, যা ২০২৩ সালের তুলনায় দ্বিগুণ। সংখ্যার দিক থেকে তারা ইরিত্রিয়া, ইরান এবং আফগানিস্তান-এর চেয়েও এগিয়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তানি আবেদনকারীদের একটি বড় অংশ প্রথমে বৈধ ভিসায় যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করে পরে আশ্রয়ের আবেদন করেন। ভিজিটর, কাজ বা শিক্ষার্থী ভিসায় এসে স্থায়ী বসবাসের উদ্দেশ্যে তারা আবেদন বদলান। তবে এসব আবেদনের ৭০ শতাংশের বেশি প্রত্যাখ্যাত হয়েছে।

হোম অফিস জানিয়েছে, প্রত্যাবাসনে অস্বীকৃতি জানালে সংশ্লিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে ধাপে ধাপে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দ্রুত ভিসা সেবা বাতিল থেকে শুরু করে পর্যটক ও জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদদের প্রবেশ নথি স্থগিত পর্যন্ত শাস্তির পরিধি বিস্তৃত হতে পারে।

এর আগে নামিবিয়া, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো এবং অ্যাঙ্গোলা ব্যর্থ আশ্রয়প্রার্থীদের ফেরত নিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের বিরুদ্ধে ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দেওয়া হয়। পরে তারা অবস্থান পরিবর্তন করে অবৈধ অভিবাসী ও বিদেশি অপরাধীদের গ্রহণে সম্মত হয়।

বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টি ও রিফর্ম ইউকে পাকিস্তানের ওপর অবিলম্বে ভিসা বিধিনিষেধ আরোপের আহ্বান জানিয়েছে। ছায়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ক্রিস ফিলিপ প্রত্যাবাসনের হারকে “হতাশাজনক” আখ্যা দিয়ে ভিসা সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর দাবি জানিয়েছেন।

২০২২ সালে তৎকালীন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী প্রিতি প্যাটেল পাকিস্তানের সঙ্গে বিদেশি অপরাধী ও অবৈধ অভিবাসী ফেরত পাঠাতে একটি চুক্তি করেন। তবে বর্তমান পরিসংখ্যান বলছে, বাস্তবায়নে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি।

রিফর্ম ইউকের স্বরাষ্ট্রবিষয়ক মুখপাত্র জিয়া ইউসুফ ঘোষণা দিয়েছেন, তাদের দল ক্ষমতায় এলে পাকিস্তানসহ যেসব দেশ অবৈধ অভিবাসীদের ফেরত নিতে অস্বীকৃতি জানাবে, তাদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।

পরিসংখ্যান আরও বলছে, বৈধ ভিসায় এসে পরে আশ্রয়ের আবেদনকারীর সংখ্যা ৪০ হাজারের বেশি, যা ছোট নৌকায় চ্যানেল পাড়ি দিয়ে আগতদের সংখ্যার সমান। ২০২৪ সালে ভিসা-থেকে-আশ্রয়ে রূপান্তরের প্রায় ২৪ শতাংশই পাকিস্তানি নাগরিকদের, মোট ৯,৭৮৩টি আবেদন।

হোম অফিসের এক মুখপাত্র বলেন, যুক্তরাজ্য ও পাকিস্তান অভিবাসন ও প্রত্যাবাসন অগ্রাধিকার বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করছে। তবে বার্তা স্পষ্ট—ফেরত নেওয়ার ক্ষেত্রে পূর্ণ সহযোগিতা না করলে পরিণতি ভোগ করতে হবে।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এম.কে

আরো পড়ুন

নতুন বছরে বাড়লো প্রবাসী আয়ে প্রণোদনা

অনলাইন ডেস্ক

ব্রিটিশদের জীবনযাত্রার মান সবচেয়ে বড় পতনের সম্মুখীন

লন্ডন টিউবে ধর্মঘট ও সর্বশেষ অবস্থা