TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

দুই বছরের চুক্তিতে লন্ডন হাইকমিশনার হলেন সাবেক কূটনীতিক আব্দুল মুহিত

লন্ডনে বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত কূটনীতিক মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত। ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমির রেক্টর পদে তার অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করে গ্রেড-১ মর্যাদায় দুই বছরের চুক্তিতে তাকে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৪ আগস্ট) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, যোগদানের তারিখ থেকে দুই বছর পর্যন্ত তার নিয়োগ কার্যকর থাকবে। নিয়োগের অন্যান্য শর্ত চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।

নিয়োগের শর্ত হিসেবে আব্দুল মুহিতের ভোগ না করা অবসরোত্তর ছুটি ও এ-সংক্রান্ত সুবিধাদি স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে অন্য কোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগ করতে হবে।

মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত দীর্ঘ কূটনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন অবসরপ্রাপ্ত কূটনীতিক। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি নিউইয়র্ক, ভিয়েনা, ওয়াশিংটন ডিসি, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পোস্টিংয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন।

বহুপাক্ষিক কূটনীতি, জাতিসংঘের শাসনব্যবস্থা, টেকসই উন্নয়ন, শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারে তার বিশেষ অভিজ্ঞতা রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন, ভূ-রাজনৈতিক বিভাজন, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ সমসাময়িক বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতেও তিনি কাজ করেছেন।

২০২২ সালে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর আব্দুল মুহিত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জাতিসংঘ শান্তি বিনির্মাণ কমিশনের সভাপতি, ইউএন উইমেনের নির্বাহী বোর্ডের সভাপতি এবং ইউএনডিপি, ইউএনএফপিএ ও ইউএনওপিএসের সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে অবসর নেওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আব্দুল মুহিতকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে নির্বাচনের প্রচারণাতেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

এ নির্বাচনের প্রচারণার জন্য সময় ছিল তুলনামূলকভাবে কম। ওই সময়ে সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী ও আব্দুল মুহিত জাতিসংঘের নির্বাচনী প্রচারণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে।

বাংলাদেশের জন্য লন্ডন হাইকমিশনের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশির স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে হাইকমিশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সরকার মনে করছে, দীর্ঘ কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কাজের দক্ষতার কারণে আব্দুল মুহিত লন্ডনে বাংলাদেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন।

সূত্রঃ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন

এম.কে

আরো পড়ুন

বাংলাদেশে আইন পেশার আধুনিকায়নে নতুন যুগ: বার কাউন্সিল চালু করল CPD ও ডিজিটাল ব্লড

তারেক রহমানের জন্মদিনে অনুষ্ঠান করলে ব্যবস্থা নেবে বিএনপি

জুলাই সনদের খসড়া গ্রহণ করবে না এনসিপি