11 C
London
October 7, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

খাদ্য সংকটে ব্রিটেন অপ্রস্তুতঃ জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে সরকারের ‘উদাসীনতার’ অভিযোগ

ব্রিটেনের খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ১৮০ জনের বেশি খাদ্য নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ ও কৃষক। তারা সতর্ক করে বলেছেন, জাতীয় নিরাপত্তার অংশ হিসেবে খাদ্যকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে না ব্রিটিশ সরকার। জরুরি পরিস্থিতিতে দেশের পুরো জনগোষ্ঠীর জন্য খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকারের কোনো সুস্পষ্ট পরিকল্পনাও নেই বলে অভিযোগ করেছেন তারা।
বিশেষজ্ঞদের দাবি, ব্রিটেনে বর্তমানে কোনো জাতীয় খাদ্য মজুত বা কৌশলগত খাদ্য ভাণ্ডার নেই। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর তৈরি করা খাদ্য মজুত ব্যবস্থা ১৯৯০-এর দশকে বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে বড় ধরনের সংকট তৈরি হলে দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করার মতো সরকারি মজুত ব্যবস্থা নেই।
তাদের আরও আশঙ্কা, ব্রিটেনের খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা মূলত ‘জাস্ট-ইন-টাইম’ পদ্ধতির ওপর নির্ভরশীল। অর্থাৎ দীর্ঘ সময়ের জন্য খাদ্য মজুত না রেখে প্রয়োজন অনুযায়ী সরবরাহ করা হয়। এতে সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের কোনো বাধা তৈরি হলে দ্রুত ঘাটতি দেখা দিতে পারে।
জলবায়ু পরিবর্তন, আন্তর্জাতিক সংঘাত, সাইবার হামলা, জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন এবং আন্তর্জাতিক খাদ্য সরবরাহকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনাকেও বড় ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
খাদ্য উৎপাদনে ব্রিটেনের স্বনির্ভরতার হারও উদ্বেগের কারণ বলে জানিয়েছেন তারা। দেশটির মোট খাদ্য চাহিদার মাত্র প্রায় ৫৪ থেকে ৫৫ শতাংশ দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত হয়। ফলে বাকি খাদ্যের জন্য ব্রিটেনকে আমদানির ওপর নির্ভর করতে হয়। এসব আমদানির একটি অংশ আসে খরা, সংঘাত ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের দেশ থেকে।
ফুডরাইজ নামের একটি দাতব্য সংস্থার উদ্যোগে আয়োজিত এক খোলা চিঠিতে এসব সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। চিঠিটি ডাউনিং স্ট্রিটে পাঠানো হয়েছে। এতে জরুরি পরিস্থিতিতে খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে দ্রুত কৌশলগত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা সিভিল কনটিনজেন্সিজ অ্যাক্ট ২০০৪-এর আওতায় স্থানীয় পর্যায়ে খাদ্য সহনশীলতা কমিটি গঠনের সুপারিশ করেছেন। একই সঙ্গে জাতীয়, আঞ্চলিক, স্থানীয় ও কমিউনিটি পর্যায়ে খাদ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় অল্পসংখ্যক বড় খাদ্য কোম্পানি এবং বিদেশি আমদানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা রয়েছে কি না, সেটিও পর্যালোচনা করার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ কৃষি উৎপাদনকে মানুষের মৌলিক পুষ্টির প্রয়োজনের সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এর মধ্যে শাকসবজি, ফলমূল ও ডালজাতীয় খাদ্য উৎপাদনে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
তবে ব্রিটিশ সরকারের এক মুখপাত্র বলেছেন, খাদ্য নিরাপত্তাকে জাতীয় নিরাপত্তার অংশ হিসেবেই বিবেচনা করে সরকার। জরুরি পরিস্থিতির পরিকল্পনার মধ্যেও খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
সরকারের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, চরম আবহাওয়ার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় ৬ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ডের একটি স্থিতিস্থাপকতা তহবিল রয়েছে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন ও সরবরাহ ব্যবস্থার নিরাপত্তা জোরদার করতে একটি বিশেষ টাস্কফোর্সও গঠন করা হয়েছে।
সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান
এমকে

আরো পড়ুন

লন্ডনে গাজায় সামরিক অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় বার্ক্লেস ও টেস্কোর বাইরে প্রতিবাদ

যুক্তরাজ্যে সরকারি চুক্তিতে বাড়ছে ক্ষুদ্র ব্যবসার অংশঃ ২০২৮ সালের মধ্যে বড় অর্থপ্রবাহের ঘোষণা

চার দেশের শিক্ষার্থী ভিসা নিষেধাজ্ঞা চ্যালেঞ্জঃ ব্রিটিশ হাইকোর্টে লড়ছেন অক্সফোর্ডে সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থীরাও