দেশের বিশাল সমুদ্রসীমায় তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস অনুসন্ধান জোরদারে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রায় ১ লাখ ২১ হাজার বর্গকিলোমিটার বিস্তৃত অফশোর এলাকায় জ্বালানি অনুসন্ধান ও উত্তোলনের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর জন্য নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং সমুদ্রবক্ষে সম্ভাব্য খনিজ সম্পদ আহরণের জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে গভীর ও অগভীর সমুদ্র—উভয় ধরনের ব্লক অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
এর আগে ২০২৪ সালের লাইসেন্সিং রাউন্ডে কঠিন শর্তের কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সাড়া পাওয়া যায়নি। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এবার শর্ত কিছুটা শিথিল করা হয়েছে, যাতে আন্তর্জাতিক তেল-গ্যাস কোম্পানিগুলো আরও আগ্রহী হয়।
নতুন সংশোধিত কাঠামোতে ব্লক ফেরত দেওয়ার নিয়ম সহজ করা হয়েছে এবং কোম্পানিগুলোর ওপর আর্থিক বোঝা কমাতে কল্যাণ তহবিলে অবদানের পরিমাণ হ্রাস করা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হলো বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করে বিদেশি অংশগ্রহণ বাড়ানো।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিবেশী দেশ ভারত ও মিয়ানমার ইতোমধ্যে তাদের সমুদ্রসীমায় তেল-গ্যাস উত্তোলনের মাধ্যমে জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করেছে। একই পথে অগ্রসর হলে বাংলাদেশও দীর্ঘমেয়াদে আমদানি নির্ভরতা কমাতে পারবে।
সব মিলিয়ে, সমুদ্রসীমায় নতুন অনুসন্ধান উদ্যোগকে দেশের ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা সফল হলে আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে স্বনির্ভরতার পথে বড় অগ্রগতি আনতে পারে।
সূত্রঃ রয়টার্স
এম.কে

