TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটেনের কারাগারে বিদেশি বন্দিদের নিয়ে ফারাজের কড়া পরিকল্পনা

যুক্তরাজ্যের কারাগারে বন্দি বিদেশি নাগরিকদের অন্য দেশে পাঠিয়ে সাজা ভোগ করানোর বিতর্কিত পরিকল্পনা সামনে এনেছেন রিফর্ম ইউকে নেতা নাইজেল ফারাজ। দলটির দাবি, বর্তমানে ব্রিটিশ কারাগারগুলোতে ১০ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিক বন্দি রয়েছেন। তাদের সরিয়ে কারাগারের চাপ কমানোর পাশাপাশি গুরুতর অপরাধীদের পুরো সাজা ভোগ নিশ্চিত করতে চায় দলটি।

রিফর্ম ইউকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মধ্য আমেরিকার দেশ এল সালভাদরের সঙ্গে বিদেশি বন্দিদের জন্য কারাগারের জায়গা ভাড়া নেওয়ার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা চলছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, কোনো বিদেশি অপরাধীর নিজ দেশ তাকে ফিরিয়ে নিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে এল সালভাদর কিংবা কসোভোর মতো তৃতীয় কোনো দেশে পাঠিয়ে সাজা ভোগ করানোর ব্যবস্থা করা হতে পারে।

দলটির স্বরাষ্ট্রবিষয়ক মুখপাত্র জিয়া ইউসুফ বলেছেন, যুক্তরাজ্যের কারাগারে বর্তমানে ১০ হাজারের বেশি বিদেশি নাগরিক সেল দখল করে আছেন। তার দাবি, এ পরিস্থিতিতে কারাগারের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিদেশি বন্দিদের বিষয়ে আইনেও মৌলিক পরিবর্তন প্রয়োজন।

রিফর্ম ইউকের প্রস্তাবে হত্যা, অনিচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ এবং গুরুতর সহিংসতার মতো অপরাধে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের পুরো সাজা কারাগারে কাটানোর ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে। দলটির বক্তব্য, গুরুতর অপরাধে দণ্ডিত কেউ যেন সাজা শেষ হওয়ার আগেই কারাগার থেকে বেরিয়ে না আসেন, সেটিই তাদের অন্যতম লক্ষ্য।

জিয়া ইউসুফ বলেন, “আমরা আমাদের কারাগারগুলো থেকে সব বিদেশি নাগরিককে বহিষ্কার করব।” তিনি আরও দাবি করেন, নিজ দেশ যদি তাদের ফিরিয়ে নিতে না চায়, তাহলে এল সালভাদর ও কসোভোর মতো দেশে তাদের সাজা ভোগের ব্যবস্থা করা হবে।

রিফর্ম ইউকের মতে, বিদেশি বন্দিদের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হলে ব্রিটিশ কারাগারগুলোতে নতুন জায়গা তৈরি হবে। সেই জায়গা ব্যবহার করে গুরুতর অপরাধে দণ্ডিত ব্যক্তিদের দীর্ঘ সময় কারাগারে রাখার সুযোগ তৈরি করা যাবে।

কারাগারের ধারণক্ষমতা বাড়ানোর জন্যও বড় পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন নাইজেল ফারাজ। তিনি দ্রুত ১২ হাজার নতুন কারাগার-স্থান তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এ জন্য মহামারির সময় জরুরি ভিত্তিতে তৈরি অস্থায়ী হাসপাতালগুলোর আদলে অস্থায়ী ‘নাইটিঙ্গেল’ কারাগার নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এদিকে এল সালভাদরের সঙ্গে আলোচনাকে আরও এগিয়ে নিতে রিফর্ম ইউকের চেয়ারম্যান লি অ্যান্ডারসনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল দেশটি সফর করতে পারে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে সম্ভাব্য এই সফরে কারাগারের জায়গা ভাড়া নেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়নযোগ্য কি না, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

তবে বিদেশি নাগরিকদের তৃতীয় কোনো দেশে পাঠিয়ে সাজা ভোগ করানোর প্রস্তাবটি যুক্তরাজ্যে আইন ও মানবাধিকার নিয়ে বড় ধরনের বিতর্ক তৈরি করতে পারে। বন্দিদের অন্য দেশে স্থানান্তর, সেই দেশের কারাগারে তাদের নিরাপত্তা ও অধিকার এবং ব্রিটিশ আদালতের দেওয়া সাজা কীভাবে বিদেশের মাটিতে কার্যকর হবে—এসব প্রশ্নও সামনে আসতে পারে।

এল সালভাদরের কারাগারব্যবস্থা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা ও সমালোচনা রয়েছে। বিশেষ করে দেশটির কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং কারাগারে বিপুলসংখ্যক বন্দি রাখার বিষয়টি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর নজরে এসেছে। ফলে ব্রিটিশ বন্দিদের সেখানে পাঠানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে তা রাজনৈতিক ও আইনি উভয় দিক থেকেই ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।

রিফর্ম ইউকের প্রস্তাবটি মূলত যুক্তরাজ্যের কারাগারে জায়গার সংকট, বিদেশি অপরাধীদের ফেরত পাঠানো এবং গুরুতর অপরাধীদের পূর্ণ সাজা নিশ্চিত করার প্রশ্নকে একসঙ্গে সামনে এনেছে।

সূত্রঃ ডেইলি এক্সপ্রেস

এম.কে

আরো পড়ুন

‘ভুল বাক্সে টিক দেয়ায় আমার স্ত্রীর লিভ টু রিমেইন রিফিউজ হয়ে গেছে’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী হয়ে যুক্তরাজ্য সরকারে ফিরলেন ডেভিড ক্যামেরন

ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে চাপের কাছে নতি স্বীকার নয়ঃ কিয়ার স্টারমার