TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

পেট্রোলিয়াম লেভির বিরুদ্ধে জামায়াতের লং মার্চঃ স্থগিতের অনুরোধ শেহবাজের

পাকিস্তানে পেট্রোলিয়াম লেভির বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর ঘোষিত ইসলামাবাদমুখী লং মার্চ স্থগিতের অনুরোধ জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। একই সঙ্গে জ্বালানি কর নিয়ে জামায়াতের সঙ্গে অর্থবহ আলোচনায় বসার প্রস্তাবও দিয়েছেন তিনি। তবে সরকারের অনুরোধে কর্মসূচি স্থগিত করা হলেও প্রতিবাদ করার অধিকার দলটি ছাড়বে না বলে জানিয়েছেন জামায়াতের আমির হাফিজ নাঈমুর রহমান।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য নিউজ ইন্টারন্যাশনালের বরাতে চ্যানেল ২৪ জানিয়েছে, ইসলামাবাদমুখী লং মার্চের কর্মসূচি নিয়ে জামায়াতের আমির মুলতানে পৌঁছানোর পর তাকে ফোন করেন প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। এ সময় তিনি লং মার্চ স্থগিত রাখার অনুরোধ জানান এবং পেট্রোলিয়াম লেভি নিয়ে জামায়াতের সঙ্গে আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
জবাবে হাফিজ নাঈমুর রহমান বলেন, সরকারকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বা সংঘাতের মুখে ফেলা তাদের উদ্দেশ্য নয়। তবে জনগণের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরতেই তারা রাস্তায় নেমেছেন। তাই প্রতিবাদ করার অধিকারকে সরকারকে সম্মান করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী পরিষদ শুরার সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলেও জানান জামায়াতের আমির। তিনি স্পষ্ট করেন, সরকার যদি লং মার্চ স্থগিতের অনুরোধ জানায়, তবুও প্রতিবাদ করার অধিকার জামায়াতে ইসলামী ছাড়বে না।
এর আগে সোমবার গভীর রাতে জামায়াতের পেট্রোলিয়াম লেভিবিরোধী ট্রেন মার্চ মুলতানে পৌঁছায়। করাচি থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচির নেতৃত্ব দিচ্ছেন হাফিজ নাঈমুর রহমান। মুলতানে পৌঁছানোর পর রেলস্টেশনে সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন তিনি।
হাফিজ নাঈম বলেন, ট্রেনটি প্রায় চার ঘণ্টা দেরিতে মুলতানে পৌঁছেছে। তবে এই বিলম্বও সমর্থকদের মার্চকে স্বাগত জানাতে আসা থেকে বিরত রাখতে পারেনি। তার দাবি, বিভিন্ন এলাকায় মানুষ এই কর্মসূচিকে স্বাগত জানাচ্ছে।
জামায়াতের আমিরের অভিযোগ, পেট্রোলিয়াম লেভির মধ্যে এমন কিছু কর রয়েছে যা সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করছে। তিনি এই কর প্রত্যাহার এবং জনগণকে অর্থনৈতিক স্বস্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত মানুষের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরতেই তাদের এই আন্দোলন। সাধারণ মানুষের সমস্যাগুলো রাজনৈতিক দলগুলো যথাযথভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
পাকিস্তানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রসঙ্গও তুলে ধরেন হাফিজ নাঈম। বিশেষ করে গম, আটা ও চিনির দাম বৃদ্ধিকে সাধারণ ভোক্তাদের ওপর অর্থনৈতিক চাপের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
এ ছাড়া চিনি আমদানি ও রপ্তানির ক্ষেত্রে সরকারের নীতিতে অসঙ্গতি রয়েছে বলে অভিযোগ করেন জামায়াতের আমির। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আটা ও চিনি ব্যবসায়ীদের প্রভাব রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
স্বাধীন বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের সঙ্গে সরকারের চুক্তির বিষয়টিও তার বক্তব্যে উঠে আসে। এ ক্ষেত্রেও জামায়াতে ইসলামী অতীতে জনগণের স্বার্থে আন্দোলন করেছে বলে দাবি করেন তিনি।
জামায়াতের কর্মসূচি ইতোমধ্যে করাচি থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে ট্রেন ও সড়কপথে এগিয়ে যাচ্ছে। মুলতানের পর লাহোর হয়ে শেষ ধাপে ইসলামাবাদের দিকে অগ্রসর হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
এদিকে সরকার ও জামায়াতের মধ্যে আলোচনার প্রস্তাবের পর লং মার্চের পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে দলের অভ্যন্তরে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে পেট্রোলিয়াম লেভি নিয়ে সরকারের সঙ্গে জামায়াতের বিরোধ রাজনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে কতটা সমাধানের দিকে যায়, সেটিই এখন সামনে এসেছে।
সূত্রঃ দ্য নিউজ ইন্টারন্যাশনাল
এমকে

আরো পড়ুন

এবার ইসরায়েল ও নেতানিয়াহুর ওপর ‘বিরক্ত’ ট্রাম্প

চ্যাটজিপিটি নিষিদ্ধ করল ইতালি

ইরানে ফের হামলা নিয়ে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়