হার্টফোর্ডশায়ারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ও লেবার নেতা কিয়ার স্টারমার স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, দেশ বদলানোর যে দায়িত্ব জনগণ তাকে দিয়েছে, তা থেকে তিনি কখনোই সরে দাঁড়াবেন না। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা ও লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের প্রেক্ষাপটে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে ঐক্যের আহ্বান জানান।
স্টারমার বলেন, তার সরকারের প্রধান মনোযোগ এখন জীবনযাত্রার ব্যয় সংকট মোকাবিলা করা। তিনি ব্যক্তিগত জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, শৈশবে তার পরিবার নিয়মিত বিল পরিশোধ করতে পারত না, ফলে সাধারণ মানুষের সংগ্রাম তিনি গভীরভাবে উপলব্ধি করেন। তার নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভাকে তিনি দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে শ্রমজীবী শ্রেণিভিত্তিক মন্ত্রিসভা বলে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, সামাজিক পটভূমির কারণে এখনও বহু মানুষ পিছিয়ে পড়ছে। বিদ্যমান ব্যবস্থা তার ভাইয়ের মতো মানুষের জন্য কার্যকর হয়নি—যিনি প্রাপ্তবয়স্ক জীবনের বড় একটি সময় দারিদ্র্যের মধ্যে এক চাকরি থেকে আরেক চাকরিতে ঘুরে বেড়িয়েছেন। একই পরিস্থিতিতে থাকা মানুষ এখনও সমাজে রয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার লড়াই সেই তরুণদের জন্য, যারা তাদের প্রাপ্য সুযোগ পাচ্ছে না, এবং সেই লক্ষ লক্ষ মানুষের জন্য, যারা এমন এক ব্যবস্থার কারণে পিছিয়ে আছে, যা তাদের জন্য কাজ করছে না। তার লক্ষ্য হলো মানুষকে মর্যাদা, সম্মান এবং ন্যায্য সুযোগ নিশ্চিত করা।
সাম্প্রতিক সময়ে লেবার সরকারের ভেতরে বিভাজন নিয়ে যারা সমালোচনা করছেন, তাদের উদ্দেশে স্টারমার বলেন, লেবার সরকারের লড়াই নিজেদের মধ্যে নয়। তার ভাষায়, “আমি কখনোই সেই ম্যান্ডেট থেকে সরে দাঁড়াব না, যা আমাকে এই দেশ বদলাতে দেওয়া হয়েছে। যাদের জন্য লড়াই করার দায়িত্ব আমার ওপর অর্পিত হয়েছে, তাদের থেকেও আমি মুখ ফিরিয়ে নেব না।”
তিনি ব্রিটেনকে একটি সহানুভূতিশীল ও যুক্তিবাদী দেশ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, সুযোগ পেলে ব্রিটিশ জনগণ একে অপরকে সাহায্য করে। তার মতে, এই মূল্যবোধই দেশের প্রকৃত পরিচয়।
স্টারমার স্পষ্ট করে বলেন, সামনে যে রাজনৈতিক লড়াই আসছে, তা লেবার পার্টির অভ্যন্তরে নয়; বরং ডানপন্থী রাজনীতি, রিফর্ম পার্টির বিভাজনমূলক রাজনীতি এবং ক্ষোভের রাজনীতির বিরুদ্ধে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই ধরনের রাজনীতি দেশকে ছিন্নভিন্ন করে দিতে পারে।
শেষে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, যতদিন তার শরীরে প্রাণ থাকবে, ততদিন তিনি এই বিভাজন ও উগ্র ডানপন্থী রাজনীতির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবেন এবং দেশের প্রতিটি অংশের মানুষের সেবা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবেন।
সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান
এম.কে

