18.5 C
London
July 23, 2024
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিকশীর্ষ খবর

নিজের মায়ের নাম খুঁজে ফিরেন বাংলাদেশী যুদ্ধশিশু জেইন রাধিকা

মুক্তিযুদ্ধের সময়ের বাংলাদেশের বীরাঙ্গনা মহিলাদের হতে জন্ম নেয়া যুদ্ধ শিশুদের দূর্দশার কথা ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের একটি প্রতিবেদনে উঠে আসে। জেইন মাত্র পাঁচ বছর বয়সে বাংলাদেশের এক অনাথাশ্রম হতে ইংল্যান্ডে চলে আসেন।

জেইন রাধিকা নামের সেই অনাথ শিশুটি বর্তমানে পঞ্চাশোর্ধ একজন নারী। তিনি নিজেকে যুদ্ধ শিশু হিসেবে পরিচয় দিয়ে বলেন, “আমি কখনই জানতে পারি না আমি কোথা থেকে এসেছি, আমার মা আমাকে খুঁজতে খুঁজতে হয়ত তার জীবন কাটিয়েছেন”।

তিনি আরো বলেন, আমার জন্ম হয়েছিল ঢাকা মাদার তেরাসা অনাথালয়ে। আমার কোনো জন্মসনদ ছিল কিনা সেটাও আমি জানি না। হয়ত থাকলে আমার মায়ের নাম তাতে লেখা আছে।

রাধিকা মিডিয়াকে জানান তিনি বাংলাদেশ সম্পর্কে কিছুই জানেন না তবে তার মন পড়ে আছে ওখানে। শিকড়ের সন্ধান করতে গিয়ে তিনি ব্রিটিশ মিডিয়ায় একটি চিঠি লিখেন বলেও জানা যায়। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেছেন তিনি একজন যুদ্ধ শিশু।তার মা ৭১ সালের বীরাঙ্গনা ছিলেন কিন্তু তিনি তার মায়ের নাম জানেন না, তার জন্ম হয়েছিল ১৯৭২ সালে। গণমাধ্যম হতে যদি কোনো সাহায্য পাওয়া যায় তাহলে তিনি অনেক কৃতজ্ঞ হবেন বলেও তিনি জানান।

জেইন রাধিকার মতো অনেক যুদ্ধশিশু এখনও নিজেদের শিকড়ের সন্ধান করে যাচ্ছেন। যদিও তাদের মায়ের পরিচয় খুঁজে পেতে তারা ব্যর্থ হচ্ছেন তথাপি মাতৃভূমিতে বারবার ফিরে আসার টান তারা অনুভব করেন বলে সংবাদমাধ্যমকে জানান।

মুক্তিযুদ্ধকালে পাকিস্তানি হানাদারদের বর্বর নির্যাতনের শিকার হয়ে জন্ম নেওয়া কয়েক হাজার যুদ্ধশিশু এখন কোথায়, তা যেমন কেউ জানে না ঠিক তেমনি এদের মা কোথায় বা তাদের পরিচয় কি সেই ব্যাপারেও সঠিক তথ্য কোথাও উল্লেখ নেই বলে জানা যায়। এ-সংক্রান্ত তথ্য-উপাত্তও নেই সরকারি-বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির কাছে।

যুদ্ধশিশুর প্রকৃত সংখ্যা কত, তাও জানে না কেউ। কানাডার ইউনিসেফ কমিটির তৎকালীন নির্বাহী পরিচালক ১৯৭১ সালে অবরুদ্ধ বাংলাদেশে এবং পরে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে বেশ কয়েকবার সফর করে ঢাকায় ইউনিসেফ কর্মকর্তা ও লীগ অব রেড ক্রস সোসাইটিস প্রতিনিধিদের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনার পর অটোয়ায় সদর দপ্তরে ফিরে দেওয়া প্রতিবেদনে এ দেশে যুদ্ধশিশুর সংখ্যা ১০ হাজার বলে উল্লেখ করেছিলেন, যদিও এ সংখ্যা তখন সব মহলের সমর্থন পায়নি।

বাস্তব কারণেই ওই সময় যুদ্ধশিশুর সঠিক হিসাব রাখা সম্ভব হয়নি। ওই সব সন্তান প্রসবের ঘটনা গোপন রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছিল সন্তান ও মায়ের কথা চিন্তা করেই। এমনকি বিদেশে দত্তক দেওয়ার ক্ষেত্রেও এ-সংক্রান্ত তথ্য গোপন রাখার চেষ্টা করা হয়। কারণ কোন যুদ্ধশিশু কোন দেশে কোন ধর্মে কেমন পরিবেশে বেড়ে উঠবে তা জানাজানি হওয়াটা ছিল খুবই স্পর্শকাতর।

বাংলাদেশের যুদ্ধশিশুদের দত্তক নেওয়ার বিষয়ে প্রথম আগ্রহ প্রকাশ করে কানাডা। জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী মাদার তেরেসা ও তার মিশনারিজ অব চ্যারিটির সহকর্মীদের ব্যক্তিগত চেষ্টা এবং বাংলাদেশের শ্রম ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দুটি কানাডীয় সংগঠন দত্তক গ্রহণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়। এ সংগঠন দুটির একটি হচ্ছে মন্ট্রিয়লভিত্তিক আন্তর্দেশীয় দত্তকবিষয়ক সংস্থা ফ্যামিলিজ ফর চিলড্রেন এবং অন্যটি টরন্টোভিত্তিক বিশ্বের নির্যাতিত শিশুদের কল্যাণে নিয়োজিত ত্রাণ প্রতিষ্ঠান কুয়ান-ইন ফাউন্ডেশন।

পরবর্তী সময়ে আরো কিছু দেশ এ উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হয়, যার মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস, সুইডেন ও অস্ট্রেলিয়া।

এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক হোল্ট অ্যাডপশন প্রোগ্রাম ইন্ক ও টেরি ডেস হোমসের মতো অনেক সংগঠনও এগিয়ে আসে।

জানা যায়, ১৯৭২ সালের ১৯ জুলাই ১৫ যুদ্ধশিশুর প্রথম দলটি বাংলাদেশ থেকে কানাডায় পৌঁছায়। এ তথ্য তখন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। ওই সময় গণমাধ্যমে প্রচারিত মূল বার্তাটি ছিল, এ আন্তবর্ণ দত্তক কর্মসূচি একটি ইতিবাচক উদ্যোগ এবং বহু জাতি-বর্ণের সমন্বয়ে গঠিত কানাডীয়দের এ উদ্যোগকে স্বাগত জানানো উচিত। ১৫ যুদ্ধশিশুর প্রথম দলটি কানাডায় যাওয়ার পর বাংলাদেশ থেকে আরো অনেক যুদ্ধশিশুকে দত্তক নেওয়া হয় যুক্তরাজ্য,কানাডাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে।

এম.কে
১২ আগস্ট ২০২৩

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যের নতুন মন্ত্রিসভা গঠন, নেই কোনও ব্রিটিশ-বাংলাদেশি এমপি

প্রিন্স হ্যারির জন্মে খুশি ছিলেন না বাবা

‘আগস্টের মধ্যে করোনামুক্ত হবে যুক্তরাজ্য’