TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

পাকিস্তানে তুরস্কের সামরিক বিমানের ঘন ঘন আনাগোনাঃ উদ্বিগ্ন ভারত

পাকিস্তানের বিভিন্ন বিমানঘাঁটিতে তুরস্কের সামরিক পরিবহন বিমানের হঠাৎ ঘন ঘন যাতায়াত নিয়ে ভারতের প্রতিরক্ষা মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত ১৯ থেকে ২১ আগস্ট মাত্র ৬০ ঘণ্টার মধ্যে পাকিস্তানের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে তুরস্কের বেশ কয়েকটি সামরিক বিমান ওঠানামা করেছে বলে ফ্লাইট পর্যবেক্ষণ তথ্যের বরাতে জানিয়েছে ভারতের সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই তিন দিনে পাকিস্তানের নূর খান, মাসরুর ও মুরিদ বিমানঘাঁটিতে তুরস্কের সি-১৩০ হারকিউলিস ও এ-৪০০এম মডেলের সামরিক পরিবহন বিমান অবতরণ করে। এসব বিমানের মধ্যে ‘টিইউএএফ৫২৬’ সংকেত ব্যবহারকারী একটি বিমানও ছিল বলে উন্মুক্ত ফ্লাইট পর্যবেক্ষণ তথ্য থেকে জানা গেছে।

তবে এসব বিমানে কী ধরনের সরঞ্জাম বা সামরিক সামগ্রী পরিবহন করা হয়েছে, সে বিষয়ে তুরস্ক কিংবা পাকিস্তান কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য দেয়নি। ফলে সামরিক বিমানগুলোর এই তৎপরতার প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে বিভিন্ন মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে।

ভারতের প্রতিরক্ষা মহলে ধারণা করা হচ্ছে, তুরস্কের এসব বিমানে পাকিস্তানের জন্য সামরিক সরঞ্জাম আনা হয়ে থাকতে পারে। এর মধ্যে চালকবিহীন বিমান ও আকাশ প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম থাকার সম্ভাবনার কথাও আলোচনায় রয়েছে। তবে এসব বিমানে সত্যিই অস্ত্র বা সামরিক সরঞ্জাম ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ভারতীয় প্রতিরক্ষা মহলে আরও আলোচনা চলছে, তুরস্কের সামরিক পরিবহন বিমানের মাধ্যমে তুরস্কের বায়কার প্রতিষ্ঠানের নতুন প্রজন্মের আত্মঘাতী চালকবিহীন বিমান কে-২ এবং আসিসগার্ডের চালকবিহীন বিমান ব্যবস্থা পাকিস্তানে পৌঁছে থাকতে পারে। তবে এ দাবির পক্ষেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি।

তুরস্কের সামরিক বিমানগুলোর সাম্প্রতিক তৎপরতাকে গত ৭ আগস্ট পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’র প্রেক্ষাপটেও দেখছে ভারত। ওই চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করার কথা বলা হয়েছে।

চুক্তি স্বাক্ষরের পর পাকিস্তানে তুরস্কের সামরিক বিমানের ঘন ঘন যাতায়াতকে তাই বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছে ভারতের প্রতিরক্ষা মহল। এ পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, ভারতের সঙ্গে সম্ভাব্য নতুন সংঘাতের কথা মাথায় রেখে পাকিস্তান কি সামরিক প্রস্তুতি আরও জোরদার করছে?

ভারতের দাবি, গত বছরের মে মাসে ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর আগেও পাকিস্তান চীন ও তুরস্কের কাছ থেকে বিভিন্ন উন্নত সামরিক সরঞ্জাম পেয়েছিল। ওই সময় পাকিস্তানের কাছে চীনের পিএল-১৫ আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র এবং এইচকিউ-৯ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছিল বলে দাবি করেছিল ভারত।

এ ছাড়া তুরস্কের তৈরি বায়রাকতার চালকবিহীন বিমান এবং আসিসগার্ড সংস্থার সোঙ্গার আত্মঘাতী চালকবিহীন বিমান পাকিস্তানকে সরবরাহ করা হয়েছিল বলেও সে সময় দাবি করা হয়। ভারত আরও অভিযোগ করেছিল, সংঘাত চলাকালে চীন ও তুরস্ক পাকিস্তানকে যুদ্ধক্ষেত্রের তাৎক্ষণিক তথ্য এবং কৌশলগত সহায়তা দিয়েছিল।

সূত্রঃ টাইমস অব ইন্ডিয়া

এম.কে

আরো পড়ুন

ট্রাম্প–মোদি সরাসরি যোগাযোগ না হওয়ায় থেমে গেল ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি

বাংলাদেশ-নেপালের মতো এবার আন্দোলন শুরু হয়েছে ভারতে

মাঙ্কিপক্স নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরুরি অবস্থা ঘোষণা