রাশিয়ার সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তা ইউক্রেনকে গোপন সামরিক তথ্য দিয়ে রুশ বাহিনীর ৩০০ জনেরও বেশি সেনা নিহত হওয়ার ঘটনায় সহায়তা করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। ২৬ বছর বয়সী লেফটেন্যান্ট লেভ স্তুপনিকভ নিজ দেশের সামরিক বাহিনীর ওপর আস্থা হারিয়ে ইউক্রেনের পক্ষে কাজ শুরু করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের ভুহলেদার শহরের কাছে রুশ পদাতিক সেনা, চিকিৎসাকর্মী, কর্মকর্তা ও অন্যান্য সামরিক সদস্যদের একটি দল বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ওই দলের অবস্থান সম্পর্কে ইউক্রেনকে তথ্য দেন স্তুপনিকভ। তিনি সেনাদের সঠিক অবস্থান জানিয়ে গোপনে একটি ছবিও তুলে ইউক্রেনের গোয়েন্দাদের কাছে পাঠান।
হামলার আগে ইউক্রেনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এক ব্যক্তি তাকে সেখান থেকে সরে যেতে বলেন। বার্তায় প্রথমে তাকে চলে যেতে বলা হয়। পরে পাঠানো আরেকটি বার্তায় লেখা ছিল, ‘তুমি চলে গেছ—এমন বার্তার অপেক্ষায় আছি।’ এরপর তৃতীয় বার্তায় বড় অক্ষরে লেখা হয়, ‘চলে যাও।’
স্তুপনিকভ ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে জানান, তিনি শৌচাগারে যাওয়ার প্রয়োজনের কথা বলে সেখান থেকে সরে যান। এরপর কয়েকটি গাছের আড়ালে গিয়ে বসে পড়েন। কয়েক সেকেন্ড পর ইউক্রেনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিস্ফোরণের ধাক্কায় তিনি মাটিতে পড়ে যান।
হামলার পরপরই ইউক্রেনের পক্ষ থেকে তাকে একটি ছবি পাঠাতে বলা হয়। জবাবে তিনি বার্তা পাঠান, ‘শুধু মাংস পড়ে আছে।’
স্তুপনিকভের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ওই হামলায় ৬৮ জন নিহত এবং ৬০ জন আহত হন। নিহতদের মধ্যে ১০ জন কর্মকর্তা ছিলেন। ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচিত ৩৬তম মোটরচালিত রাইফেল ব্রিগেডের কমান্ডার কর্নেল গুসেইন মুসায়েভও ওই হামলায় নিহত হন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
রাশিয়া ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে দেশটির হাজার হাজার সেনা সামরিক বাহিনী ছেড়ে পালিয়েছেন। গত বছরের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় ৫০ হাজার রুশ সেনা সামরিক দায়িত্ব ছেড়েছেন। ইউক্রেনে মোতায়েন করা রুশ সেনাদের প্রায় ১০ শতাংশের সমান এই সংখ্যা।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সামরিক দায়িত্ব ছেড়ে পালানোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপরাধে প্রায় ১৬ হাজার সেনার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। যুদ্ধে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানানো সেনাদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগও তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে মারধর, অনাহারে রাখা এবং হত্যার হুমকি দেওয়ার মতো ঘটনাও রয়েছে।
সূত্রঃ ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল
এমকে

