TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

‘পৃথিবীর শেষ’ ঘনিয়ে আসছে—পারমাণবিক ইঙ্গিতে রুশদের ধর্মীয় প্রস্তুতির আহ্বান

রাশিয়ার কট্টর জাতীয়তাবাদী দার্শনিক ও ক্রেমলিনঘনিষ্ঠ চিন্তাবিদ আলেক্সান্ডার দুগিন রুশ জনগণকে সতর্ক করে বলেছেন, ‘পৃথিবীর শেষ’ খুব কাছেই চলে আসতে পারে। এক অনলাইন বার্তায় তিনি দাবি করেন, এমন একটি সময় আসতে পারে যখন মানুষের স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ আর থাকবে না।

 

দুগিন বলেন, অনন্তকাল যেকোনো মুহূর্তে শুরু হতে পারে এবং তখন আর কোনো সংশোধনের সুযোগ থাকবে না। তিনি যারা এখনও ধর্মীয় আচার গ্রহণ করেননি, তাদের দ্রুত তা গ্রহণ করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি যারা নিয়মিত গির্জায় যান না, তাদের অবিলম্বে ধর্মীয় জীবনে ফিরে আসার পরামর্শ দেন।

তার ভাষায়, পার্থিব সবকিছু একদিন হারিয়ে যাবে, কিন্তু ধর্মীয় বিশ্বাস ও ঈশ্বরের প্রতি আনুগত্যই তখন মানুষের সঙ্গে থাকবে। তিনি বলেন, দেরি না করে এখনই সেই পথ বেছে নেওয়া প্রয়োজন।

যদিও তার বক্তব্যে সরাসরি পারমাণবিক অস্ত্রের কথা বলা হয়নি, তবে বিশ্লেষকদের মতে তার ভাষা ও ইঙ্গিত রাশিয়ার পারমাণবিক যুদ্ধ-সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের প্রচারণার সঙ্গে মিল রয়েছে। সেখানে পারমাণবিক সংঘর্ষকে শুধু সামরিক ধ্বংস নয়, বরং সভ্যতার এক চূড়ান্ত বিভাজন হিসেবে দেখা হয়।

এই বক্তব্য এসেছে এমন এক সময়ে, যখন ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ চতুর্থ বছরে গড়িয়েছে এবং মস্কো নতুন করে পারমাণবিক শক্তি প্রদর্শনের পথে এগোচ্ছে। সম্প্রতি রাশিয়া ‘ওরেশনিক’ নামে একটি পারমাণবিক সক্ষম হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ইউক্রেনে ব্যবহার করেছে, যা ন্যাটো সদস্য পোল্যান্ডের সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় আঘাত হানে।

ঘণ্টায় প্রায় ৮ হাজার মাইল গতিসম্পন্ন এই ক্ষেপণাস্ত্রটি পোল্যান্ডের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় শনাক্ত হলেও ন্যাটোর যুদ্ধবিমানগুলো তখন আকাশে ওঠেনি। রুশ কর্মকর্তারা এটিকে কৌশলগত প্রতিরোধ শক্তির অংশ হিসেবে তুলে ধরছেন।

দুগিন আরও বলেন, মানুষের হাতে থাকা স্বাধীনতার সময় খুব সীমিত। তার মতে, একমাত্র ত্রাণকর্তার ওপর বিশ্বাসই এখন শেষ ভরসা, এবং কোনো বিলম্ব না করে সেই পথেই অগ্রসর হওয়া উচিত।

রাশিয়ার ধর্মভিত্তিক জাতীয়তাবাদী চিন্তাবিদদের মধ্যে পারমাণবিক যুদ্ধকে বহুদিন ধরেই ইতিহাসের শেষ সীমা হিসেবে দেখা হয়। দুগিন নিজেও মনে করেন, রাশিয়া পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে এক গভীর সভ্যতাগত সংঘাতে লিপ্ত, যেখানে বড় ধরনের ত্যাগ স্বীকারও অনিবার্য হতে পারে।

২০২২ সালে মস্কোর কাছে এক গাড়িবোমা হামলায় দুগিনের মেয়ে দারিয়া দুগিনার নিহত হওয়ার পর তার বক্তব্য আরও বেশি রহস্যময় ও নিয়তির ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠেছে। রুশ কর্তৃপক্ষ ওই হামলার জন্য ইউক্রেনকে দায়ী করলেও অনেকের মতে, প্রকৃত লক্ষ্য ছিলেন দুগিন নিজেই।

বিশ্লেষকদের মতে, দুগিনের এই বক্তব্য রুশ সমাজকে মানসিকভাবে চরম উত্তেজনা ও সম্ভাব্য বড় ধরনের সংঘাতের জন্য প্রস্তুত করার একটি প্রচেষ্টা। ধর্মীয় ভাষা ব্যবহার করে ভয়াবহ ধ্বংসকে স্বাভাবিক ও মেনে নেওয়ার মতো করে উপস্থাপন করাই এর মূল উদ্দেশ্য বলে মনে করছেন তারা।

সূত্রঃ দ্য এক্সপ্রেস

এম.কে

আরো পড়ুন

প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে প্যারাসিটামলঃ ব্রিটিশ বিজ্ঞানীদের যুগান্তকারী আবিষ্কার

ভিনদেশী সিনেমা দেখলেই শিশুদের ঢুকানো হবে জেলে

রাশিয়া তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু করতে পারে, প্রস্তুতি নিচ্ছে জার্মানি