ব্রিটেনের রাষ্ট্রীয় পেনশনের ‘ট্রিপল লক’ ব্যবস্থা নিয়ে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম। লেবার পার্টির সম্মেলনে মঙ্গলবারের ভাষণে তিনি এই ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে বিস্তারিত ঘোষণা দিতে পারেন বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
‘ট্রিপল লক’ অনুযায়ী প্রতি বছর এপ্রিল মাসে রাষ্ট্রীয় পেনশন বাড়ানো হয় তিনটি সূচকের মধ্যে যেটি সবচেয়ে বেশি—মুদ্রাস্ফীতি, আগের বছরের মে থেকে জুলাই পর্যন্ত গড় মজুরি বৃদ্ধির হার অথবা ২ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০১১ সালে এই ব্যবস্থা চালু করা হয়।
বার্নহাম বর্তমান কাঠামো পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা বলতে পারেন এবং পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনের জন্য লেবার পার্টির ইশতেহারে ট্রিপল লক পর্যালোচনার প্রতিশ্রুতি রাখার বিষয়টি সামনে আনতে পারেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
আইটিভি নিউজের রাজনৈতিক সম্পাদক রবার্ট পেস্টন জানিয়েছেন, বার্নহামের সাম্প্রতিক বক্তব্য থেকে তার ধারণা হয়েছে যে, বয়স্কদের জন্য বিনামূল্যে সামাজিক সেবাব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনার অর্থায়নে ট্রিপল লক সংস্কারের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। তবে পেস্টন নিজেই উল্লেখ করেছেন, বার্নহামের পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত নন এবং প্রধানমন্ত্রী মঙ্গলবারের সম্মেলন ভাষণে আরও বিস্তারিত জানাবেন।
বার্নহাম এর আগে বলেছেন, ইংল্যান্ডের সামাজিক সেবাব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কার তার সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। তিনি এমন একটি ব্যবস্থা চান, যা এনএইচএসের নীতির মতো কাজ করবে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অর্থ কোথা থেকে আসবে, সে বিষয়ে তিনি এখনো নির্দিষ্ট কাঠামো প্রকাশ করেননি।
আইটিভি নিউজ জানিয়েছে, ইংল্যান্ডে সবার জন্য রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে ব্যক্তিগত সামাজিক যত্ন নিশ্চিত করতে বছরে অতিরিক্ত প্রায় ১৮ দশমিক ৫ বিলিয়ন পাউন্ড প্রয়োজন হতে পারে। বর্তমানে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ইংল্যান্ডে প্রাপ্তবয়স্ক সামাজিক যত্নে মোট নিট ব্যয় ছিল প্রায় ২৮ দশমিক ৭ বিলিয়ন পাউন্ড।
ট্রিপল লক সংস্কারের বিষয়ে লেবার দলের ভেতরেও মতভেদ রয়েছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং বলেছেন, পরবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত ট্রিপল লক বহাল থাকবে এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার ব্যবস্থা পরিবর্তন করছে না। তবে পরবর্তী নির্বাচনী ইশতেহারেও ট্রিপল লক রাখা হবে কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত করেননি।
ইউনাইটেড ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শ্যারন গ্রাহাম ট্রিপল লক বাতিলের সম্ভাবনার বিরোধিতা করেছেন। দ্য টাইমসকে তিনি বলেন, এটি বাতিল করা হলে তা নির্বাচনীভাবে বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে এবং তিনি নৈতিকভাবেও এর পক্ষে নন। এটি তার রাজনৈতিক মূল্যায়ন হিসেবে প্রকাশ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, সাবেক ক্যাবিনেট মন্ত্রী ড্যারেন জোন্স বলেছেন, ট্রিপল লক সরকারের জন্য ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে এবং এর কিছু সংস্কারের মাধ্যমে সামাজিক যত্নের মতো খাতে অর্থ পুনর্বণ্টনের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
সরকারের বর্তমান অবস্থান অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পূর্ণ নতুন রাষ্ট্রীয় পেনশন সপ্তাহে ২৪১ দশমিক ৩০ পাউন্ড হয়েছে। ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে ট্রিপল লকের আওতায় পেনশন ৪ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।
অ্যান্ডি বার্নহামের মঙ্গলবারের লেবার পার্টি সম্মেলনের ভাষণে ট্রিপল লক ও সামাজিক সেবা—দুই বিষয়েই আরও স্পষ্ট পরিকল্পনা প্রকাশের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। তার বক্তব্যের পরই পরবর্তী নির্বাচনী ইশতেহারে পেনশন বৃদ্ধির বর্তমান কাঠামো রাখা হবে কি না, সে বিষয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও স্পষ্ট হতে পারে।
সূত্রঃ ডেইলি এক্সপ্রেস\ আইটিভি নিউজ
এম.কে

