ইসরায়েলের একজন ফিলিস্তিনি নাগরিককে যুক্তরাজ্যে শরণার্থী মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব জেমস ক্লেভারলির হস্তক্ষেপ সত্ত্বেও, আদালতের দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর হাসান অবশেষে নিরাপদে যুক্তরাজ্যে থাকতে পারবেন।
২৬ বছর বয়সী হাসান (যাকে আদালতের নির্দেশে নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না) যুক্তরাজ্যে আশ্রয় পাওয়া ইসরায়েলি পাসপোর্টধারী প্রথম ফিলিস্তিনি বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই সিদ্ধান্ত আসতে হোম অফিসকে দুইবার অবস্থান পরিবর্তন করতে হয়।
হাসান ইসরায়েলে জন্মগ্রহণ করলেও জীবনের প্রায় পুরো সময় যুক্তরাজ্যে তার মা ও ভাইবোনদের সঙ্গে কাটিয়েছেন।
তিনি আশ্রয় আবেদন করেন এই যুক্তিতে যে, ইসরায়েলে ফেরত গেলে তিনি নির্যাতনের শিকার হবেন, কারণ তিনি যুক্তরাজ্যে থাকাকালীন অনলাইনে ও সরাসরি ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন। এছাড়া একজন ফিলিস্তিনি ও মুসলিম হওয়ায় সেখানে বৈষম্যের শিকার হবারও আশঙ্কা ছিল।
প্রাথমিকভাবে তার আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়। তবে ১১ মার্চ ২০২৪, ফার্স্ট-টিয়ার ট্রাইব্যুনালের শুনানির ঠিক আগের দিন, তাকে জানানো হয় যে নিরাপত্তা যাচাই সাপেক্ষে তাকে শরণার্থী মর্যাদা দেওয়া হবে। কিন্তু মিডিয়া রিপোর্টের পর, স্বরাষ্ট্র সচিব জেমস ক্লেভারলির হস্তক্ষেপে হোম অফিস সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে।
JCWI-এর সহায়তায় হাসান বিচারিক রিভিউ চালান। হোম অফিসের আপিল বাতিল হওয়ার পর বড়দিনের আগে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে আশ্রয় মর্যাদা দেওয়া হয়। হাসান জানান, সাত বছরের এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় তিনি কাজ করা, পড়াশোনা এবং বাসা ভাড়া নেওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিলেন। এছাড়া তাকে তার কমিউনিটি থেকে জোরপূর্বক ইসরায়েলে পাঠানোর হুমকি সহ্য করতে হয়েছে।
জুডিশিয়াল রিভিউতে প্রকাশিত নথিতে দেখা গেছে, ১১ মার্চ ২০২৪-এর সিদ্ধান্তে বলা হয়েছিল—ইসরায়েলে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে কাঠামোগত বৈষম্য, জোরপূর্বক উচ্ছেদ, অধিকার সীমাবদ্ধতা এবং সমাজ থেকে বঞ্চনার “প্রচুর প্রমাণ” রয়েছে।
হাসানের সলিসিটর তাহের গুলামহুসেইন বলেন, “তিনজন হোম অফিস কর্মকর্তাই একমত ছিলেন যে হাসান একজন শরণার্থী এবং ইসরায়েলের হাতে নির্যাতনের ঝুঁকিতে রয়েছেন।
কিন্তু স্বরাষ্ট্র সচিব এবং হোম অফিস অযথা সরকারি অর্থ ব্যয় করে এই স্বীকৃতি অস্বীকার করার চেষ্টা করেছে।”
JCWI-এর মুখপাত্র সিমা সাইদা বলেন, সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন থাকতে পারে—ইসরায়েল কি স্বরাষ্ট্র সচিবের ওপর কূটনৈতিক চাপ প্রয়োগ করেছিল। হাসান এখন ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা চালাচ্ছেন এবং তার ই-ভিসা পেতে বিলম্বের কারণে হতাশ।
এই ঘটনার মাধ্যমে দেখা যায়, যুক্তরাজ্যের শরণার্থী আইন ও বিচারব্যবস্থা কঠোর আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে কার্যকর হলেও, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও প্রশাসনিক দ্বন্দ্ব শরণার্থীদের জীবনে দীর্ঘ অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করতে পারে।
সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান
এম.কে

