15.7 C
London
May 21, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ফ্রান্সে ফেরত পাঠানোর আগে আত্মহত্যার চেষ্টাঃ স্থগিত আশ্রয়প্রার্থীর বহিষ্কার

যুক্তরাজ্যের বিতর্কিত “ওয়ান ইন ওয়ান আউট” আশ্রয়নীতিকে ঘিরে নতুন করে সমালোচনা শুরু হয়েছে। ফ্রান্সে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানোর নির্ধারিত সময়ের আগেই এক ইরিত্রীয় আশ্রয়প্রার্থী আত্মহত্যার চেষ্টা করার পর তার বহিষ্কার কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।

জানা গেছে, ওই ব্যক্তি ছোট নৌকায় করে ফ্রান্স থেকে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেছিলেন এবং সরকার ঘোষিত “ওয়ান ইন ওয়ান আউট” কর্মসূচির আওতায় তাকে ফেরত পাঠানোর প্রস্তুতি চলছিল। কিন্তু বহিষ্কারের টিকিট পাওয়ার পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং নিজের জীবন নেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

আটক কেন্দ্রে থাকা অন্য ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, ফ্রান্সে ফেরত গেলে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি আতঙ্কে ছিলেন। তাদের দাবি, ব্যক্তিগত পরিস্থিতির কারণে তিনি আশঙ্কা করছিলেন যে সেখানে গেলে আবারও বিপদের মুখে পড়তে পারেন।

ঘটনার পর তার সেলমেট তাকে সংকটাপন্ন অবস্থায় দেখতে পেয়ে কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেন। বর্তমানে তাকে আটক কেন্দ্রে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
গত বছরের আগস্টে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের মধ্যে হওয়া চুক্তির আওতায় “ওয়ান ইন ওয়ান আউট” কর্মসূচি চালু হয়।

এই ব্যবস্থায় ছোট নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে পৌঁছানো একজন আশ্রয়প্রার্থীকে ফ্রান্সে ফেরত পাঠানো হলে বিনিময়ে এমন একজনকে যুক্তরাজ্যে আনা হয়, যিনি অবৈধভাবে চ্যানেল অতিক্রমের চেষ্টা করেননি।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত ৬০৫ জনকে ফ্রান্সে ফেরত পাঠানো হয়েছে এবং একই সময়ে ৫৮১ জনকে যুক্তরাজ্যে আনা হয়েছে। এছাড়া ৯ মে মাত্র তিনটি নৌকায় করেই ১৯৬ জন ইংলিশ চ্যানেল অতিক্রম করেছেন।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, আটক কেন্দ্রে থাকা বহু আশ্রয়প্রার্থী ভয়াবহ মানসিক সংকটের মধ্যে রয়েছেন। যুদ্ধ, নির্যাতন, মানবপাচার ও সহিংসতার অভিজ্ঞতা নিয়ে অনেকেই যুক্তরাজ্যে পৌঁছান। ফলে বহিষ্কারের আশঙ্কা তাদের মানসিক অবস্থাকে আরও বিপজ্জনক করে তোলে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এক আটক ব্যক্তি জানান, ওই ব্যক্তি প্রায় ১৭ বা ১৮ দিন ধরে আটক ছিলেন। ফ্রান্সে ফেরত পাঠানোর খবর পাওয়ার পর থেকেই তিনি ভেঙে পড়েছিলেন।

তার ভাষায়, “ তিনি বলছিলেন, জীবনে যা কিছু সহ্য করেছেন তার পর তিনি আর মানসিকভাবে টিকতে পারছেন না। আমরা কেউই চাই না, কাউকে শুধু ফ্রান্সে পাঠানোর কারণে নিজের জীবন শেষ করার চেষ্টা করতে হোক।”

অভিবাসন আটক ব্যক্তিদের সহায়তাকারী মানবাধিকার সংস্থা মেডিক্যাল জাস্টিস বলেছে, তাদের মূল্যায়ন করা ২০ জন আটক ব্যক্তির প্রত্যেকের মধ্যেই নির্যাতন, অমানবিক আচরণ অথবা মানবপাচারের শিকার হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। একইসঙ্গে সবার মধ্যেই গুরুতর মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার লক্ষণ ছিল।

সংস্থাটির পরিচালক এমা জিন বলেন,
“এই ধরনের গুরুতর আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন্য সতর্কবার্তা। আমরা বহুবার সতর্ক করেছি যে বর্তমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা এতটাই দুর্বল যে এর ফলে আরও আত্মহত্যার চেষ্টা এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে।”

মানবাধিকারকর্মীরা অভিযোগ করেছেন, আত্মক্ষতির ইতিহাস থাকা সত্ত্বেও অনেক আশ্রয়প্রার্থীকে চিকিৎসা পরীক্ষার পর ভ্রমণের উপযোগী ঘোষণা করে বহিষ্কার করা হচ্ছে।

সম্প্রতি এমন এক ব্যক্তিকেও বিমানে তোলা হয়েছিল, যার শরীরজুড়ে আত্মক্ষতির দাগ ছিল এবং তিনি ব্যান্ডেজে মোড়ানো অবস্থায় ছিলেন।

এ ঘটনায় আবারও যুক্তরাজ্যের আশ্রয় ও আটক নীতির মানবিক দিক নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কঠোর অভিবাসন নীতির পাশাপাশি আশ্রয়প্রার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না করা হলে ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ ঘটনা ঘটতে পারে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

ইউকে সরকার আশ্রয়প্রার্থী হোটেল হামলার ‘সহযোগী’

হিথ্রোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় যাত্রীরা

যুক্তরাজ্যে মুদ্রাস্ফীতি আরো বাড়তে পারে