13.5 C
London
June 10, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে শিক্ষাঋণের শর্ত পরিবর্তনের পক্ষে সরকারঃ বাড়ছে শিক্ষার্থীদের অসন্তোষ

শিক্ষাঋণ ব্যবস্থায় সাম্প্রতিক পরিবর্তন নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে যুক্তরাজ্য সরকার। সরকারের দাবি, শিক্ষাঋণ বাণিজ্যিক ঋণের মতো নয় এবং এতে বিপুল পরিমাণ সরকারি ভর্তুকি থাকায় প্রয়োজন অনুযায়ী এর কিছু শর্ত পরিবর্তনের অধিকার সরকারের রয়েছে।

বুধবার পার্লামেন্টের ট্রেজারি সিলেক্ট কমিটির শুনানিতে প্রধান অর্থ সচিব লুসি রিগবি বলেন, দেশের অর্ধেকেরও কম তরুণ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পান। ফলে শিক্ষাঋণ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় শুধু শিক্ষার্থীদের স্বার্থ নয়, সামগ্রিকভাবে করদাতাদের স্বার্থও বিবেচনায় নিতে হয়।

বর্তমান বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের লাখো শিক্ষার্থীর নেওয়া ‘প্ল্যান-২’ শিক্ষাঋণ। এই ঋণের আওতায় থাকা অনেক স্নাতক প্রতি মাসে বেতন থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করলেও ঋণের ওপর যোগ হওয়া সুদের কারণে তাদের মোট বকেয়া ঋণ কমার পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রেই বেড়ে যাচ্ছে।

পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে গত বছর অর্থমন্ত্রী র‍্যাচেল রিভসের সিদ্ধান্তের পর। তিনি প্ল্যান-২ শিক্ষাঋণ পরিশোধের জন্য নির্ধারিত ন্যূনতম আয়ের সীমা তিন বছরের জন্য স্থির রাখার ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে অনেক শিক্ষাঋণে মূল্যস্ফীতির চেয়ে বেশি হারে সুদ আরোপের বিষয়টিও নতুন করে সমালোচনার জন্ম দেয়।

ভোক্তা অধিকারবিষয়ক বিশেষজ্ঞ মার্টিন লুইস এ বিষয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, কোনো বাণিজ্যিক ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান এভাবে ঋণের শর্ত পরিবর্তন করতে পারত না। তার মতে, এমন পদক্ষেপ ভোক্তা অধিকার আইনের পরিপন্থী হতো।

তবে লুসি রিগবি এই যুক্তি প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, অধিকাংশ শিক্ষার্থী বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে পারেন না। কারণ তাদের পর্যাপ্ত ঋণ ইতিহাস বা জামানত থাকে না। এছাড়া শিক্ষাঋণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট আয়ের সীমার নিচে থাকলে ঋণ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা থাকে না এবং নির্দিষ্ট সময় পর বকেয়া অর্থ মওকুফের সুযোগও রয়েছে।

তিনি বলেন, “নামের কারণে এগুলোকে শিক্ষাঋণ বলা হলেও এগুলো প্রচলিত বাণিজ্যিক ঋণের মতো নয়। সরকার যখন এই ব্যবস্থায় ব্যাপক ভর্তুকি দিচ্ছে, তখন কিছু শর্ত পরিবর্তনের অধিকারও সরকারের রয়েছে।”

এদিকে ট্রেজারি সিলেক্ট কমিটি বর্তমানে শিক্ষাঋণ ব্যবস্থা এবং স্নাতকদের ওপর আরোপিত আর্থিক বোঝা নিয়ে তদন্ত করছে। গত সপ্তাহে বিভিন্ন অধিকারকর্মী কমিটিকে জানান, অনেক স্নাতক মনে করছেন তাদেরকে বয়স্ক জনগোষ্ঠীর জন্য নেওয়া বিভিন্ন সরকারি উদ্যোগের ব্যয় মেটানোর মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

২০১৯ সালে উচ্চশিক্ষাবিষয়ক সরকারি পর্যালোচনার নেতৃত্ব দেওয়া ফিলিপ অগার সম্প্রতি বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করেছেন গাড়ি ঋণ এবং পেমেন্ট প্রোটেকশন ইনস্যুরেন্স সংক্রান্ত ভুল বিক্রির কেলেঙ্কারির সঙ্গে।

তবে এই তুলনার সঙ্গে একমত নন দক্ষতাবিষয়ক মন্ত্রী জ্যাকি স্মিথ। তিনি বলেন, “আমি মনে করি এ ধরনের তুলনা সঠিক নয়। শিক্ষাঋণের বিষয়টি ওই ধরনের আর্থিক কেলেঙ্কারির সমতুল্য নয়।”

ট্রেজারি কমিটির সাম্প্রতিক তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমে ৫২ হাজারের বেশি মানুষ অংশ নিয়েছেন। তাদের অনেকেই শিক্ষাঋণের সুদের হারকে “অত্যধিক” এবং “বাড়ির মর্টগেজের চেয়েও বেশি” বলে বর্ণনা করেছেন। আবার কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, ঋণ নেওয়ার সময় তাদের জানানো হয়েছিল যে পরিশোধের জন্য নির্ধারিত আয়ের সীমা মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাড়ানো হবে।

সমালোচনার জবাবে সরকার বলছে, তারা বর্তমান শিক্ষাঋণ ব্যবস্থা পূর্ববর্তী প্রশাসনের কাছ থেকে পেয়েছে এবং এটিকে আরও ন্যায্য করার জন্য ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সরকারের এক মুখপাত্র জানান, ২০২১ সালের পর প্রথমবারের মতো শিক্ষাঋণ পরিশোধের আয়ের সীমা বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাশাপাশি চলতি বছরে ঋণের সর্বোচ্চ সুদের হার নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে, যাতে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাব থেকে স্নাতকেরা কিছুটা সুরক্ষা পান।

তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনভিত্তিক রক্ষণাবেক্ষণ অনুদান পুনরায় চালু করা হয়েছে। বর্তমান ব্যবস্থায় কম আয়ের স্নাতকদের জন্য বিশেষ সুরক্ষা রয়েছে, কারণ তাদের পরিশোধের পরিমাণ আয়ের ওপর নির্ভরশীল এবং ঋণের মেয়াদ শেষে বকেয়া ঋণ ও সুদ মওকুফ হয়ে যায়।

তবে সরকারের এসব ব্যাখ্যা সত্ত্বেও শিক্ষাঋণের ক্রমবর্ধমান বোঝা নিয়ে উদ্বেগ কমছে না। বিশেষ করে উচ্চ সুদের হার এবং ঋণের শর্ত পরিবর্তনের বিষয়টি নিয়ে লাখো স্নাতকের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। ফলে যুক্তরাজ্যের শিক্ষাঋণ ব্যবস্থা সংস্কারের দাবি এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি জোরালো হয়ে উঠেছে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

আয়ারল্যান্ডে আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য কঠোর নিয়মঃ কাজ করলে আবাসন খরচ বহন বাধ্যতামূলক

যুক্তরাজ্যের সীমান্ত সুরক্ষায় যা কিছু প্রয়োজন, করবঃ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ

যুক্তরাজ্যে রুয়ান্ডা নীতি নিয়ে সুপ্রিমকোর্টের রায়ের সারসংক্ষেপঃ