12.9 C
London
October 19, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

‘ফ্রান্স জ্বলছে’, অভিবাসন ঠেকাতে সীমান্ত বন্ধের আহ্বান ট্রাম্পের

ফ্রান্সে চলমান সহিংসতা ও অস্থিরতার জন্য অভিবাসনকে দায়ী করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ১৮ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, অভিবাসনের কারণে একসময়ের মহান ফ্রান্স বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আগেই দেশটির সীমান্ত বন্ধ করে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের আহ্বান জানান তিনি।

ট্রাম্প তার পোস্টে লেখেন, ‘ফ্রান্স জ্বলছে! সম্পূর্ণ ভিন্ন এক জগতের মানুষের অভিবাসন, যাদের হৃদয়ে ঘৃণা রয়েছে, একসময়ের মহান দেশটিকে বিধ্বস্ত করেছে। অনেক দেরি হওয়ার আগেই সীমান্ত বন্ধ করুন এবং পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ নিন।’ তার এই মন্তব্য ফ্রান্সের অভিবাসননীতি ও চলমান সহিংসতা নিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে।

ফ্রান্সজুড়ে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি এবং সরকারি সেবা নিয়ে অসন্তোষ থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। রাজধানী প্যারিসসহ লিয়ঁ, মার্সেই, বোর্দো ও লিমোজ শহরে সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে। লিমোজ শহরের ঐতিহাসিক সিটি হলেও আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। তবে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া সবাই সহিংসতায় জড়িত ছিলেন না; বিপুলসংখ্যক মানুষ শান্তিপূর্ণভাবেও প্রতিবাদে অংশ নেন।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সহিংসতার ঘটনায় দেশজুড়ে দুই হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আহত হয়েছেন ৬০০-এর বেশি পুলিশ, জেন্ডারমেরি সদস্য ও অগ্নিনির্বাপণকর্মী। পরিস্থিতির পূর্ণ হিসাব তখনও চূড়ান্ত হয়নি বলে জানানো হয়।

ফ্রান্সের বাণিজ্য ও বিতরণ ফেডারেশনের হিসাবে, দাঙ্গা ও লুটপাটে প্রায় দেড় হাজার দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কয়েকশ মিলিয়ন ইউরোতে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সহিংসতার পরিপ্রেক্ষিতে দেশটির সরকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

ট্রাম্পের মন্তব্যের আগে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সও ফ্রান্সসহ পশ্চিমা দেশগুলোতে অভিবাসন ও অভিবাসীদের একীভূত হওয়ার বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করেছিলেন। ফ্রান্সের সাম্প্রতিক অস্থিরতাকে অভিবাসনের ফল হিসেবে তুলে ধরলেও প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে বিক্ষোভের পেছনে জীবনযাত্রার ব্যয়, সরকারি ব্যয় ও জনসেবার মান নিয়ে অসন্তোষের কথাও উঠে এসেছে। ফলে ফ্রান্সের সংকটকে শুধু অভিবাসনের সঙ্গে যুক্ত করে দেখার বিষয়টি রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান\ এএফপি

এমকে

আরো পড়ুন

ভারতের এক রাজ্য ‘অচল’ করে দিলেন কৃষকরা

নিউজ ডেস্ক

কেমব্রিজ সেন্ট্রাল মসজিদঃ পরিবেশবান্ধব ইসলামী স্থাপত্যের আদর্শ নমুনা

৪৯ সেকেন্ডের ‘ইউ নেভার টেক মি টু বাংলাদেশ’ ঝড় তুলেছে টিকটক–ইনস্টাগ্রামে