12.1 C
London
May 21, 2024
TV3 BANGLA
প্রবাসে বাংলাদেশ

ফ্রি ভিসার খপ্পরে পড়ে মধ্যপ্রাচ্য হতে বাংলাদেশের শ্রমিকেরা ফিরছেন নিঃস্ব হয়ে

মধ্যপ্রাচ্য হতে বাংলাদেশে ফিরছেন শ্রমিকেরা অবৈধ অভিবাসীর নাম লাগিয়ে। যা গত কয়েক বছর হতেই ঘটে যাচ্ছে। বাংলাদেশ থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শ্রমিক পাঠানোর কাজটি করে মূলত রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো। নির্দিষ্ট চাকরি, বেতনের অঙ্ক ইত্যাদি উল্লেখ করে চুক্তির মাধ্যমে শ্রমিক পাঠানো হলেও প্রায় সময়ই কাগজ আর বাস্তবতার মধ্যে মিল থাকে না বলেই অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

তবে মূল সমস্যাটা হচ্ছে ফ্রি ভিসা। রিক্রুটিং এজেন্সি এবং সরকারি প্রতিষ্ঠান জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো বা বিএমইটি বলছে প্রতি বছর যত জনশক্তি রপ্তানি হচ্ছে তার ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশই যায় ফ্রি ভিসায়। এই যাওয়ার ক্ষেত্রে আবার অর্থের বিনিময়ে তাদের কাগজপত্র করে দিচ্ছে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো। যদিও এজেন্সিগুলো এর পুরো দায় নিতে নারাজ।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিজ (বায়রা) এর মহাসচিব আলী হায়দার চৌধুরী বলেন, শ্রমকিদের ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসার একক কোনো কারণ নেই।

মি. চৌধুরী বলেন , “ অনেক শ্রমিক বিদেশে গিয়ে যে প্রজেক্টে তার কাজ, সেখানে কাজ করছে না। বেশি বেতন পেলে সে অন্য কোনো প্রজেক্টে চলে যাচ্ছে। কিন্তু এটা আইনগতভাবে বৈধ না। কিন্তু তারা এই ঝুঁকিটা নিচ্ছে। ধরা পড়লে কিন্তু তখন তাদেরকে ফেরত আসতে হয়।”

“আর যারা ফ্রি ভিসায় যাচ্ছে আত্মীয়-স্বজনের মাধ্যমে সেখানে টাকাটার লেনদেন হয় মূলত আত্মীয়-স্বজনদের কাছেই। এখানে কিছু রিক্রুটিং এজেন্সি শুধু সরকারি আনুষ্ঠানিকতাটা করে দেয়। সুতরাং এখানে পুরো দায়টা শুধু এজেন্সিগুলোকে দিলে হবে না।”

মি. চৌধুরী জানান, বায়রা যদি কোনো এজেন্সির বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ পায়, সেটির সত্যতা থাকলে সেই এজেন্সির লাইসেন্স বাতিলের জন্য মন্ত্রণালয়ের কাছে সুপারিশ করে।

শ্রমিকদের অভিযোগ দেখভালের জন্য বিএমইটি কাজ করে। প্রতিষ্ঠানটিতে বিভিন্ন রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে ২০২৩ সালে অভিযোগ পড়েছে দুই হাজারের বেশি।

তবে এসব অভিযোগের নিষ্পত্তি হয়েছে অর্ধেকেরও কম। আর জরিমানা আদায় হয়েছে ৭ কোটি টাকারও বেশি। জরিমানার টাকা ক্ষতিপূরণ হিসেবে ভুক্তভোগী কর্মীদের ফেরত দেয়া হয়েছে বলে জানাচ্ছে বিএমইটি।

এর বাইরে কোনো কোনো রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল বা স্থগিত করার মতো পদক্ষেপও নেয় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর এসব অনিয়ম আগে থেকেই কেন ধরা পড়ছে না এসব বিষয় জানতে চাইলে সংস্থাটির কোনো কর্মকর্তা মন্তব্য করতে রাজি হননি। অন্যদিকে মন্ত্রণালয় থেকেও আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

যদিও অভিবাসন নিয়ে কাজ করা ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম অ্যান্ড ইয়ুথ প্লাটফরমের এসোসিয়েট ডিরেক্টর শরীফুল হাসান বলছেন, শ্রমিকরা যে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন, সরকার তার দায় এড়াতে পারে না।

বাংলাদেশ থেকে বিদেশে শ্রমিক পাঠানোর প্রক্রিয়ায় প্রতারণা বা জালিয়াতির ঘটনা নতুন নয়। এর সঙ্গে বিশেষত সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আলোচনায় উঠে এসেছে শূন্য হাতে শ্রমিকদের ফিরে আসার ঘটনা।

এটি যে শুধু বাংলাদেশের শ্রমখাতেই সমস্যা তৈরি করছে তা নয়, বরং একইসঙ্গে দেশে বেকারত্বের চাপ বাড়িয়ে সমাজ এবং পরিবারেও তৈরি করছে নতুন সংকট।

সূত্রঃ বিবিসি

এম.কে
২৭ এপ্রিল ২০২৪

আরো পড়ুন

নিউইয়র্কে বিলবোর্ডে আলোতে ঝলমল সুনামগঞ্জের অহী

যুক্তরাষ্ট্রে সড়ক দুর্ঘটনায় সিলেটের মেয়ে ব্রতী নিহত

দক্ষিণ আফ্রিকায় বাংলাদেশি দম্পতিকে গুলি করে হত্যা