TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

বাংলাদেশ-নেপালের চেয়েও খারাপ হতে পারে ভারতের পরিস্থিতিঃঝাড়খণ্ডের মন্ত্রীর হুঁশিয়ারি

ভারতের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকারকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন ঝাড়খণ্ডের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও কংগ্রেস নেতা ইরফান আনসারি। তার আশঙ্কা, ক্রমবর্ধমান জনঅসন্তোষ মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার ব্যর্থ হলে ভারত এমন এক সংকটের মুখে পড়তে পারে, যার পরিস্থিতি বাংলাদেশ ও নেপালের চেয়েও খারাপ হতে পারে।

ভারতের বার্তা সংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়াকে (পিটিআই) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন ইরফান আনসারি। এ সময় ভারতের রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক সংকট, ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অসন্তোষ নিয়ে কথা বলেন তিনি।

আনসারি দাবি করেন, ভারতের বিপুলসংখ্যক তরুণ সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ৪০ লাখ তরুণ রাস্তায় নামার অপেক্ষায় রয়েছেন। তারা কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর নির্দেশনার অপেক্ষা করছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

ইরফান আনসারি বলেন, ‘দেশ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। আমি দিল্লিতে গিয়েছিলাম, সেখানে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা হয়েছে। প্রায় ৪০ লাখ তরুণ রাস্তায় রয়েছে। তারা প্রত্যেকেই ঘরের সামনে অবস্থান করছে, কেবল একটি নির্দেশের অপেক্ষায়। তারা রাহুল গান্ধী ছাড়া এক পা-ও এগোবে না। কিন্তু রাহুল গান্ধীই এতদিন তাদের আটকে রেখেছেন।’

তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, এত বিপুলসংখ্যক তরুণ রাস্তায় নেমে এলে সরকার কত সৈন্য মোতায়েন করবে? সেনাবাহিনী কি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থামাতে পারবে? তার এই বক্তব্যে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অসন্তোষের বিষয়টিও তুলে ধরেন ঝাড়খণ্ডের এই মন্ত্রী। তার দাবি, কৃষক, মধ্যবিত্ত, দলিত, আদিবাসী ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। এসব সমস্যা সমাধানে সরকার কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সতর্ক করে আনসারি বলেন, সরকার পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন না হলে ভারতে জরুরি অবস্থার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এমনকি দেশের পরিস্থিতি বাংলাদেশ ও নেপালের সাম্প্রতিক অস্থিরতার চেয়েও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ভারতের নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আনসারি। বিশেষ করে ভোটার তালিকা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষের নাম বাদ পড়ার অভিযোগ এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জ্ঞানেশ কুমার, আমাদের বলুন—আপনারা ১৩ কোটি ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন। ১৩ কোটি যে কত বড় সংখ্যা, তা কি আপনারা জানেন?’

ভোটার তালিকা সংশোধনের এই প্রক্রিয়া নিয়ে ভারতের বিরোধী দলগুলো এবং নির্বাচন কমিশনের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ চলছে। বিরোধীদের অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য বা বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যার স্বাধীন যাচাই সাক্ষাৎকারের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

ইরফান আনসারির বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপির পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। বিজেপি তার মন্তব্যকে ‘নৈরাজ্যের ভাষা’ হিসেবে অভিহিত করেছে। পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছে দলটি।

ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, ভোটার তালিকা সংশোধন এবং বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর অসন্তোষকে কেন্দ্র করে যখন সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে, তখন ঝাড়খণ্ডের মন্ত্রীর এই মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

সূত্রঃ পিটিআই

এমকে

আরো পড়ুন

মারা গেছে বিখ্যাত মিম কুকুর চিমস

প্রথমবারের মতো সিরিয়ায় হামলা ইরানের

পোপ ফ্রান্সিসের উত্তসূরি হলেন যুক্তরাষ্ট্রের রবার্ট প্রিভোস্ট