TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিকযুক্তরাজ্য (UK)

ইউরোপে মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় ৪৬ মিলিয়নঃ যুক্তরাজ্যে সাড়ে ৪ মিলিয়নের বেশি মুসলিম

ইউরোপজুড়ে মুসলিম জনসংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সর্বশেষ বিভিন্ন জনমিতিক বিশ্লেষণ ও গবেষণা অনুযায়ী, বর্তমানে ইউরোপে প্রায় ৪৪ থেকে ৪৬ মিলিয়ন মুসলিম বসবাস করছেন, যা মহাদেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬ শতাংশ। তবে ইউরোপের ভৌগোলিক সংজ্ঞার ওপর নির্ভর করে এই সংখ্যা কিছুটা কম-বেশি হতে পারে। তুরস্ক ও রাশিয়ার ইউরোপীয় অংশকে অন্তর্ভুক্ত করলে মোট মুসলিম জনসংখ্যা আরও বৃদ্ধি পায়।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ২৭টি সদস্য রাষ্ট্রে প্রায় ২৫ মিলিয়ন মুসলিম বসবাস করেন। ফলে মুসলিম সম্প্রদায় এখন ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় গোষ্ঠী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং বহু দেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়েছে।

ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে ফ্রান্সে মুসলিম জনসংখ্যা সবচেয়ে বেশি। দেশটিতে প্রায় ৫ দশমিক ৭ থেকে ৬ মিলিয়ন মুসলিম বসবাস করেন, যা ফ্রান্সের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৮ থেকে ৯ শতাংশ। উত্তর আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা অভিবাসী এবং তাদের পরবর্তী প্রজন্মের মাধ্যমে ফ্রান্সে মুসলিম সম্প্রদায়ের এই শক্তিশালী উপস্থিতি গড়ে উঠেছে। দেশটির শিক্ষা, ব্যবসা, সংস্কৃতি ও কর্মক্ষেত্রে তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।

জার্মানিতে প্রায় ৫ মিলিয়ন মুসলিম বাস করেন, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬ থেকে ৭ শতাংশ। বিশেষ করে তুর্কি বংশোদ্ভূত মুসলিমরা জার্মানির মুসলিম জনগোষ্ঠীর সবচেয়ে বড় অংশ। তারা দীর্ঘদিন ধরে দেশটির শিল্প, শ্রমবাজার, শিক্ষা এবং রাজনৈতিক আলোচনায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখে আসছেন।

অন্যদিকে যুক্তরাজ্যে প্রায় সাড়ে ৪ মিলিয়ন মুসলিম বসবাস করেন, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬ থেকে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। যুক্তরাজ্যের মুসলিম জনগোষ্ঠীর বড় অংশই দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত, বিশেষ করে পাকিস্তানি ও বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের মানুষ। ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, রাজনীতি এবং বিভিন্ন পেশাগত খাতে তাদের অবদান ক্রমেই আরও দৃশ্যমান হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, অভিবাসন, তুলনামূলক উচ্চ জন্মহার এবং নতুন প্রজন্মের জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে আগামী বছরগুলোতে ইউরোপে মুসলিম জনসংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে ইউরোপের সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক বাস্তবতায় মুসলিম সম্প্রদায়ের ভূমিকা ভবিষ্যতে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্রঃ European Commission, Pew Research Center, Eurostat, বিভিন্ন ইউরোপীয় জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থা এবং সাম্প্রতিক জনমিতিক (Demographic) গবেষণা।

এম.কে

আরো পড়ুন

অভিবাসী ঠেকাতে তুরস্ককে ৪০ কোটি টাকা দিয়েছে যুক্তরাজ্য

দুই ডোজ টিকা নিয়ে যুক্তরাজ্যে আসতে কোয়ারেন্টিন লাগবে না

অনলাইন ডেস্ক

ভারতে সঠিক তথ্য তুলে ধরায় রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা!