যুক্তরাজ্যে বিদেশি নার্স ও কেয়ার কর্মীর সংখ্যা নাটকীয়ভাবে কমে যাওয়ায় হাসপাতাল ও কেয়ার হোম খাতে বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা পরিস্থিতিকে “আসন্ন ভয়াবহ দুর্ঘটনা” বলে বর্ণনা করেছেন।
হোম অফিসের ত্রৈমাসিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত তিন বছরে বিদেশি নার্সের প্রবেশের অনুমতি ৯৩% কমেছে। ২০২২ সালে যেখানে ২৬,১০০ জন বিদেশি নার্স যুক্তরাজ্যে প্রবেশের অনুমতি পেয়েছিলেন, ২০২৫ সালে সেই সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ১,৭৭৭ জনে।
‘ক্যারিং পার্সোনাল সার্ভিস অকুপেশনস’ ক্যাটাগরিতে—যার মধ্যে কেয়ার কর্মী, নার্সিং সহকারী, অ্যাম্বুলেন্স স্টাফ ও ডেন্টাল কর্মীরা অন্তর্ভুক্ত—পতন আরও তীব্র। ২০২৩ সালে ১,০৭,৮৪৭ জন কর্মী এই শ্রেণিতে ভিসা পেলেও ২০২৫ সালে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩,১৭৮ জনে, অর্থাৎ দুই বছরে ৯৭% হ্রাস। ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত মাত্র ২৩ জন বিদেশি কেয়ার কর্মী প্রবেশের অনুমতি পেয়েছেন।
দাতব্য সংস্থা ওয়ার্ক রাইটস সেন্টারের গবেষণায় বলা হয়েছে, অভিবাসন নীতিতে কড়াকড়ির ফলে এই পতন ঘটেছে। সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী ডোরা-অলিভিয়া ভিকল বলেন, বর্তমানে ২৫,০০০ নার্সের পদ শূন্য থাকা অবস্থায় বিদেশি নার্সের সংখ্যা এত বড় হারে কমে যাওয়া স্বাস্থ্যখাতের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করবে।
স্কিলড ওয়ার্কার ভিসার সংখ্যাও টানা নবম প্রান্তিকে কমে ২০২১ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। শুধু স্বাস্থ্যখাত নয়, বিজ্ঞান, গবেষণা, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি পেশাজীবীদের ভিসা ২০২২ সালের ২৪,৮৪৩ থেকে ২০২৫ সালে ৯,০৭২-এ নেমে এসেছে। শিক্ষা পেশাজীবীদের ভিসা দুই বছরে ৭১% কমেছে এবং দক্ষ কারিগরি কর্মীদের ভিসা ৭৩% হ্রাস পেয়েছে।
রয়েল কলেজ অব নার্সিংয়ের প্রধান নার্সিং কর্মকর্তা লিন উলসি সতর্ক করে বলেন, দেশীয় নিয়োগের বর্তমান হার বিদেশি নার্সের ঘাটতি পূরণে যথেষ্ট নয়। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক নিয়োগ কমে যাওয়া এবং দেশীয় জনবল বৃদ্ধিতে বিনিয়োগ না থাকলে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা গুরুতর চাপে পড়বে।
ন্যাশনাল কেয়ার এসোসিয়েশনের নির্বাহী চেয়ার নাদরা আহমেদ বলেন, সামাজিক কেয়ার খাতে দেশীয় কর্মী নিয়োগে কাঙ্ক্ষিত সাড়া মিলছে না। আন্তর্জাতিক কর্মীরাই এতদিন খাতটি সচল রেখেছেন। বর্তমানে অনেক কেয়ার কর্মী জার্মানি ও আয়ারল্যান্ডের মতো দেশে ভালো শর্তে চলে যাচ্ছেন, আবার কিছু প্রতিষ্ঠান স্পনসরশিপ হারিয়ে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
কিংস ফান্ডের সিনিয়র ফেলো সাইমন বটেরি বলেন, বিদেশি নিয়োগ কমে যাওয়া এখন সামাজিক কেয়ার খাতের জন্য বাস্তবতা। তাই দেশীয় কর্মী নিয়োগ ও প্রশিক্ষণে জোর না দিলে খাতটি টেকসই রাখা কঠিন হবে।
অন্যদিকে সরকার বলছে, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে আনার লক্ষ্যে স্কিলড ওয়ার্কার ভিসার ন্যূনতম যোগ্যতা ডিগ্রি পর্যায়ে ফিরিয়ে আনা হয়েছে এবং কেয়ার কর্মীদের বিদেশি নিয়োগ বন্ধ করা হয়েছে শোষণ ও অপব্যবহার ঠেকাতে। সরকারের দাবি, নেট মাইগ্রেশন প্রায় ৭০% কমেছে এবং তারা সস্তা বিদেশি শ্রমের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় কর্মীদের অগ্রাধিকার দিতে চায়।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিবাসন নীতির এই কড়াকড়ি অর্থনীতি, করব্যবস্থা এবং বয়স্ক জনগোষ্ঠীর চাহিদা পূরণে দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে স্বাস্থ্য ও সামাজিক কেয়ার খাতে জনবল সংকট বাড়তে থাকলে সেবার মান ও প্রাপ্যতা বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।
সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান
এম.কে

