28.5 C
London
July 15, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

বিদেশে আটক ব্রিটিশ নাগরিকদের সহায়তায় প্রথম বিশেষ দূত নিয়োগ যুক্তরাজ্যের

বিদেশে আটক ব্রিটিশ নাগরিকদের জটিল কনস্যুলার মামলায় আরও কার্যকর কূটনৈতিক সহায়তা নিশ্চিত করতে প্রথমবারের মতো একজন বিশেষ দূত নিয়োগ দিয়েছে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তর (ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস)। নতুন এ পদে নিয়োগ পেয়েছেন সাবেক কনজারভেটিভ মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক মন্ত্রী অ্যালিস্টেয়ার বার্ট। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, বিশেষ করে যেসব মামলায় মানবাধিকার লঙ্ঘন, বন্দির কল্যাণ বা বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ রয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কূটনৈতিক সহায়তা দেওয়াই হবে তার প্রধান দায়িত্ব।

এই পদটি সৃষ্টি করা হয়েছে ব্রিটিশ-ইরানি দ্বৈত নাগরিক নাজানিন জাঘারি-র‍্যাটক্লিফের মতো আলোচিত মামলার অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে। তিনি ইরানে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ছয় বছর কারাবন্দি ছিলেন। তার মামলাসহ বিদেশে আটক ব্রিটিশ নাগরিকদের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত ও ধারাবাহিক কূটনৈতিক সহায়তা দিতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরে সমালোচনার মুখে ছিল যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তর।

বর্তমান সরকারের এই উদ্যোগ লেবার পার্টির পূর্বঘোষিত একটি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন। ডেভিড ল্যামি ছায়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালে বিদেশে আটক ব্রিটিশ নাগরিকদের জন্য বিশেষ দূত নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এছাড়া পার্লামেন্টের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির সাবেক চেয়ার অ্যালিসিয়া কেয়ার্নসও এমন একটি পদের সুপারিশ করেছিলেন।

ব্রিটিশ গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যালিস্টেয়ার বার্টের নাম এক বছরেরও বেশি সময় আগে থেকেই এই পদের জন্য আলোচনায় ছিল। তবে নিয়োগে বিলম্বের পেছনে পররাষ্ট্র দপ্তরের অভ্যন্তরীণ উদ্বেগ কাজ করেছে। কর্মকর্তাদের আশঙ্কা ছিল, বিশেষ দূত প্রকাশ্যে বন্দিদের মুক্তির দাবি তুললে তা বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ, সংবেদনশীল এ ধরনের মামলায় পররাষ্ট্র দপ্তর সাধারণত প্রকাশ্য প্রচারণার পরিবর্তে নীরব কূটনীতিকেই বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে।

মধ্যপ্রাচ্যে বিস্তৃত যোগাযোগ ও অভিজ্ঞতার জন্য পরিচিত অ্যালিস্টেয়ার বার্ট অতীতে নাজানিন জাঘারি-র্যাটক্লিফের মুক্তির জন্য আরও সক্রিয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। নতুন দায়িত্বে তিনি বিদেশে আটক ব্রিটিশ নাগরিক ও তাদের পরিবারের সঙ্গে সরকারের যোগাযোগ আরও জোরদার করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, নতুন পদটির আনুষ্ঠানিক নাম ‘জটিল কনস্যুলার মামলার বিশেষ দূত’। এই নামের মাধ্যমে সরকার এমন অবস্থান বজায় রেখেছে, যেখানে বিদেশে আটক ব্রিটিশ নাগরিকদের ‘রাষ্ট্রের জিম্মি’ বা ‘অবৈধভাবে আটক’ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে আখ্যায়িত করা থেকে বিরত থাকা হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার এক বিবৃতিতে বলেন, অ্যালিস্টেয়ার বার্টের পররাষ্ট্রনীতি ও কনস্যুলার বিষয়ে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন বিশেষ দূতের নেতৃত্বে বিদেশে আটক ব্রিটিশ নাগরিক এবং তাদের পরিবারের জন্য সরকারের সহায়তা আরও কার্যকর হবে এবং কঠিন মামলাগুলোতে বাস্তব অগ্রগতি আসবে।

এদিকে মানবাধিকারভিত্তিক আইনি সংস্থা রিপ্রিভ এই নিয়োগকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে। সংস্থাটির উপপ্রধান নির্বাহী ড্যান ডোলান বলেন, বিশেষ দূতের সফলতা নির্ভর করবে অন্যায়ভাবে আটক ব্রিটিশ নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে আনার দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পূর্ণ সমর্থনের ওপর।

তিনি বিশেষভাবে ২০১৭ সাল থেকে ভারতে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগে আটক ব্রিটিশ নাগরিক জাগতার সিং জোহালের মামলার কথা উল্লেখ করেন। জাতিসংঘ তার দীর্ঘ বিচারিক বিলম্বকে স্বেচ্ছাচারী আটক হিসেবে বর্ণনা করেছে।

যদিও লেবার সরকার বিদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার ব্রিটিশ নাগরিকদের জন্য কনস্যুলার সহায়তাকে আইনি অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, এখন পর্যন্ত এ-সংক্রান্ত কোনো আইন সংসদে উপস্থাপন করা হয়নি। ফলে নতুন বিশেষ দূতের নিয়োগকে সরকারের কনস্যুলার সেবা শক্তিশালী করার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হলেও, ভবিষ্যতে এই উদ্যোগ কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে সরকারের কূটনৈতিক অবস্থান, রাজনৈতিক সমর্থন এবং আন্তর্জাতিক আলোচনার সাফল্যের ওপর।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

মোটরওয়ে এম টুয়েন্টি ফাইভ সংষ্কার কাজের জন্য বন্ধ ঘোষণা

দুই দশক পর ব্রিটেন ছেড়ে দেশে ফিরতে চান সোমালি শরণার্থী ইউসুফ

আন্তর্জাতিক ছাত্রদের ওপর অতিরিক্ত চার্জঃ যুক্তরাজ্যের উচ্চশিক্ষায় অস্থিরতা বাড়ছে