29.1 C
London
August 9, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

মক্কার বৈচিত্র্য তুলে ধরে সাদিক খানের বক্তব্যঃ সমালোচনায় রাজনৈতিক মহল

লন্ডনের মেয়র স্যার সাদিক খান সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কাকে ‘সম্ভবত লন্ডনের পর বিশ্বের সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় স্থান’ হিসেবে উল্লেখ করায় যুক্তরাজ্যে রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। মক্কায় অমুসলিমদের প্রবেশ আইনত নিষিদ্ধ থাকার বিষয়টি তুলে ধরে তার মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন কনজারভেটিভ দলের ছায়া বিচারমন্ত্রী নিক টিমোথি।

সম্প্রতি একটি জাতীয় সংবাদপত্রকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাদিক খান মক্কার বৈচিত্র্যের প্রশংসা করেন। চলতি বছরের মে মাসে তিনি হজ পালন করেন। নিজের হজের অভিজ্ঞতাকে তিনি ‘গভীরভাবে জীবন পরিবর্তনকারী’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

তবে মক্কাকে বিশ্বের অন্যতম বৈচিত্র্যময় স্থান হিসেবে উল্লেখ করার বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন নিক টিমোথি। তিনি বলেন, মক্কায় বিভিন্ন জাতি ও দেশের মুসলমানরা সমবেত হলেও অমুসলিমদের সেখানে প্রবেশের অনুমতি নেই। তার দাবি, এমন বাস্তবতার মধ্যে মক্কাকে বৈচিত্র্যের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরার ক্ষেত্রে বক্তব্যের মধ্যে সামঞ্জস্যের ঘাটতি রয়েছে।

সৌদি আরবের প্রচলিত বিধান অনুযায়ী অমুসলিমদের মক্কা নগরীতে প্রবেশ নিষিদ্ধ। এই বিধান লঙ্ঘন করলে জরিমানা কিংবা কারাদণ্ডের মতো শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে।

সাদিক খান ও নিক টিমোথির মধ্যে এর আগেও বিভিন্ন বিষয়ে মতবিরোধ হয়েছে। লন্ডনের ট্রাফালগার স্কয়ারে রমজান মাসে একটি ইসলামী সংগঠনের প্রকাশ্য ইফতার আয়োজন নিয়েও তাদের মধ্যে বিতর্ক দেখা দিয়েছিল। ওই আয়োজনের সমালোচনা করেছিলেন টিমোথি।

মক্কা মুসলমানদের কাছে ইসলামের অন্যতম পবিত্রতম স্থান এবং হজের প্রধান কেন্দ্র। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লাখ লাখ মুসলমান প্রতিবছর হজ ও ওমরাহ পালনের জন্য সেখানে যান। ২০২৪ সালে প্রায় ১ কোটি ৯৩ লাখ মানুষ মক্কা সফর করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের বড় একটি অংশ হজ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন।

সাক্ষাৎকারে সাদিক খান যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়েও কথা বলেন। তিনি ডানপন্থি রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে সমাজে বিভাজন তৈরির অভিযোগ করেন। তার মতে, মুসলমানদের এমনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে যেন তারা দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক। এ ধরনের বক্তব্য সমাজে বিভাজন বাড়ায় এবং উগ্রপন্থায় তরুণদের আকৃষ্ট করতে চাওয়া ব্যক্তিদের সুবিধা করে দেয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

লন্ডনের মেয়র আরও বলেন, যুক্তরাজ্য একটি খ্রিস্টান দেশ এবং কেউ কেউ দেশটিকে ইহুদি-খ্রিস্টান ঐতিহ্যের দেশ হিসেবেও বর্ণনা করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ডাউনিং স্ট্রিটে ইসলামের পতাকা ওড়ানোর কোনো ইচ্ছা তার নেই।

সাদিক খানের এই মন্তব্য এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন যুক্তরাজ্যে অভিবাসন, ধর্মীয় পরিচয়, বহুত্ববাদ ও জাতীয় মূল্যবোধ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র। ফলে মক্কা সম্পর্কে তার বক্তব্যও ধর্মীয় বৈচিত্র্য ও রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

এদিকে সাদিক খান সম্প্রতি সাবেক প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারের সুপারিশে হাউস অব লর্ডসে সদস্য হওয়ার জন্য মনোনীত হয়েছেন। একই সময়ে ২০২৮ সালের লন্ডন মেয়র নির্বাচনকে ঘিরেও রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। ফলে তার সাম্প্রতিক বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে বাড়তি নজর কেড়েছে।

তবে সাদিক খানের বক্তব্যের মূল প্রেক্ষাপট ছিল হজের সময় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ, জাতি ও সংস্কৃতির মুসলমানদের মক্কায় একত্রিত হওয়ার অভিজ্ঞতা। অন্যদিকে সমালোচকদের আপত্তির মূল বিষয় হলো—অমুসলিমদের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকা একটি শহরকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় স্থানগুলোর একটি’ হিসেবে বর্ণনা করা কতটা যুক্তিসংগত।

এ নিয়ে যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।

সূত্রঃ ডেইলি এক্সপ্রেস

এম.কে

আরো পড়ুন

স্কটল্যান্ডে তুষারপাত, শীতল হয়ে উঠছে যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া

নিউজ ডেস্ক

ফিলিস্তিনিরা নিরাপত্তা না পেলে ইসরায়েলও নিরাপদ হবে না:ডেভিড ক্যামেরন

লন্ডনে বাংলাদেশিদের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে, ওএনএস-এর পূর্বাভাসে চমক