সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে আটক বাংলাদেশের পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দিয়েছে দুবাই পুলিশ। তবে প্রত্যর্পণের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আগে চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ব্যাখ্যা ও প্রয়োজনীয় দালিলিক তথ্য চেয়ে ইন্টারপোলের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একাধিক সূত্র জানিয়েছে, পাঁচ দিন আগে ওই চিঠি বাংলাদেশে পৌঁছেছে এবং বর্তমানে তার জবাব প্রস্তুতের কাজ চলছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ সদর দপ্তরের ইন্টারপোল শাখা এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) যৌথভাবে দুবাই পুলিশের চাওয়া তথ্য ও আইনি নথিপত্র প্রস্তুত করছে। প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা ও দালিলিক প্রমাণ দ্রুত সংযুক্ত আরব আমিরাতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে বলে জানা গেছে।
দুবাই পুলিশের পাঠানো চিঠিতে চারটি বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। প্রথমত, কোন আইনি কাঠামো ও কী প্রক্রিয়ায় বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশে ফেরত নেওয়া হবে। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে বন্দিবিনিময় বা প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকায় কোন আইনি ভিত্তিতে তাকে হস্তান্তর করা হবে। তৃতীয়ত, তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলোর বর্তমান অবস্থা এবং সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিস্তারিত বিবরণ। চতুর্থত, তার বিরুদ্ধে আদালতের কোনো স্থায়ী গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কিংবা দণ্ডাদেশ রয়েছে কি না, সে বিষয়ে দালিলিক প্রমাণ।
সরকারি সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার আনুষ্ঠানিক আবেদন করেছে। এখন দুবাই পুলিশের চাওয়া তথ্য ও নথিপত্র পাঠানো হলে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপ শুরু হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, বেনজীর আহমেদ বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতে আর্থিক আত্মসাতের একটি মামলায় দুবাই সরকারের অধীন ফেডারেল পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির একাধিক মামলার তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক প্রত্যর্পণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের আদালত ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রকৃতি, বিচারিক অবস্থা, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং হস্তান্তরের আইনি ভিত্তি যাচাই করে থাকে। সে কারণেই দুবাই পুলিশ বাংলাদেশ সরকারের কাছে এসব বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা ও নথিপত্র চেয়েছে।
দুদক ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর আশা, নির্ধারিত তথ্য ও আইনি ব্যাখ্যা দ্রুত পাঠানো সম্ভব হলে বেনজীর আহমেদকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হবে। তবে প্রত্যর্পণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও সেদেশের আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।
সূত্রঃ এশিয়া পোস্ট
এম.কে

