11.7 C
London
February 11, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিকযুক্তরাজ্য (UK)

বৈশ্বিক দুর্নীতি সূচকে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের অবনমন

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের প্রকাশিত সর্বশেষ করাপশন পারসেপশনস ইনডেক্সে (সিপিআই) যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই নতুন নিম্নস্তরে নেমে গেছে। প্রতিষ্ঠিত গণতন্ত্রগুলোতে রাজনৈতিক অনুদান, ক্ষমতায় প্রবেশের বিনিময়ে অর্থ লেনদেন এবং স্বাধীন কণ্ঠস্বর দমনের প্রবণতা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এ অবনমনকে ‘উদ্বেগজনক’ বলে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।

 

১৮২টি দেশের সরকারি খাতে দুর্নীতির মাত্রা নিয়ে বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ীদের ধারণার ভিত্তিতে তৈরি এই সূচকে দেখা গেছে, বৈশ্বিকভাবে পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। যেখানে ৩১টি দেশের স্কোর উন্নত হয়েছে, সেখানে ৫০টি দেশের স্কোর কমেছে। তালিকার শীর্ষে টানা অষ্টমবারের মতো রয়েছে ডেনমার্ক। বিপরীতে সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে দক্ষিণ সুদান ও সোমালিয়া।

যুক্তরাজ্য ২০১৫ সালের পর থেকে ধারাবাহিকভাবে নিচের দিকে নামছে। ২০২৫ সালে দেশটি সপ্তম স্থান থেকে নেমে ২০তম স্থানে দাঁড়িয়েছে। তাদের স্কোর ১০০-এর মধ্যে ৭০, যা আগের বছরের তুলনায় এক পয়েন্ট কম। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনকে ঘিরে রেকর্ড পরিমাণ ব্যয় এবং ধনী দাতাদের ওপর রাজনৈতিক দলের বাড়তি নির্ভরশীলতা এ পতনের অন্যতম কারণ।

কনজারভেটিভ পার্টি একক এক দাতার কাছ থেকে এক বছরের কম সময়ে ১ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড অনুদান গ্রহণ করেছে—যা ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করে। একইসঙ্গে বিশ্বের শীর্ষ ধনী ব্যক্তি ইলন মাস্কের রিফর্ম ইউকে-কে বড় অঙ্কের অনুদান দেওয়ার সম্ভাবনার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। লেবার পার্টিও সমালোচনার বাইরে নয়; দলটির প্রধান দাতা ওয়াহিদ আলির বিশেষ প্রবেশাধিকার এবং দলীয় দাতাদের রাজনৈতিক নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল ইউকের প্রধান নির্বাহী ড্যানিয়েল ব্রুস সতর্ক করে বলেছেন, এই ধারাবাহিক অবনমন সাময়িক নয়; বরং এটি রাজনৈতিক সংস্কৃতির অংশ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করছে। তিনি রাজনীতিতে বড় অঙ্কের অর্থের প্রভাব কমানো, উন্মুক্ত সরকার নিশ্চিত করা এবং স্বজনপ্রীতির অবসানের আহ্বান জানিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রও এক ধাপ নেমে ২৯তম স্থানে গেছে এবং ৬৪ স্কোর অর্জন করেছে, যা দেশটির ইতিহাসে সর্বনিম্ন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি ক্ষমতা ব্যবহার করে এনজিও ও সাংবাদিকদের মতো স্বাধীন কণ্ঠস্বরকে লক্ষ্যবস্তু করা, স্বার্থসংঘাতপূর্ণ রাজনীতির স্বাভাবিকীকরণ, প্রসিকিউশন প্রক্রিয়ার রাজনৈতিকীকরণ এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করার মতো বিষয়গুলো উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তবে ২০২৫ সালের সব ঘটনা এখনও সূচকে প্রতিফলিত হয়নি বলেও জানানো হয়েছে।

বিশ্বব্যাপী মাত্র সাতটি দেশ ৮০ বা তার বেশি স্কোর অর্জন করেছে—ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, নিউজিল্যান্ড, নরওয়ে, সুইডেন ও সুইজারল্যান্ড।

সংস্থাটি বলেছে, বৈশ্বিক শক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা, সশস্ত্র সংঘাত, জলবায়ু সংকট এবং ক্রমবর্ধমান মেরুকরণ আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে চাপে ফেলছে।
সংস্থার মতে, বর্তমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রয়োজন নীতিবান নেতৃত্ব ও শক্তিশালী, স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। কিন্তু বহু দেশে সুশাসন ও জবাবদিহিতার ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

যুক্তরাজ্য সরকার জানিয়েছে, তারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। নতুন দুর্নীতি দমন কৌশলের অংশ হিসেবে অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি ইউনিট সম্প্রসারণে ১ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং জনজীবনে মানদণ্ড শক্তিশালী করতে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

ম্যানচেস্টারে ভেজাল পণ্যের আস্তানায় পুলিশের অভিযান

অনলাইন ডেস্ক

বিদেশি কর্মী নিতে প্রস্তুতি সম্পন্ন জাপানের, নিবে দশ লাখ কর্মী

ডাক শুনে এআই বলে দেবে মুরগি উত্তেজিত, ক্ষুধার্ত বা ভীত কিনা!