ব্রিটেনে অনির্দিষ্টকালের বসবাসের অনুমতি বা আইএলআর (ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইন) পাওয়ার নিয়ম কঠোর করার পরিকল্পনা নিয়ে লেবার সরকারের ভেতরে মতবিরোধ তীব্র হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ প্রস্তাবিত সংস্কারে পিছু হটলে তার অবস্থান ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়বে বলে সতর্ক করেছেন বিরোধী দলের এক নেতা। অন্যদিকে, মন্ত্রিসভার এক সদস্যও প্রকাশ্যে তার অভিবাসন পরিকল্পনাকে নিঃশর্ত সমর্থন দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, জ্বালানিমন্ত্রী মিয়াত্তা ফানবুলেহকে সাংবাদিক সোফি রিজ ১৬ বার প্রশ্ন করলেও তিনি শাবানা মাহমুদের অভিবাসন কঠোর করার পরিকল্পনার প্রতি সরাসরি সমর্থন জানাননি। তবে তিনি বলেছেন, নাগরিকত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের জন্য অবদান রাখার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
ফানবুলেহ বলেন, সরকার প্রস্তাবিত সংস্কার নিয়ে পরামর্শ গ্রহণ করছে। সব প্রতিক্রিয়া পর্যালোচনা করার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চূড়ান্ত অবস্থান জানাবেন। তার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, প্রস্তাবের সব দিক নিয়ে সরকারের ভেতরে এখনো আলোচনা চলছে।
কনজারভেটিভ দলের ছায়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস ফিলিপ সতর্ক করে বলেছেন, সংস্কারগুলো দুর্বল না করা হলে তার দল সেগুলো পার্লামেন্টে পাস করাতে সহায়তা করবে। কিন্তু অ্যাঞ্জেলা রেনারসহ লেবার দলের বামপন্থি সদস্যদের চাপে শাবানা মাহমুদ পরিকল্পনা থেকে সরে এলে তা ব্রিটিশ জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ফিলিপের দাবি, প্রস্তাবিত সংস্কার দুর্বল করা হলে সরকারের নিজের হিসাব অনুযায়ী ১০ বিলিয়ন পাউন্ড ব্যয়ের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর রাজনৈতিক অবস্থান আরও দুর্বল হয়ে পড়বে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, লেবার সরকারের পরিকল্পনায় অভিবাসীদের স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার আগে অন্তত ১০ বছর অপেক্ষা করতে হতে পারে। স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা খাতে কর্মরত পরিচর্যাকর্মীদের ক্ষেত্রে অপেক্ষার সময় ১৫ বছর পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। এই ভিসা ব্যবস্থার ব্যাপক অপব্যবহার হয়েছে বলে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের ধারণার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ব্রিটিশ নাগরিকত্ব না পাওয়া পর্যন্ত অভিবাসীদের সরকারি ভাতা দাবি করার সুযোগ সীমিত করার পরিকল্পনাও আলোচনায় রয়েছে। তবে এগুলো এখনো প্রস্তাবিত সংস্কারের অংশ; চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি।
গত বছর অভিবাসনসংক্রান্ত নিয়ম কঠোর করার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর থেকে দুই লাখের বেশি মানুষকে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২১ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে প্রায় ৪২ লাখ অভিবাসী যুক্তরাজ্যে এসেছেন বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়।
লেবার দলের এমপি প্রীত কৌর গিল সহকর্মীদের মতপার্থক্য দূরে রেখে বিষয়টি নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, শ্রমজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণির ভোটার সীমান্তের নিরাপত্তা, অনিয়মিত অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবি জানাচ্ছেন। এসব বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
অন্যদিকে, সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মাইক ট্যাপ পরিচর্যাকর্মীদের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম অতীত থেকে কার্যকর করার বিরোধিতা করেছেন। সম্প্রতি অভিবাসী পরিচর্যাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, যেসব কর্মী নীতির প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন, তাদের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। তার মতে, স্থায়ী বসবাসের অনুমতির অপেক্ষার সময় বাড়ানোর নিয়ম অতীত থেকে কার্যকর করার ক্ষেত্রে পরিচর্যাকর্মীদের ছাড় দেওয়া উচিত।
ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়েছে, পরামর্শ প্রক্রিয়ায় পাওয়া দুই লাখের বেশি মতামত শাবানা মাহমুদ সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করছেন। যুক্তরাজ্যে ইতিমধ্যে বসবাস করছেন, কিন্তু স্থায়ী মর্যাদা পাননি—এমন ব্যক্তিদের জন্য কী ধরনের অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা থাকবে, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
ফলে আইএলআর পাওয়ার সময়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব চূড়ান্তভাবে কোন রূপ নেবে, তা এখনো অনিশ্চিত। সরকার পরামর্শ প্রক্রিয়ার প্রতিক্রিয়া পর্যালোচনা শেষে চূড়ান্ত নীতি ঘোষণা করবে।
সূত্রঃ ডেইলি এক্সপ্রেস
এমকে

