8.8 C
London
October 24, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটেনে কেয়ারকর্মীদের জন্য আশার খবরঃ ১৫ বছরের অপেক্ষা কমানোর প্রস্তাব বিবেচনায়

ব্রিটেনে অভিবাসীদের স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি বা ইন্ডেফিনিট লিভ টু রিমেইন (আইএলআর) পাওয়ার অপেক্ষার সময় ১৫ বছর করার প্রস্তাব থেকে কেয়ারকর্মীদের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শাবানা মাহমুদ। ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির একাংশের বিরোধিতা এবং মন্ত্রিসভায় মতবিরোধ এড়াতে সরকার এই পদক্ষেপ নিতে পারে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে পাঁচ বছর পর আইএলআর পাওয়ার যোগ্যতা অর্জনের সুযোগ থাকা কেয়ারকর্মীদের জন্য নতুন প্রস্তাবে অপেক্ষার সময় সর্বোচ্চ ১৫ বছর করার কথা বলা হয়েছে। যুক্তরাজ্যে ইতিমধ্যে কর্মরত বিদেশি কেয়ারকর্মীদের ক্ষেত্রেও এই পরিবর্তন কার্যকর করার পরিকল্পনা নিয়ে আপত্তি উঠেছে।

জ্বালানিমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেনার ও মিয়াট্টা ফাহনবুল্লে আগে এই পরিকল্পনার সমালোচনা করেছেন। লেবার পার্টির ১০০ জনের বেশি সংসদ সদস্য এবং বড় কয়েকটি ট্রেড ইউনিয়নও প্রস্তাবটির বিরোধিতা করছে।

এই পরিস্থিতিতে কেয়ারকর্মীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যামের সঙ্গে আলোচনা করছেন শাবানা মাহমুদ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বার্নহ্যাম ভবিষ্যতে জাতীয় পরিচর্যা পরিষেবা গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা বলেছেন। এ ক্ষেত্রে বিদেশি কেয়ারকর্মীদের অবদানের স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী লর্ড ব্লানকেটও একটি সমঝোতার প্রস্তাব দিয়েছেন। তার মতে, যারা যুক্তরাজ্যে দীর্ঘদিন কাজ করে দেশের প্রতি অঙ্গীকার, স্বনির্ভরতা ও সমাজে একীভূত হওয়ার প্রমাণ দিয়েছেন, তাদের জন্য দ্রুত আইএলআর পাওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা থাকা উচিত।

শাবানা মাহমুদের আগের প্রস্তাবেও নির্দিষ্ট কিছু সরকারি পরিষেবার পেশায় পাঁচ বছর কাজ করা অভিবাসীদের আইএলআর পাওয়ার অপেক্ষার সময় পাঁচ বছর কমানোর বিষয়টি ছিল। এখন হোম অফিস অভিবাসীদের পেশাগত অভিজ্ঞতা এবং নির্দিষ্ট খাতে দীর্ঘদিন কাজ করার বিষয় বিবেচনা করে অপেক্ষার সময় কমানোর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে বলে জানা গেছে।

সাবেক অভিবাসন মন্ত্রী মাইক ট্যাপও কেয়ারকর্মীদের এই কঠোর নিয়ম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তার প্রস্তাব অনুযায়ী, যারা টানা পাঁচ বছর কেয়ার খাতে কাজ করেছেন এবং মাঝখানে চাকরি ছাড়েননি, তাদের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া যেতে পারে।

ট্যাপ বলেন, যারা যুক্তরাজ্যে কঠোর পরিশ্রম করছেন, তাদের ১৫ বছর অপেক্ষা করতে বাধ্য করা যথাযথ নয়। তবে সরকারের অভিবাসন মন্ত্রী জো হোয়াইট আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, আইএলআর পাওয়ার পর কেয়ারকর্মীরা অন্য পেশায় চলে গেলে পরিচর্যা খাতে কর্মীসংকট আরও বাড়তে পারে।

অন্যদিকে, হোম অফিসের হিসাব অনুযায়ী, বরিস জনসনের প্রধানমন্ত্রিত্বের সময়ের অভিবাসন বৃদ্ধির ধারায় যুক্তরাজ্যে আসা প্রায় ১ লাখ ১৭ হাজার স্বল্প বেতনের কেয়ারকর্মী এবং তাদের ৭৯ হাজার নির্ভরশীল সদস্যকে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে আইএলআর দিলে সরকারের ব্যয় হতে পারে ৯৫০ কোটি পাউন্ড। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এসব কর্মীর একটি বড় অংশ আফ্রিকা ও এশিয়া থেকে এসেছেন।

হোম অফিসের দাবি, কম বেতনের এসব কর্মী ও তাদের নির্ভরশীল সদস্যদের দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক অবদানের হিসাব সরকারের ওপর নিট আর্থিক চাপের ইঙ্গিত দেয়। পাশাপাশি কিছু অসাধু এজেন্টের বিরুদ্ধে কেয়ারকর্মীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় এবং ভুয়া স্পনসরশিপ সনদ ব্যবহার করে প্রতারণার অভিযোগও রয়েছে।

এদিকে, জ্বালানিমন্ত্রী মিয়াট্টা ফাহনবুল্লে বুধবারের এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে অভিবাসন সংস্কার পরিকল্পনার প্রতি সমর্থন নিয়ে সরাসরি অবস্থান জানাতে চাননি। তবে বৃহস্পতিবার তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ও সরকারের অভিবাসন সংস্কার নীতির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন।

তবে কেয়ারকর্মীদের জন্য আইএলআর পাওয়ার সময়সীমা কমানো বা তাদের প্রস্তাবিত ১৫ বছরের নিয়ম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি। বিষয়টি বর্তমানে সরকারের বিবেচনাধীন।

সূত্রঃ ডেইলি এক্সপ্রেস

এমকে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যের কাজের সুযোগ বাড়ানোই এখন উপযুক্ত সময়ঃ লিজ কেন্ডাল

যুক্তরাজ্যে গবেষকদের জন্য ভিসা খরচ আকাশছোঁয়াঃ প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় নয় গুণ বেশি

১৪ বছরের কিশোরের টার্গেটে ছিল দুটি মসজিদঃ যুক্তরাজ্যে ডানপন্থী উগ্রবাদ আতঙ্ক