5.1 C
London
April 25, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

আফগান আশ্রয়প্রার্থীদের ফেরত পাঠানোর সম্ভাবনা যুক্তরাজ্যেরঃ অবস্থান স্পষ্ট করলেন না শাবানা মাহমুদ

ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্র সচিব শাবানা মাহমুদ প্রত্যাখ্যাত আফগান আশ্রয়প্রার্থীদের তালেবান নিয়ন্ত্রিত আফগানিস্তানে ফেরত পাঠানোর সম্ভাবনা সরাসরি নাকচ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তার এই অবস্থান দেশটির বর্তমান নীতিতে সম্ভাব্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তিনি জানান, আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশের মধ্যে সম্ভাব্য ফেরত কর্মসূচি নিয়ে যে আলোচনা চলছে, তা ব্রিটিশ সরকার ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। একই সঙ্গে সরকারের ভেতরেও এ বিষয়ে অতিরিক্ত আলোচনা চলছে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।

বর্তমানে ব্রিটেনের নীতিমালা অনুযায়ী আফগানিস্তানে প্রত্যাখ্যাত আশ্রয়প্রার্থীদের ফেরত পাঠানো সম্ভব নয়, কারণ দেশটি তালেবান সরকারকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয় না। তবে নতুন কোনো প্রত্যাবাসন কর্মসূচি চালু হলে তা এই অবস্থান থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দেবে, যা মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

গত মাসে জাতিসংঘ আফগানিস্তানকে “মানবাধিকারের কবরস্থান” হিসেবে আখ্যা দেয়। সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশটিতে নারী ও কিশোরীদের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ১১ বছরের বেশি বয়সী মেয়ে ও নারীদের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে এবং অধিকাংশ কর্মক্ষেত্রে কাজ করার সুযোগও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, সাংবাদিকদের গ্রেফতার, নির্যাতন ও হত্যার ঘটনা ঘটছে; নারী সরকারি কর্মচারীদের যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়াই চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে; এবং সৌন্দর্যচর্চা কেন্দ্র, ব্যায়ামাগারসহ বিভিন্ন সামাজিক পরিসর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নারীদের একা ভ্রমণ, পার্কে হাঁটা বা জনসমক্ষে কথা বলার ক্ষেত্রেও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

ইউরোপীয় দেশগুলোর সাম্প্রতিক উদ্যোগ এই বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে। সুইডেনের সহায়তায় আফগানিস্তান ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সম্ভাব্য ফেরত চুক্তি নিয়ে আলোচনা এগোচ্ছে বলে জানা গেছে। ইতোমধ্যে জার্মানি কিছু অপরাধীকে আফগানিস্তানে ফেরত পাঠানোর পদক্ষেপ নিয়েছে।

এদিকে ব্রিটিশ সরকার ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে ছোট নৌকায় আগত অভিবাসীর সংখ্যা কমাতে কঠোর নীতি গ্রহণ করেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত এক বছরে ৬ হাজার ৩৬০ জন আফগান নাগরিক ছোট নৌকায় করে ব্রিটেনে পৌঁছেছেন, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেশি।

২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে প্রায় ২৯ হাজার ৬০০ আফগান নাগরিক আশ্রয়ের আবেদন করেছেন। তবে আশ্রয় অনুমোদনের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে—২০২৩ সালে যেখানে প্রায় শতভাগ ছিল, ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে তা নেমে এসেছে ৩৮ শতাংশে।

অভিবাসন বিশ্লেষকদের মতে, কোনো আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে সাধারণত ধরে নেওয়া হয় যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিজ দেশে নিরাপদে ফিরতে পারবেন। তবে বাস্তবে অনেক দেশই নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে আফগানিস্তানে ফেরত পাঠানো থেকে বিরত থাকে।

সব মিলিয়ে, আফগান আশ্রয়প্রার্থীদের ফেরত পাঠানো নিয়ে ব্রিটেনের সম্ভাব্য নীতিগত পরিবর্তন এখনো চূড়ান্ত না হলেও, বিষয়টি আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও মানবাধিকার ইস্যুতে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে কেয়ার হোম নজরদারিহীন, দশ বছর আগে তরুণীকে হত্যার রায় প্রকাশ

যুক্তরাজ্যে ম্যাকডোনাল্ডে বিগ ম্যাককে পেছনে ফেলে এল ‘বিগ আর্চ’ বার্গার

শূন্য নিট অভিবাসনের কারণে ২০৪০ সালের মধ্যে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি ৩.৬% ছোট হবে