TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটেনে চাকরির বিজ্ঞাপনে বেতন গোপন রাখার সুযোগ শেষঃ নিয়োগদাতাদের জন্য নতুন আইন

ব্রিটেনে প্রতিটি চাকরির বিজ্ঞাপনে বেতনের পরিমাণ উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক করতে আইন আনছে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের সরকার। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠান চাকরির বিজ্ঞাপন প্রকাশ করলে ওই পদের জন্য কত বেতন দেওয়া হবে, তা স্পষ্টভাবে জানাতে হবে। বেতনের তথ্য গোপন রেখে শুধু ‘আলোচনাসাপেক্ষ’ কিংবা ‘প্রতিযোগিতামূলক বেতন’ উল্লেখ করে বিজ্ঞাপন দেওয়ার প্রচলিত পদ্ধতি বন্ধ করাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ জানায়, এ বিষয়ে আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সরকারের মতে, বেতন আগে থেকে জানা থাকলে চাকরিপ্রার্থীরা নিজেদের আর্থিক প্রয়োজনের সঙ্গে মিলিয়ে আবেদন করতে পারবেন। এতে উপযুক্ত নয় এমন চাকরিতে আবেদন করে সময় ও শ্রম নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমবে।

প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম বলেন, কর্মজীবন শুরু করা তরুণ কিংবা পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের চাকরিতে আবেদন করার আগেই বেতন সম্পর্কে জানা উচিত। এ কারণে সব নিয়োগদাতার জন্য বেতনের তথ্য প্রকাশ আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক করা হবে।

ব্রিটেনে কর্মসংস্থান, শিক্ষা কিংবা প্রশিক্ষণের বাইরে থাকা ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণদের সংখ্যা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। বর্তমানে এ বয়সী প্রায় ১০ লাখ তরুণ এই শ্রেণিতে রয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত ১৩ শতাংশ তরুণ কর্মসংস্থান, শিক্ষা বা প্রশিক্ষণের বাইরে ছিল। এর আগে জানুয়ারি থেকে মার্চ সময়ে এ সংখ্যা ১০ লাখ ছাড়িয়ে যায়, যা ২০১৩ সালের পর প্রথম ঘটনা।

চার্টার্ড ইনস্টিটিউট অব পার্সোনেল অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের এক গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র ৪১ শতাংশ নিয়োগদাতা নিয়মিত চাকরির বিজ্ঞাপনে বেতনের তথ্য উল্লেখ করেন। অন্যদিকে, ২৭ শতাংশ নিয়োগদাতা কখনোই বিজ্ঞাপনে বেতনের পরিমাণ প্রকাশ করেন না।

এদিকে, ব্রিটেনে চাকরির সুযোগও কমছে। অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিকসের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে দেশটিতে চাকরির শূন্যপদ ২১ হাজার কমে ৬ লাখ ৯১ হাজারে দাঁড়িয়েছে।

লেবার সরকারের কর্মসংস্থান নীতির সমালোচনা করেছেন কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি বেডেনক। তার দাবি, লেবার সরকারের কারণে চাকরি হারাচ্ছেন মানুষ। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য জ্বালানির দাম কমানো, শ্রমবাজারে নমনীয়তা এবং কর কমানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

অন্যদিকে, লিবারেল ডেমোক্র্যাট নেতা স্যার এড ডেভি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অভাবকে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, উচ্চ কর, জনসেবার দুরবস্থা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

চাকরির বিজ্ঞাপনে বেতনের তথ্য প্রকাশ বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে ট্রেডস ইউনিয়ন কংগ্রেসের (টিইউসি) সাধারণ সম্পাদক পল নওয়াক। তিনি বলেন, চাকরিপ্রার্থীদের দীর্ঘ আবেদন ও সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়া শেষ করার পর বেতনের পরিমাণ জানতে হওয়া হতাশাজনক। নিয়োগদাতাদের শুরু থেকেই বেতনের তথ্য স্পষ্ট করা উচিত।

তিনি আরও বলেন, চাকরির বিজ্ঞাপনে নমনীয়ভাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে কি না, সেটিও উল্লেখ বাধ্যতামূলক করা উচিত।

ফসেট সোসাইটির প্রধান নির্বাহী পেনি ইস্ট বলেন, বেতনের তথ্য গোপন রাখার কারণে দীর্ঘদিন ধরে নারীরা বেতন নিয়ে আলোচনায় পিছিয়ে পড়েছেন। চাকরির বিজ্ঞাপনে বেতন প্রকাশ বাধ্যতামূলক হলে নারী-পুরুষের বেতন বৈষম্য কমাতেও সহায়তা করবে।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এমকে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্য থেকে তল্পিতল্পা গোটানোর হুমকি টেক জায়ান্টদের

যুক্তরাজ্যে ইরানের সঙ্গে কথিত সম্পর্কের অভিযোগে তদন্তাধীন চ্যারিটির ভিসা ক্ষমতা বাতিলের দাবি

রোমানিয়া: নতুন বছরের প্রথম ১১ দিনেই ‘ডিপোর্ট’ ১০০ অভিবাসী