ব্রিটেনে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঘরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য মজুত রাখার সরকারি আহ্বানের পর টিনজাত খাবার, রেডিও, টর্চলাইট ও পাওয়ার ব্যাংকের বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দেশটির বিভিন্ন সুপারমার্কেট ও খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, সরকারের ‘বি রেডি’ বা ‘প্রস্তুত থাকুন’ প্রচারাভিযানের পর এসব পণ্যের চাহিদা বেড়েছে। বিবিসির নিউজ নাইট অনুষ্ঠানের সংগ্রহ করা তথ্য থেকে এ চিত্র উঠে এসেছে।
আইসল্যান্ড সুপারমার্কেট জানিয়েছে, এক সপ্তাহান্তে তাদের টিনজাত খাবারের বিক্রি ৪০ শতাংশ বেড়েছে। বোতলজাত পানির বিক্রিও ছিল শক্তিশালী। প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র বলেন, সরকারি বার্তায় ক্রেতারা সাড়া দিয়েছেন। তবে টিনজাত খাবার ও বোতলজাত পানির পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
গৃহস্থালি পণ্য বিক্রেতা রবার্ট ডায়াস জানিয়েছে, আগের সপ্তাহের তুলনায় তাদের রেডিওর বিক্রি ১৬০ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে, ম্যাপলিনের তথ্য অনুযায়ী, সরকারের ঘোষণার পর আগের মাসের একই সময়ের তুলনায় রেডিওর বিক্রি ৯২ শতাংশ, টর্চলাইটের বিক্রি ২৮৪ শতাংশ এবং পাওয়ার ব্যাংকের বিক্রি ১০৬ শতাংশ বেড়েছে।
ম্যাপলিনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অলি মার্শাল বলেন, ‘বি রেডি’ প্রচারাভিযান ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মানুষ টর্চ, হাতে ঘুরিয়ে চার্জ করা যায় এমন রেডিও এবং পাওয়ার ব্যাংকের মতো প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে শুরু করেন। তিন দিনের মধ্যে টর্চের বিক্রি প্রায় চার গুণ এবং রেডিওর বিক্রি প্রায় দ্বিগুণ হয়েছিল বলে জানান তিনি।
গত ২২ অক্টোবর ব্রিটেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং নাগরিকদের সম্ভাব্য জরুরি পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দেন। সাইবার হামলা, চরম আবহাওয়া কিংবা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মতো পরিস্থিতিতে সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হতে পারে উল্লেখ করে তিনি ঘরে প্রয়োজনীয় পণ্য রাখার আহ্বান জানান।
স্ট্রিটিংয়ের পরামর্শ অনুযায়ী, প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য প্রতিদিন তিন লিটার পানি, টিনজাত খাবার, শিশুখাদ্য, ব্যাটারিচালিত টর্চ এবং মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়ার জন্য পাওয়ার ব্যাংক রাখা উচিত। বন্যা, বিদ্যুৎ বিভ্রাট কিংবা পানির পাইপ ফেটে সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতিতে এসব পণ্য কাজে আসতে পারে।
বিবিসির নিউজ নাইট অনুষ্ঠানকে দেওয়া বক্তব্যে স্ট্রিটিং বলেন, মানুষ বাস্তবসম্মত প্রস্তুতি নিচ্ছেন, এটি উৎসাহব্যঞ্জক। টিনজাত খাবার ও টর্চের মতো সাধারণ প্রয়োজনীয় পণ্য ঘরে রাখলে বিভিন্ন পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার সময় পরিবারগুলো প্রস্তুত থাকতে পারবে। ব্রিটেনকে আরও দুর্যোগ-সহনশীল করে তুলতে প্রত্যেকের ভূমিকা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বড় বিক্রেতাদের পাশাপাশি জরুরি প্রস্তুতিসামগ্রী বিক্রি করা ছোট ব্যবসাগুলোতেও বিক্রি বেড়েছে। অনলাইন প্রতিষ্ঠান সার্জেন্ট প্রেপারের জশ প্রিংগল জানান, সরকারি প্রচারাভিযান শুরুর পর তাদের বিক্রি প্রায় ১০ গুণ বেড়েছে। ক্রেতাদের মধ্যে হাতে ঘুরিয়ে চার্জ করা যায় এমন রেডিওর চাহিদা ছিল উল্লেখযোগ্য।
প্রিপার্স শপ ইউকের প্রতিষ্ঠাতা লিংকন মাইলস জানান, সরকারি ঘোষণার পর তাদের বিক্রি ৬৫০ শতাংশ বেড়েছে। প্রচলিত বিদ্যুৎ ও অন্যান্য পরিষেবার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে চলার উপযোগী পণ্যের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়ছে বলেও জানান তিনি।
ব্রিটিশ সরকারের এই প্রচারাভিযানের উদ্দেশ্য জরুরি পরিস্থিতিতে পরিবারগুলোকে প্রাথমিকভাবে নিজেদের প্রয়োজন মেটানোর প্রস্তুতি নিতে উৎসাহিত করা। সরকারের সতর্কবার্তায় সাইবার হামলা, চরম আবহাওয়া ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মতো সম্ভাব্য পরিস্থিতির কথা বলা হয়েছে।
সূত্রঃ বিবিসি নিউজ
এমকে

