17.8 C
London
September 15, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটেনে ডানপন্থীদের রুখতে অভিবাসীদের পক্ষে রাজপথে মানুষ

যুক্তরাজ্যের পোর্টসমাউথ শহরে অভিবাসন ইস্যুকে কেন্দ্র করে অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভকারী ও বর্ণবাদবিরোধী পাল্টা বিক্ষোভকারীরা মুখোমুখি সমাবেশ করেছে। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) শহরের গিল্ডহল স্কয়ারে দুই পক্ষের সমাবেশকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হ্যাম্পশায়ার পুলিশ ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

ঘটনার সূত্রপাত মূলত ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে ছোট নৌকায় করে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের যুক্তরাজ্যে পৌঁছানোকে কেন্দ্র করে। সেপ্টেম্বরের শুরুতে পোর্টসমাউথের ইস্টনি মেরিনায় প্রায় ১৪০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী পৌঁছানোর পর সেখানে অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভ হয়। ওই বিক্ষোভে রাস্তা অবরোধ এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।

এর ধারাবাহিকতায় ১২ সেপ্টেম্বর পোর্টসমাউথে ফের বড় সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়। স্থানীয় উগ্র-ডানপন্থী গোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত ‘সাউথ কোস্ট প্যাট্রিয়টস’ ও ‘পোর্টসমাউথ প্যাট্রিয়টস’-এর সমর্থকেরা যুক্তরাজ্যের জাতীয় পতাকা হাতে সমাবেশে অংশ নেয়। তারা ‘স্টপ দ্য বোটস’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেয় এবং ইংলিশ চ্যানেল দিয়ে ছোট নৌকায় অভিবাসনপ্রত্যাশীদের আগমন বন্ধের দাবি জানায়।

অন্যদিকে অভিবাসনবিরোধী অবস্থানের প্রতিবাদে ‘স্ট্যান্ড আপ টু রেসিজম’ সংগঠনের কর্মী ও অন্যান্য পাল্টা বিক্ষোভকারীরাও গিল্ডহল স্কয়ারে জড়ো হন। তাদের হাতে ছিল বর্ণবাদবিরোধী বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড। তারা ‘কাউকে বর্ণবাদকে দেশপ্রেম বলা যাবে না’ এবং ‘কেউ এখানে অবৈধ নয়’—এ ধরনের স্লোগান ও বার্তা তুলে ধরেন।

আগের সপ্তাহে পোর্টসমাউথে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সহিংসতার ঘটনা ঘটায় এবার হ্যাম্পশায়ার পুলিশ আগে থেকেই ব্যাপক নিরাপত্তা প্রস্তুতি নেয়। সম্ভাব্য সংঘর্ষ ঠেকানো এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের বিশেষ ক্ষমতাও প্রয়োগ করা হয়। অপরাধ ও পুলিশিং আইনের আওতায় বিক্ষোভস্থলে মুখ ঢেকে রাখা বা মুখোশ পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। পরিচয় গোপন করে সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ঠেকাতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।

সমাবেশ চলাকালে গিল্ডহল স্কয়ারে দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নেয় এবং পাল্টাপাল্টি স্লোগান দেয়। পরবর্তী সময়ে বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভকারীরা সমাবেশস্থল থেকে চলে যাওয়ার সময় প্রায় ১০০ জন অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভকারী তাদের পিছু নেয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এরপর শহরের কয়েকটি গলিতে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও রাস্তা অবরোধের অভিযোগে অন্তত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি সম্ভাব্য সংঘর্ষ এড়াতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। আগের বিক্ষোভের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবার সমাবেশস্থল ও আশপাশের এলাকায় বিশেষ নজরদারি চালায়।

যুক্তরাজ্য সরকারের পক্ষ থেকেও বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ভয়ভীতি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির নিন্দা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

পোর্টসমাউথের ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটেছে, যখন ইংলিশ চ্যানেল দিয়ে ছোট নৌকায় যুক্তরাজ্যে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের আগমন দেশটির রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের দাবির পাশাপাশি বর্ণবাদ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে অবস্থানও বিভিন্ন সংগঠনের কর্মসূচিতে উঠে আসছে।

পোর্টসমাউথের এই সমাবেশে একদিকে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের দাবি এবং অন্যদিকে বর্ণবাদ ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে অবস্থান—দুই ধরনের রাজনৈতিক ও সামাজিক বক্তব্যই প্রকাশ্যে আসে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশি প্রস্তুতি এবং আইন প্রয়োগের মাধ্যমে বড় ধরনের সংঘাত এড়ানোর চেষ্টা করা হয়।

সূত্রঃ বিবিসি \ ইনফো মাইগ্র‍্যান্টস

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যের রাস্তায় ঘটেছে ভয়ঙ্কর হত্যাকাণ্ড

নকল গর্ভাবস্থাঃ নাইজেরিয়া থেকে শিশুপাচারে ব্রিটিশ নারীর চাঞ্চল্যকর পরিকল্পনা ফাঁস

সৌদিতে চাকরি খুঁজছেন টরি এমপি