ব্রিটেনে প্রতিবেশীদের আতশবাজির শব্দ ও ধোঁয়ায় অতিষ্ঠ হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে নির্ধারিত সময়ের বাইরে আতশবাজি ফোটানো, অতিরিক্ত শব্দ সৃষ্টি কিংবা বিপজ্জনকভাবে আতশবাজি ব্যবহারের বিরুদ্ধে স্থানীয় কাউন্সিল ও পুলিশের কাছে অভিযোগ করা যেতে পারে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
মাই লন্ডনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে সাধারণত সকাল ৭টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত আতশবাজি ফোটানোর অনুমতি রয়েছে। তবে ৫ নভেম্বর বনফায়ার নাইটে এই সময়সীমা মধ্যরাত পর্যন্ত বাড়ানো হয়। অর্থাৎ নির্ধারিত সময়ের পরে আতশবাজি ব্যবহার করলে তা আইন লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
ইনজুরি লইয়ার্স ফোর ইউ-এর আইনজীবী অ্যান্ড্রু টাম্বলি বলেন, নিজের বাড়ির বাগানে আতশবাজি ফোটালেও নির্ধারিত সময়সীমা মানতে হবে। রাত ১২টার পর আতশবাজি ব্যবহার করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আইন ভঙ্গ করতে পারেন।
২০০৩ সালের ফায়ারওয়ার্কস অ্যাক্টের অধীনে প্রণীত ২০০৪ সালের ফায়ারওয়ার্কস রেগুলেশনের ৭ নম্বর বিধিতে আতশবাজি ব্যবহারের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
আইনজীবীদের মতে, শুধু নির্ধারিত সময়ের বাইরে আতশবাজি ফোটানোই নয়, অতিরিক্ত শব্দ ও ধোঁয়ার কারণেও প্রতিবেশীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা সম্ভব। ফ্রিথসের সম্পত্তি বিরোধবিষয়ক আইনজীবী কার্লি ফিশউইক বলেন, আতশবাজির শব্দ পরিবেশ সুরক্ষা আইন ১৯৯০ অনুযায়ী ব্যক্তিগত বা আইনগত উপদ্রব হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
এ ধরনের উপদ্রব প্রমাণিত হলে স্থানীয় কাউন্সিল শব্দ নিয়ন্ত্রণের নির্দেশ বা নোটিশ জারি করতে পারে। সেই নির্দেশ অমান্য করলে সর্বোচ্চ ৫ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত জরিমানার মুখে পড়তে পারেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি।
আইনজীবীরা আরও জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রির জন্য অনুমোদিত আতশবাজির শব্দের মাত্রা সর্বোচ্চ ১২০ ডেসিবেলের মধ্যে থাকতে হয়। বারকেটস এলএলপির আইনজীবী ড্যানিয়েল ইলে বলেন, এই সীমা অতিক্রম করা ক্যাটাগরি এফথ্রি আতশবাজি সরবরাহ, কেনা বা নিজের কাছে রাখাও বেআইনি।
এ ছাড়া কোনো সড়ক, রাস্তা বা জনসাধারণের চলাচলের জায়গায় আতশবাজি নিক্ষেপ করা কিংবা জ্বালানো অপরাধ। আতশবাজি প্রদর্শনের পর পড়ে থাকা ধ্বংসাবশেষ পরিষ্কার করার দায়িত্বও সংশ্লিষ্ট আয়োজকদের রয়েছে।
প্রতিবেশীর আতশবাজির কারণে নিয়মিত সমস্যা হলে আইনজীবীরা প্রতিটি ঘটনার সময়, তারিখ এবং কতক্ষণ ধরে আতশবাজি ফোটানো হচ্ছে, তার বিস্তারিত নথি রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। এসব তথ্যপ্রমাণ নিয়ে স্থানীয় কাউন্সিলের কাছে অভিযোগ করা যেতে পারে।
অন্যদিকে, প্রতিবেশীরা বিপজ্জনকভাবে আতশবাজি ব্যবহার করলে কিংবা নির্ধারিত সময়ের বাইরে আতশবাজি ফোটালে পুলিশের ১০১ নম্বরে ফোন করে অভিযোগ জানানো অথবা অনলাইনে রিপোর্ট করার সুযোগ রয়েছে।
তবে আতশবাজি ছুড়ে মানুষ বা সম্পত্তির ক্ষতি করার আশঙ্কা থাকলে কিংবা জীবন ও সম্পত্তির তাৎক্ষণিক বিপদ তৈরি হলে জরুরি নম্বর ৯৯৯-এ যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন ফ্রিথসের আইনজীবী কার্লি ফিশউইক।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে ব্যক্তিগত আবাসিক জমিতে আতশবাজি ফোটানো সব সময় বেআইনি নয়। তবে এ ক্ষেত্রে নিরাপত্তাবিধি, শব্দের সীমা এবং নির্ধারিত সময় মেনে চলা বাধ্যতামূলক।
সূত্রঃ মাই লন্ডন
এমকে

