ব্রিটেনে ২০২৪ সালে লিডসের হেয়ারহিলস এলাকায় দাঙ্গায় অংশ নেওয়ার মিথ্যা অভিযোগ ছড়ানোর ঘটনায় মুসলিম কাউন্সিলর মতিন আলীর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন জিবি নিউজের উপস্থাপক অ্যালেক্স আর্মস্ট্রং এবং ডানপন্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভাষ্যকার বার্নাডেট স্পফোর্থ। একই সঙ্গে তারা উল্লেখযোগ্য অঙ্কের ক্ষতিপূরণ ও আইনি খরচ দিতে সম্মত হয়েছেন। ১৬ অক্টোবর শুক্রবার লন্ডনের হাইকোর্টে মামলার নিষ্পত্তির বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
লিডস সিটি কাউন্সিলের গিপটন ও হেয়ারহিলস এলাকার নির্বাচিত প্রতিনিধি মতিন আলী ২০২৪ সালে ওই এলাকায় সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলার সময় উত্তেজনা প্রশমিত করতে এবং পুলিশকে সহায়তা করতে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন পোস্টে তাকে দাঙ্গায় অংশগ্রহণকারী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।
এ ঘটনায় মতিন আলী অ্যালেক্স আর্মস্ট্রং ও বার্নাডেট স্পফোর্থের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন। এক্সে প্রকাশিত তাদের পোস্টের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে দাঙ্গায় জড়িত থাকার অভিযোগ ছড়ানো হয়েছিল। শুক্রবার হাইকোর্টে বিবাদীপক্ষের আইনজীবী সামান্থা থম্পসন জানান, তার মক্কেলরা মতিন আলীর সুনামের গুরুতর ক্ষতি এবং মানসিক কষ্টের জন্য ক্ষমা চাইছেন।
আদালতে উপস্থাপিত বিবরণ অনুযায়ী, মতিন আলী শুধু ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না; বরং পরিস্থিতি শান্ত করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। তার পক্ষে আইনজীবী জানান, পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাকে সহায়তার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে, পুলিশ ও কমিউনিটির মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করতে এবং আগুন নেভানোর কাজেও সহায়তা করেন।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে ছড়ানো অভিযোগের কারণে তাকে বিভিন্ন স্থানে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। অনলাইনে বর্ণবাদী গালিগালাজের শিকার হওয়ার পাশাপাশি তার পরিবারও আতঙ্কের মধ্যে ছিল বলে আদালতে জানানো হয়। তার গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
মতিন আলী আদালতের বাইরে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, দাঙ্গার সময় বাসে আগুন জ্বলছিল, আর তিনি ক্ষয়ক্ষতি কমানোর চেষ্টা করছিলেন। নিজের কমিউনিটির ক্ষতি ঠেকাতে কাজ করার পরও তাকে দাঙ্গায় অংশ নেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে এবং তার সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
গ্রিন পার্টির নেতা জ্যাক পোলানস্কি মতিন আলীর ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, তিনি উত্তেজনা কমাতে এবং বিভেদ দূর করতে একজন দায়িত্বশীল কাউন্সিলরের মতো কাজ করেছেন। তার মতে, মতিন আলীর এই আইনি সাফল্য বর্ণবাদী অপপ্রচার ও হয়রানির বিরুদ্ধে লড়াই করা অন্য রাজনীতিকদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্রঃ আইটিভি নিউজ
এমকে

