23.9 C
London
May 30, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ব্রিটেনে বাড়ছে দীর্ঘমেয়াদি রেন্টাল প্রপার্টি নির্ভরতাঃ আবাসন সংকটে চাপে পরিবারগুলো

যুক্তরাজ্যে আবাসন সংকটের প্রভাব এখন সবচেয়ে বেশি পড়ছে শিশু ও তরুণ পরিবারগুলোর ওপর। নতুন পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বর্তমানে কর্মক্ষম বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় বেশি সংখ্যক শিশু রেন্টাল প্রপার্টিতে বসবাস করছে। বিশ্লেষকদের মতে, বাড়ির উচ্চমূল্য, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং আবাসন বাজারে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতার কারণে দেশটিতে পরিবারগুলোর আবাসন চিত্র দ্রুত বদলে যাচ্ছে।

সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাজ্যের ২৩ শতাংশ শিশু রেন্টাল প্রপার্টিতে বসবাস করছে, যেখানে কর্মক্ষম বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে এই হার ২২ শতাংশ। আবাসন গবেষকরা বলছেন, এটি ব্রিটেনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, রেন্টাল প্রপার্টিতে থাকা শিশুদের সংখ্যা গত দুই দশকে প্রায় তিনগুণ বেড়েছে। ২০০০-০১ সালে যেখানে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ১১ লাখ, সেখানে ২০২৪-২৫ সালে তা বেড়ে আনুমানিক ৩২ লাখে পৌঁছেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাড়ির মালিকানা অর্জনের ব্যয় ক্রমাগত বেড়ে যাওয়ায় তরুণ পরিবারগুলো বাধ্য হয়ে দীর্ঘমেয়াদে রেন্টাল প্রপার্টিতে বসবাস করছে। বাড়ির দাম বৃদ্ধি, উচ্চ সুদের হার এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে অনেক পরিবার এখন নিজের বাড়ি কেনার স্বপ্ন থেকে দূরে সরে যাচ্ছে।

যুক্তরাজ্যের রেন্টাল প্রপার্টি খাতও গত দুই দশকে ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হয়েছে। বর্তমানে দেশটিতে প্রায় ৫১ লাখ পরিবারের ১ কোটি ২৯ লাখ মানুষ রেন্টাল প্রপার্টিতে বসবাস করছে, যা শতাব্দীর শুরু থেকে দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আগে রেন্টাল প্রপার্টিকে মূলত শিক্ষার্থী ও স্বল্পমেয়াদি কর্মজীবীদের আবাসন হিসেবে দেখা হতো। কিন্তু এখন এটি পরিবার ও শিশুদের দীর্ঘমেয়াদি আবাসনে পরিণত হচ্ছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০০-০১ সালে ৩০ বছর বয়সীদের মধ্যে মাত্র ১০ শতাংশ রেন্টাল প্রপার্টিতে থাকতেন। বর্তমানে সেই হার বেড়ে ২৮ শতাংশে পৌঁছেছে। এর মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে, অনেক পরিবার দীর্ঘ সময় ধরে ভাড়াভিত্তিক আবাসনেই জীবন কাটাতে বাধ্য হচ্ছে।

এ পরিস্থিতির মধ্যে ইংল্যান্ডে সম্প্রতি কার্যকর হয়েছে রেন্টার্স রাইটস অ্যাক্ট ২০২৫। নতুন এই আইন ভাড়াটিয়াদের অধিক সুরক্ষা দেওয়ার লক্ষ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে।

আইন অনুযায়ী, বাড়িওয়ালারা আর সেকশন ২১-এর আওতায় ‘কারণ ছাড়াই উচ্ছেদ’ করতে পারবেন না। পাশাপাশি পোষা প্রাণী রাখার আবেদন বিবেচনা করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং অন্যায্য ভাড়া বৃদ্ধির বিরুদ্ধে ভাড়াটিয়াদের আইনি চ্যালেঞ্জ করার সুযোগও রাখা হয়েছে।

আবাসন অধিকারকর্মীরা বলছেন, নতুন আইন ভাড়াটিয়াদের কিছুটা নিরাপত্তা দিলেও আবাসন সংকটের মূল সমস্যাগুলো এখনো রয়ে গেছে। তাদের মতে, পর্যাপ্ত সাশ্রয়ী মূল্যের বাড়ি নির্মাণ না হলে তরুণ পরিবার ও শিশুদের ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাজ্যের আবাসন বাজারে যে পরিবর্তন ঘটছে তা শুধু অর্থনৈতিক নয়, বরং সামাজিক কাঠামোর ওপরও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে বিপুল সংখ্যক শিশু দীর্ঘমেয়াদে অনিশ্চিত রেন্টাল প্রপার্টিতে বেড়ে ওঠায় তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানসিক স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব পড়তে পারে।

সূত্রঃ দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে দ্বিতীয় বাড়ির মালিকদের কর দ্বিগুণ করবে কাউন্সিল

নিউজ ডেস্ক

প্রায় ১৫ বছর পর বিরোধী শিবিরে যাচ্ছে কনজারভেটিভ পার্টি!

যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিবের সিদ্ধান্তে কারণে হতাশ এক বাবা