যুক্তরাজ্যের ক্ষমতা ও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্র লন্ডনের বাইরে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে ম্যানচেস্টারে নতুন সরকারি কার্যালয় ‘No10 North’ (নম্বর ১০ নর্থ) উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। ক্ষমতায় আসার পর এটিকে তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এই কার্যালয় হবে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার একটি নতুন কৌশলগত কেন্দ্র, যেখানে আঞ্চলিক নেতৃত্বকে জাতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করা হবে।
ম্যানচেস্টারের হেরন হাউস-এ স্থাপিত নতুন এই কার্যালয়কে সরকার ‘গ্রোথ সিচুয়েশন রুম’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। এখান থেকেই পুনর্গঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক কাউন্সিল-এর বৈঠক পরিচালিত হবে। কাউন্সিলে মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠ সদস্যদের পাশাপাশি ইংল্যান্ডের বিভিন্ন অঞ্চলের নির্বাচিত মেয়র এবং স্থানীয় নেতারাও অংশ নেবেন। সরকারের দাবি, এর মাধ্যমে লন্ডনকেন্দ্রিক নীতিনির্ধারণের পরিবর্তে অঞ্চলভিত্তিক বাস্তব চাহিদা ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বলেন, বহু দশক ধরে হোয়াইটহলের হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত ছিল। তার মতে, যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চল অর্থনৈতিকভাবে সমান সুযোগ পায়নি এবং সেই ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “যেসব সিদ্ধান্ত মানুষের জীবন ও স্থানীয় অর্থনীতিকে প্রভাবিত করে, সেগুলোর অনেকটাই সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের কাছাকাছি থেকেই নেওয়া উচিত।”
সরকার জানিয়েছে, No10 North শুধু একটি প্রতীকী অফিস নয়; এটি উত্তর ইংল্যান্ডসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক প্রবৃদ্ধির কৌশল বাস্তবায়নের কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। জাতীয় অর্থনৈতিক কাউন্সিল নিয়মিতভাবে এখান থেকে বৈঠক করবে এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি সমন্বয়ের মাধ্যমে নীতি বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করবে।
তবে বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টি এই উদ্যোগের তীব্র সমালোচনা করেছে। দলের নেতা কেমি ব্যাডেনক অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী এখনো গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়রের মতো আচরণ করছেন এবং জাতীয় সংকট মোকাবিলার পরিবর্তে প্রতীকী উদ্যোগে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। তার মতে, অর্থনৈতিক চাপ, জনসেবার সংকট, স্বাস্থ্যসেবা এবং অভিবাসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোর সমাধানই বর্তমানে সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।
সমালোচকদের কেউ কেউ মনে করছেন, নতুন অফিস খোলার মাধ্যমে প্রশাসনিক কাঠামোতে বড় পরিবর্তনের বার্তা দেওয়া হলেও বাস্তবে এটি কতটা কার্যকর হবে, তা এখনই বলা কঠিন। আবার অন্য বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা ডিভোলিউশন বা ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ প্রক্রিয়াকে আরও এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর ইংল্যান্ডে অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানো এবং লন্ডনের বাইরে সরকারি কার্যক্রম সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি বহু বছর ধরেই বিভিন্ন সরকার দিয়ে এসেছে। তবে এবার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের একটি অংশ সরাসরি ম্যানচেস্টারে স্থানান্তর করে সেই প্রতিশ্রুতিকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
তবে এই উদ্যোগ কতটা সফল হবে, তা নির্ভর করবে ঘোষিত নীতিগুলো বাস্তবে কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয়, আঞ্চলিক নেতৃত্বকে কতটা কার্যকর ক্ষমতা দেওয়া হয় এবং এর ফলে যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও আঞ্চলিক বৈষম্য কমাতে কতটা ইতিবাচক প্রভাব পড়ে—সেদিকেই এখন নজর থাকবে রাজনৈতিক মহল ও অর্থনীতিবিদদের।
সূত্রঃ জিবি নিউজ
এম.কে

