সিলেট নগরের তালতলা এলাকার পার্কভিউ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা, হাতাহাতি ও হামলার অভিযোগ উঠেছে। আন্দোলনের মধ্যে সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরীকে ঘিরে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সিলেট টুডে ২৪-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার (৩ অক্টোবর) সকাল থেকে পার্কভিউ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে কর্মবিরতি ঘোষণা করে আন্দোলনে নামেন। তারা হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আন্দোলনকারীদের কর্মসূচি থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধ করলেও তারা অবস্থান চালিয়ে যান।
দুপুরের দিকে হাসপাতালে যান সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী। কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, এ সময় আন্দোলনকারীদের কয়েকজন তাকে ঘিরে ‘ভুয়া ভুয়া’সহ বিভিন্ন আপত্তিকর স্লোগান দেন। এরপর হাসপাতালজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরে সেমিনার হলে স্লোগান দেওয়ার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় এক কর্মচারীকে পুলিশ আটক করে এবং তার হাতে হ্যান্ডকাপ পরানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে ওই কর্মচারী এমদাদ হোসেন চৌধুরীর কাছে ক্ষমা চান।
আন্দোলনরত কর্মচারীদের অভিযোগ, ওই কর্মচারী ক্ষমা চাওয়ার সময় বহিরাগত কয়েকজন তাকে মারধর করেন। পরে তিনি কক্ষ থেকে বের হয়ে লিফটের সামনে গেলে সেখানেও তাকে আবার মারধর করা হয়। কর্মচারীদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, হামলাকারীদের মধ্যে বিএনপির নেতাকর্মীরাও ছিলেন। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এমদাদ হোসেন চৌধুরী।
ঘটনার পর হাসপাতালের ভেতরে কর্মচারী ও বহিরাগতদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি, হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনা ঘটে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বেশ কয়েকজন কর্মচারী আহত হয়েছেন বলে আন্দোলনকারীরা দাবি করেন।
পার্কভিউ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা শাখার কর্মচারী আহমদ আল জুবের বলেন, স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় তারা এমদাদ হোসেন চৌধুরীর কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন। এরপর তাদের ওপর হামলা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তার দাবি, ঘটনায় প্রায় ১০ জন কর্মী আহত হয়েছেন।
আরেক কর্মচারী অভিযোগ করেন, তিনি দীর্ঘদিন বিএনপির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার দাবি, বিএনপির লোকজনই তার ওপর হামলা করেছেন। তিনি বলেন, স্লোগানের জন্য ক্ষমা চাওয়ার পরও তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে এমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ কয়েকজন নেতা প্রায় দুই ঘণ্টা হাসপাতালের ভেতরে অবস্থান করেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। বিকেলে তারা হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার সময় আবারও আপত্তিকর স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে ফের ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।
তবে বিএনপির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী। তিনি বলেন, আন্দোলনরত কর্মচারীদের বহিরাগত কয়েকজন মারধর করেছে বলে তিনি শুনেছেন। তবে এতে বিএনপির কেউ জড়িত নয়। তিনি বিষয়টি সমাধান করে এসেছেন এবং কর্মচারীরাও আন্দোলন স্থগিত করেছেন।
স্লোগানের বিষয়ে এমদাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, আন্দোলন চলাকালে কর্মচারীরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে উদ্দেশ্য করে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিয়েছিলেন; তাকে উদ্দেশ্য করে নয়।
ঘটনার বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. মঈনুল জাকির জানান, হাসপাতালের কর্মচারীরা বেতন বৃদ্ধির দাবিতে কাজ বন্ধ রেখে আন্দোলন করছিলেন। এ সময় তাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
এদিকে, আন্দোলনের পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধিতে সম্মত হয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে কর্মসূচি স্থগিত করে কর্মচারীরা কাজে ফেরার উদ্যোগ নিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্রঃ সিলেট টুডে ২৪
এমকে

