ব্রিটেন সরকার জানিয়েছে, ঘানা, ভারত ও নাইজেরিয়ায় প্রশিক্ষণ নেওয়া শিক্ষকরা ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে ইংল্যান্ডে ‘কোয়ালিফায়েড টিচার স্ট্যাটাস’ (QTS) পাওয়ার জন্য নির্ধারিত বিদেশি শিক্ষক আবেদন প্রক্রিয়া ব্যবহার করতে পারবেন না।
ইংল্যান্ডে কিউটিএসের জন্য আবেদনসংক্রান্ত যোগ্যতার শর্ত পর্যালোচনার পর এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো দেশের শিক্ষকরা এই নির্দিষ্ট পথে আবেদন করতে হলে ওই দেশে এমন একটি জাতীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা থাকতে হবে, যারা সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের পেশাগত অবস্থান নিশ্চিত করতে পারে এবং যাচাইযোগ্য রেফারেন্স সরবরাহ করতে সক্ষম।
ব্রিটেন সরকার তিনটি দেশকে বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে পৃথক কারণ উল্লেখ করেছে।
ভারতকে বাদ দেওয়া হয়েছে কারণ দেশটিতে এমন কোনো জাতীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা নেই, যারা পৃথক শিক্ষকের পেশাগত অবস্থান নিশ্চিত করতে পারে।
অন্যদিকে, ঘানা ও নাইজেরিয়ার ক্ষেত্রে আবেদনসংক্রান্ত তথ্যের একটি নির্দিষ্ট প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সরকার।
সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ওই দুই দেশ থেকে আসা শিক্ষকদের ৭০ শতাংশের বেশি আবেদনে কর্ম-অভিজ্ঞতার রেফারেন্স হিসেবে ব্যক্তিগত ই-মেইল ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে। এসব ই-মেইলের মধ্যে জিমেইল বা হটমেইলের মতো ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টও রয়েছে। এর পরিবর্তে সাধারণত সংশ্লিষ্ট স্কুল বা প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল ই-মেইল ডোমেইন ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, ব্যক্তিগত ই-মেইল ঠিকানা ব্যবহার করার ফলে আবেদন যাচাইকারীদের জন্য তথ্য যাচাই করতে অতিরিক্ত সময় ও সম্পদ ব্যয় করতে হয়। এতে আবেদন যাচাইয়ের প্রক্রিয়ায় বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়।
ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, কিউটিএস আবেদনে দেওয়া তথ্য যে সত্য ও নির্ভরযোগ্য, সে বিষয়ে তাদের নিশ্চিত হতে হবে। কারণ ইংল্যান্ডের স্কুলে কিউটিএস পাওয়া বিদেশি শিক্ষকরা প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা নিয়ে কাজ করছেন কি না, তা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।
৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে ঘানা, ভারত ও নাইজেরিয়ায় প্রশিক্ষণ নেওয়া শিক্ষকরা নির্দিষ্ট বিদেশি শিক্ষক কিউটিএস আবেদন প্রক্রিয়ার আওতায় আর আবেদন করতে পারবেন না।
তবে এসব দেশের শিক্ষকরা ইংল্যান্ডে শিক্ষকতা পেশায় প্রবেশের জন্য অন্যান্য বিদ্যমান পথ ও বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজে দেখতে পারবেন।
এর আগে ইংল্যান্ড সরকার সম্ভাব্য শিক্ষকদের শিক্ষক প্রশিক্ষণ কোর্সে আবেদন করার আগে যেসব শর্ত পূরণ করতে হবে, সেগুলোর পূর্ণাঙ্গ তালিকাও প্রকাশ করেছে।
সরকারি শিক্ষক প্রশিক্ষণ পোর্টালের মাধ্যমে স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং ডিগ্রি অ্যাপ্রেন্টিসশিপ—উভয় ধরনের প্রশিক্ষণ পথের জন্য বিভিন্ন শর্ত রয়েছে।
সূত্রঃ লেজিট.এনজি\ ব্রিটেন সরকারের শিক্ষকতার যোগ্যতা ও কিউটিএস সংক্রান্ত নির্দেশনা।
এমকে

