ব্রিটেনে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ করদাতাকে সেলফ অ্যাসেসমেন্ট ট্যাক্স রিটার্ন জমা দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছে দেশটির রাজস্ব ও শুল্ক বিভাগ (এইচএমআরসি)। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ট্যাক্স রিটার্ন জমা না দিলে অন্তত ১০০ পাউন্ড জরিমানা হতে পারে। কর দেওয়ার মতো কোনো অর্থ বকেয়া না থাকলেও সময়মতো রিটার্ন জমা না দেওয়ার জন্য এই জরিমানা প্রযোজ্য হতে পারে।
ডেইলি এক্সপ্রেসের ২৩ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ করবর্ষের অনলাইন ট্যাক্স রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ সময় ২০২৭ সালের ৩১ জানুয়ারি। তবে কাগজে পূরণ করা ট্যাক্স রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ সময় ২০২৬ সালের ৩১ অক্টোবর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট। তাই কাগজে রিটার্ন জমা দিতে আগ্রহীদের হাতে সময় রয়েছে মাত্র কয়েক দিন।
এইচএমআরসির প্রধান গ্রাহকসেবা কর্মকর্তা মার্টল লয়েড ২৩ অক্টোবর বলেন, সেলফ অ্যাসেসমেন্ট ট্যাক্স রিটার্ন জমা দেওয়ার সময়সীমা শেষ হতে আর ১০০ দিন বাকি। তাই এখনই রিটার্ন জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া এবং সম্ভব হলে আগেভাগে তা সম্পন্ন করা উচিত। এ বিষয়ে সরকারি ওয়েবসাইটে নির্দেশনা ও সহায়তা পাওয়া যাবে বলেও জানান তিনি।
স্বনিয়োজিত বা সোল ট্রেডার হিসেবে কর-ছাড়যোগ্য খরচ বাদ দেওয়ার আগে ১ হাজার পাউন্ডের বেশি আয় করলে সাধারণত ট্যাক্স রিটার্ন জমা দিতে হয়। ব্যবসায়িক অংশীদারত্বের সদস্যদেরও এ বাধ্যবাধকতা থাকতে পারে। এ ছাড়া সম্পদ বিক্রির কারণে ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স দিতে হলে অথবা পে অ্যাজ ইউ আর্ন (পিএওয়াইই) ব্যবস্থার বাইরে হাই ইনকাম চাইল্ড বেনিফিট চার্জ পরিশোধ করতে হলে রিটার্ন জমা দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।
বাড়ি বা অন্য সম্পত্তি ভাড়া দিয়ে আয়, টিপস ও কমিশন, সঞ্চয়ের সুদ, বিনিয়োগ থেকে লভ্যাংশ এবং বিদেশি উৎস থেকে আয় থাকলেও পরিস্থিতি অনুযায়ী ট্যাক্স রিটার্ন জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা তৈরি হতে পারে। নির্দিষ্ট অফ-পেরোল কর্মীদের ক্ষেত্রে স্টুডেন্ট বা পোস্টগ্র্যাজুয়েট ঋণ পরিশোধের বিষয়টিও রিটার্ন জমার প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে সবার ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রযোজ্য নয়; ব্যক্তির আয় ও করসংক্রান্ত পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে এ বাধ্যবাধকতা নির্ধারিত হয়।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ট্যাক্স রিটার্ন জমা না দিলে প্রথমে ১০০ পাউন্ডের নির্দিষ্ট জরিমানা আরোপ করা হতে পারে। এরপরও রিটার্ন জমা না দিলে তিন মাস পর থেকে প্রতিদিন ১০ পাউন্ড করে অতিরিক্ত জরিমানা হতে পারে, যার সর্বোচ্চ পরিমাণ ৯০০ পাউন্ড।
ছয় মাস পরও রিটার্ন জমা না দিলে বকেয়া করের ৫ শতাংশ অথবা ৩০০ পাউন্ড—যেটি বেশি—অতিরিক্ত জরিমানা হিসেবে যোগ হতে পারে। ১২ মাস পরও রিটার্ন জমা না দিলে একই হারে আরও জরিমানা আরোপ করা হতে পারে। পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কর পরিশোধ না করলে বকেয়া অর্থের ওপর সুদও ধার্য হতে পারে।
এইচএমআরসির মতে, আগেভাগে ট্যাক্স রিটার্ন জমা দিলে করদাতারা কত টাকা কর দিতে হবে, তা আগে থেকেই জানতে পারবেন। এতে অর্থের বাজেট তৈরি, সাপ্তাহিক বা মাসিক কিস্তিতে অর্থ জমাতে প্রস্তুতি নেওয়া এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কর পরিশোধ করা সহজ হবে। অতিরিক্ত কর পরিশোধ করা হয়ে থাকলে ফেরত পাওয়ার প্রক্রিয়াও দ্রুত শুরু হতে পারে।
যারা প্রথমবার সেলফ অ্যাসেসমেন্টের আওতায় আসছেন, তাদের আগে নিবন্ধন করে ইউনিক ট্যাক্সপেয়ার রেফারেন্স (ইউটিআর) নম্বর সংগ্রহ করতে হবে। এই নম্বর ট্যাক্স রিটার্ন পূরণ ও জমা দেওয়ার জন্য প্রয়োজন। যাদের আর ট্যাক্স রিটার্ন জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই, তারাও সরকারি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এইচএমআরসিকে বিষয়টি জানাতে পারবেন।
যারা আয়করসংক্রান্ত ‘মেকিং ট্যাক্স ডিজিটাল’ ব্যবস্থায় নিবন্ধিত, তাদেরও প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী সেলফ অ্যাসেসমেন্ট রিটার্ন জমা দিতে এবং বকেয়া কর পরিশোধ করতে হবে। পিএওয়াইই ব্যবস্থায় বেতন পান এমন কিছু করদাতা ২০২৬ সালের ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে অনলাইনে রিটার্ন জমা দিয়ে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে বকেয়া কর বেতন থেকে কর্তনের ব্যবস্থা করতে পারেন।
সূত্রঃ ডেইলি এক্সপ্রেস
এমকে

