ব্রিটেন ও ইসরায়েলের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি বসতিতে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর ইসরায়েল ব্রিটেনের পূর্ব জেরুজালেমের কনস্যুলেট বন্ধের হুমকি দিয়েছে। এর জবাবে ব্রিটিশ সরকার ইসরায়েল থেকে কোনো ব্রিটিশ কূটনীতিক বহিষ্কৃত হলে তার বিনিময়ে একজন ইসরায়েলি কূটনীতিককে ব্রিটেন থেকে বহিষ্কারের অবস্থান নিয়েছে বলে ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ কার্যকর হলে সর্বোচ্চ ২৭ জন ইসরায়েলিকে ব্রিটেন থেকে বহিষ্কার করা হতে পারে। তবে ব্রিটেনের পররাষ্ট্র দপ্তর এ বিষয়ে প্রকাশিত জল্পনা নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। একই সঙ্গে তারা এ সম্ভাবনাকে সরাসরি অস্বীকারও করেনি।
পশ্চিম তীরের অধিকৃত এলাকায় ইসরায়েলি বসতি থেকে পণ্য আমদানির ওপর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি এসব অবৈধ বসতি স্থাপনে সহায়তা, সমর্থন বা সুবিধা দেওয়ার অভিযোগে কয়েকটি ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ব্রিটিশ সরকার।
সংসদে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার সময় ব্রিটেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড অভিযোগ করেন, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের একটি অংশ জাতিগত উচ্ছেদে জড়িত এবং তারা ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সরকারের সমর্থন পাচ্ছে। তবে ইসরায়েল এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
ইসরায়েল পূর্ব জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধের পদক্ষেপ নিলে বিষয়টি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে গুরুতর নজির তৈরি করতে পারে বলে এক পশ্চিমা কূটনীতিক মন্তব্য করেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কূটনীতিক বলেন, জেরুজালেমে বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক মিশনের অবস্থান ও কার্যক্রমের ওপর এর বড় প্রভাব পড়তে পারে।
এদিকে ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টিও সামনে এসেছে। বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টি দেশ ও বিদেশে ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি রক্ষায় প্রায় ১০ বিলিয়ন পাউন্ড ব্যয়ে ‘ব্রিটানিয়া শিল্ড’ নামে একটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরির প্রস্তাব দিয়েছে।
কনজারভেটিভ নেতা কেমি ব্যাডেনক বলেন, ইউরোপে যুদ্ধ ফিরে এসেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন যুদ্ধের ধরন বদলে দিচ্ছে। তার দাবি, সস্তা ড্রোন ও অস্ত্র এখন শহর, সামরিক ঘাঁটি এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর জন্যও হুমকি তৈরি করতে পারে। এ পরিস্থিতিতে ব্রিটেনকে আগেভাগেই প্রস্তুত থাকতে হবে।
সূত্রঃ রয়টার্স
এমকে

